খুলনা | বুধবার | ২১ নভেম্বর ২০১৮ | ৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

করবী ফুলের থোকা থোকা লাল 

ডক্টর শাহনাজ পারভীন | প্রকাশিত ১৪ জুন, ২০১৮ ০০:২৭:০০

করবী ফুলের থোকা থোকা লাল 

স্যামন যখন ভাইভা বোর্ড থেকে বের হচ্ছিল তখন তাকে অন্যদের চেয়ে বেশ খানিক নি¯প্রভ মনে হচ্ছিল। কিন্তু ও যখন ওখানে ঢুকছিল তখন ওকে সকলের চেয়ে তরতাজা হাস্যোজ্জ্বল এবং খানিকটা চিন্তাহীন লাগছিল। 
এর আগে অন্য এ্যাপলিকেন্টরা যখন কপালের কুঞ্চিত রেখাকে জোরালো ফুটিয়ে তুলে ঘন ঘন পানি খাচ্ছিল। এলো মেলো ঘোরাফেরা বিহীন স্থির বসতেই পারছিল নাÑ ও তখন নিশ্চিন্তে ওর এক্স কলিগ ইরফানের সাথে হাসি মুখে গল্প করছিল উথাল পাথাল।  যার সাথে ওর প্রথম চাকুরিতে প্রায়ই অনেকটা পথ হেঁটে যেত। 
তখন ওর একহারা গড়ন ছিল।  স্মার্ট, সার্প ভার্সিটি থেকে বের হওয়া টগবগে গন্ধ। ওর সাথে অতটা পথ হাঁটতে ওর মোটেও খারাপ লাগতো না। কিভাবে যেন বাস থেকে নেমে রিকশার দশ মিনিটের রাস্তাটা রিকশা না পেয়ে কথায় কথায় নিমিষেই পার হয়ে যেত ওরা। যখন দু’জন সমান তালে পা ফেলে ক্যাম্পাসে ঢুকতো তখনি কলেজের টুংটাং প্রস্তুতির ঘন্টাটা বেজে উঠতো। ওরা টিচার্স রুমে আয়েশ করে বসলে পিয়ন চা ঢালতো কাপে কাপে। কিন্তু স্যামন খেয়াল করতো প্রতিদিন বয়স্ক পিয়নটা সবার আগে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপটা এগিয়ে দিত ওর দিকেই। এ নিয়ে ইরফান একদিন অনুযোগের সুরে অভিযোগ করে বসলÑ
Ñ বলো তো, কী ব্যাপার রইস মিয়া।  আমি দীর্ঘদিন খেয়াল করেছি। তুমি সব সময় প্রথমে স্যামন ম্যাডামকেই চা দাও কেন? আমরা সবাই একই সাথে থাকি কিন্তু ...
বয়স্ক পিয়ন রইসউদ্দিন যেন এ প্রশ্নটির জন্যই অনন্ত অপেক্ষা করছিল। তারপরও সামান্য ইতস্তত করে বললোÑ
Ñ আমি দেকিচি ছার, পতমে আমার মওলানা ম্যাডাম আম্মারে চা দিলি আমাগের কলেজের বরকত অয়। হের জন্যই আমি মওলানা ম্যাডামরে আগে চা দি। গই গেরামে দেহেন না, নবীন মুরগী ডিম পারলিও হুজুররে আগে পাটায় আবার গাছে ফল ধরলিও আগে মসজিদি যায়। বরকত অয় সব কাজে। আমি পরিক্কে করে দেইচি ছার ম্যাডামরে আগে চা দিলি ঐ দিন আমাগের আর চায়ের কমতি অয় না। 
রইসউদ্দিনের কথা শুনে ইরফান হা করে একবার রইসউদ্দিরনর দিকে আর একবার স্যামন ম্যাডামের দিকে তাকায়। 
Ñ আরে, তুমি মাওলানা পাইলা কই? ম্যাডাম আর আমি তো এক ভার্সিটি থেকে একই সাথে বের হলাম। একই সাথে চাকরিতে ঢুকলাম। আর তারে তুমি হুজুর বানাইয়া ফেললা? মাথায় ঘোমটা দিলেই কী কেউ হুজুর হয়ে যায়? বাঃ..হাঃ হাঃ হাঃ... ম্যাডাম আপনাদেরও সুবিধা। দাঁড়ি গোফ না থাকায় কত্তো সুবিধা! মাথায় একটু কাপড়  টেনে দিলেই হলো...ব্যস
Ñআপনাদেরও কম সুবিধা নয়। থুতনির নীচে একটু খানি দাঁড়ির রেখা আঁকলেই হলো, রাখলেই হল। ব্যস... সমস্ত দায়িত্ব শেষ। তারপর ফুলটাইম স্যুট টাই পড়ে পুরো ফুলবাবুটি। 
Ñতাই মনে হয়?
Ñতাই নয় তো কি? আমাদের মত তো নয়...
রইস এতক্ষণে সুযোগ খুঁজছিলো-
Ñনা, ছার আমি তা কইনি। আমাগের এলাকায় এক পীর সায়েবনী আছেন। নাম করা। যা কয়, তাই অয়। আমাগের ম্যাডামের মুকির দিকি তাকালি আমি হেই পীর সায়েবনীর মুকির মত টলটল পানির মত ছোত দেকতি পাই। আমার কেন জানি, ম্যাডামরে আমার পীর সায়েব মনে অয়।
 সেই ইরফান। মাঝে মাঝেই স্যামনকে পীর সাহেব বলে খ্যাপাতো, হাসাহাসি করতো। দুই কাপ চা চাইত রইসউদ্দিনের কাছে।
Ñ দাও আরও এক কাপ চা। আগে তো তোমার মাওলানা পীর সাহেব ম্যাডামরে চা দিছো, তাইলে তো আর চায়ের কমতি হবে না আজ। দাও, আমাকে আর তোমার পীর সাহেব ম্যাডামকে আরও এক কাপ চা দাও। 
 সেই স্লিম স্মার্ট ইরফান ইয়া বড় এক ভুড়ি নিয়ে হুট করে স্যামনের সামনে এসে দাঁড়ায়।
Ñ আরে, কেমন আছেন? আমি তো চিনতেই পারি নি। আগের মতই আছেন দেখছি। মাঝখানে ষোলটা বছর কোথা দিয়ে কেটে গেল বোঝায় যায় না।
স্যামন ও চিৎকার দেয়Ñ
Ñএতো বড় ভুড়ি কোথায় পাইলা প্রফেসর?  তোমাকে তো ফুল টাইম প্রফেসরই মনে হইতেছে!
Ñআর বলেন না, ভিলেন হয়ে গেলাম চেহারা সুরোতে। নায়ক আর থাকতে পারলাম কই? কিন্তু আপনি তো দেখছি একই ভূমিকায় আছেন ষোলটা বছর! বিষয়টা কী?
Ñ ঠিক আছে, ঐ ম্যাজিক আমি বলব। তার আগে চলুন কোথাও বসি। 
ওপাশে চলছে কর্তৃপক্ষের ঘন মিটিং। সব সিদ্ধান্ত নিয়েই তারা ভাইভা বোর্ডে ঢুকতে চায় যেন।  
ওরা সার্কিট হাউজের এক পাশে দুটো চেয়ার টেনে বসে। কতদিনের জমানো গল্প হুড় হুড় করে বের হয় দুজনেরই।
ক্যান্ডোরের পাতা গুনে গুনে ঠিক দুই মাস পর স্যামনের ওখান থেকে চলে আসা। জেলা শহর। ভাল চাকুরি। বাসা থেকেই রিকশায় দশ মিনিটের পথ। 
Ñবাসের ঝক্কি থেকে তো রেহাই পেয়েছিলেন। তো আবার কেন বাসের ঝক্কিতেই আসতে চান?
Ñআপনিও তো। কেন ছাড়তে চান আপনার পুরোনো প্রতিষ্ঠান? তাছাড়া, বাস জার্নি আমার চিরকালই ফেভারিট। বিশ মিনিট, চল্লিশ মিনিট নিরিবিলি মনের সাথে হিসেব কষা যায়, নিরবিচ্ছিন্ন চিন্তায় নিমগ্ন হওয়া যায়। একটা সার্কেলও তৈরি হয়ে যায়। সুনীল দা, রেখা দি, জলী ম্যাডাম, পপি সব দল বেঁধে আসতাম। মনে আছে সেই সময়কার কথা? কিন্তু রিকশার দ্রুত যাতায়াত আমাকে স্বস্তি দেয় না। তবে হ্যাঁ কখনো কখনো রিকশায় উঠবার পর আমার মনে হয় Ñ
ঠিক কবে যে রিকশায় উঠেছিলাম, মনেই পড়ে না। যেন অনন্ত কাল আমি রিকশায় যাচ্ছি চেনা পথের অচেনা যাত্রী হয়ে। তখন খুব করে প্রথম জীবনের  সেই বাস জার্নির চাকরির জন্য মন পোড়ে। তাই আমি এই বিজ্ঞাপনটা  দেখে গত পরশু শেষ দিনে হুট করে এ্যাপলিকেশন ড্রপ করতে গেলাম। আমাকে বসিয়ে রেখেই বাছাই কমিটি দশ মিনিটে আমার ইন্টারভ্যিউ কার্ড ইস্যু করে দিল। আমি তো আকাশ থেকে পড়লাম। এরা করে কী? আমি তো প্রশ্নই করে ফেললামÑ
Ñকী করে সম্ভব? এই স্বল্প সময়ে ইন্টারভ্যিউ এ্যারেঞ্জ করা!
Ñ ম্যাডাম আমরা পত্রিকার বিজ্ঞাপনের আগেই কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ডেট এনেছি। তাদের ডেট অনুযায়ী সার্কুলার এসেছে পত্রিকায়। তাছাড়া আমাদের এই প্রক্রিয়া তো দীর্ঘদিনের। 
ইরফান ওর মুখের কথা ছোঁ মেরে কেড়ে নেয় যেন।
Ñ কেন, আপনি জানেন না। এটা ছিল চতুর্থবারের সার্কুলার। আমি ড্রপ করেছিলাম প্রথম সার্কুলারেই। জানেন তো এই জটিল প্রশাসনিক পদে কেউ আসতে চায় না। তাই ওদেরকে বারবার সার্কুলার দিতে হয়েছে। 
Ñ কিন্তু আমি তো ত্রিশতম ক্যান্ডিডেট। 
Ñহ্যা এবারই সবচেয়ে বেশি দরখাস্ত জমা হয়েছে। 
Ñআপনি দেখি সব খবরই রেখেছেন।
Ñহ্যা, ঐ এলাকায়ই তো আমার বাড়ি। ঐ খানেই। বলতে গেলে আমার আঙিনায় কলেজটি গড়ে উঠেছে পারিবারিক সহায়তায়। 
Ñতাহলে তো আপনার ন্যায্যতা বেশি। 
কথাটা স্যামনের মুখ থেকে বের হলো কী হলো না ইরফানের মুখটা খুশিতে ঝলমল করে উঠলো। 
Ñ ঠিক বলেছেন। আমি গত এক বৎসর ধরে চেষ্টা করছি চাকুরিটার জন্য। আপনাকে আমি সব বলতে পারি। আপনার কাছে লুকাচুরির কিছু নেই। প্রয়োজন হলে আমি পাঁচ লক্ষ টাকা দিতেও রাজি আছি। এছাড়া তো আমাদের আর কিছু করবার নেই। আপনি আমার সবচেয়ে কাছের ছিলেন একসময়। এক সময়ই বা বলি কেন, মাঝে মাঝেই শান্ত দিঘির উপর যেমন বাতাসের হাল্কা বেগে থির থির পানি কেঁপে ওঠে আপনিও...
বলেই সে স্যামনের দিকে তাকায়।
কিন্তু স্যামনের চোখের অন্য রকম চাহুনীতে ও পুরোপুরি ধাক্কা খায় যেন। বাবারে, সেই শাসন! চোখ দিয়ে যেন আগুনের ফুলকি বের হওয়া ...কি দস্যি মেয়ে রে! একই রকম... আগের মতই... সেই ষোল বছর আগের...মনে মনে ভাবে ইরফান।
ও বোঝে না, কী করে এত সরল একটা চোখ মুহূর্তেই পাল্টে যেতে পারে। একটুও বদলায়নি ঠিক আগের মতই। ষোল বছর আগের মতই একই রকম আছে সে। ইরফান মুহূর্তেই নিজেকে গুছিয়ে নেয় যেন- 
- স্যরি, কী যে বলি না...
Ñকী ব্যাপার কবি হয়ে গেলেন যে? এত কথা কবে শিখলেন? জানি না তো...
স্যামনও কী ভাবে যেন মুহূর্তেই পাল্টে ফেলে তার চোখের রং। সহজ হতে চেষ্টা করে প্রাণপণ। জীবনে বহুবার দেখা সেই ‘নাগিনা’ ছবির স্বনামধন্য নায়িকা শ্রী দেবীর মত। মানুষ থেকে সাপ না হবার প্রাণপণ চেষ্টা! 
Ñআপনি হুট করে ওখান থেকে চলে আসবার পরই এত কথা শিখতে বাধ্য হলাম। তখন মনে মনে কত যে কথা বলতাম...একান্তে ...অজান্তে...একা একা সারাক্ষণ...সারাটা সময়... শরবিদ্ধ হরিণীর মত...কি কঠিণ সময় গেছে আমার! দিন কাটে নি, রাত কাটে নি, চাকরি করতে একসময় আর ভাল লাগতো না। কলেজে আসতে ইচ্ছে করতো না। কতটা দিন যে চা খাই নি। সেই রইচউদ্দিন! মনে আছে? ও ছিল আমার একমাত্র সঙ্গী। দুজন একসাথে কত কথা বলতাম। অথচ আমাদের ঠোঁট দিয়ে কোন কথা বের হতো না। আমরা থাকতাম সবার চেয়ে দূরে দূরে...আলাদা আলাদা... 
Ñআহা রে, বলেন নি তো কখনো...
Ñবলার সময় আর পেলাম কই? যখনি বলতে চেয়েছিলাম, বলব বলব বলে প্রতিদিন ফাইনাল প্রিপারেশন নিয়ে কলেজে আসছিলাম, তখনি তো হুট করে চলে গেলেন আপনি। আগাম কাউকে কিছু না বলেই... শেষ পর্যন্ত বলতে আর পারলাম কই?
Ñহঠাৎ করেই চাকরিটা পেয়ে গেলাম। তখন তো আর এখনের মত এ রকম ব্যবস্থা চালু হয় নি। প্রকৃত ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমেই চাকরি হতো। এত লেনদি প্রসেস, এত কথা, এত বসা, এত দেখাদেখির বিষয় ছিল না তখন। 
Ñ আমাদের ঐ চাকরিটাও তো ওরকম ম্যাজিকের মত ছিল। মনে আছে? আমি আপনার বিভাগের রেজাল্ট আনতে গেলে পিয়ন কেমন আমার উপর ধমকে উঠেছিলÑ
Ñআপনাদের কারো হয় নি। চাকরি হইছে শহর থেকে আসা এক ম্যাডামের। কী নাম যেন সামন না সালমন কী  যেন.. আপনার নাম উচ্চারণ করতে যেয়ে ওর ঘাম ঝরছিল দরদর। আপনার নাম তো সে উচ্চারণই করতে পারছিল না। পরীক্ষা দিয়ে গেলেন অথচ রেজাল্টটাও জানতে আসার প্রয়োজন মনে করেন নি।     
Ñনা, না, ব্যাপারটা আসলে ঐ রকম কিছু নয়। আমিও ভাবছিলাম। কিন্তু তার আগেই আপনি আগ বাড়িয়ে...
Ñকী বললেন? আগ বাড়িয়ে, আমি জানি তো ঐরকমই হয় 
Ñএই  আগ বাড়ানোর কথা শুনেই এত চোট কিন্তু...
Ñ কী ব্যাপার আপনি উল্টো রাগ করছেন কেন?  জানেন, আপনি সেই একই রকম আগের মতই আছেন। বাবারে শাসন কাহাকে বলে?
Ñ ষোল বছর কেন, যদি সত্তর বছর পরও দেখা হয় কখনো তো আপনি আমাকে এ রকমই বলবেন। এ রকমই শাসন করবেন।
Ñআর আপনি? আপনিও সত্তর বছর পরও ঠিক এ রকমই থাকবেন... বলেই দু’জন হো হো করে বাতাশ কাঁপিয়ে হেসে ওঠে।
 এরই মধ্যে ডাক পড়ে ইরফানের। ইরফান যেন ইচ্ছে করেই স্যামনের কাছ থেকে দোয়া নিয়ে ভাইভা বোর্ডে ঢোকে। হাসি হাসি ভাবখানা ঠিকই চিতিয়ে রাখে মুখের ওপর।
দু এক মিনিটের ব্যবধানে যখন ও ভাইভা বোর্ড থেকে বের হয় তখন স্যামন খুব করে ওর মুখ পড়বার চেষ্টা করে। স্যামনের এই একটা বিশেষ গুন তিনি বই পড়ার চেয়ে মানুষের মুখ পড়তে বেশি গুরুত্ব দেন।  কেন যেন স্যামনের মনে হলো ইরফানের সেই চেহারাটা পাল্টে গেছে। যে চেহারায় সে ঢুকেছিল ভাইভা বোর্ডের দরজার ভেতর দিয়ে। ও এসে আর আগের মত স্থির হতে পারে না। একবার এখানে ওখানে স্যামনের সামনে পেছনে দাঁড়ায়। কে যেন ওকে তাড়া করে ফেরে। স্যামনের সাহস হয় না ওকে জিজ্ঞেস করেÑ
Ñকী এমন ঘটল যে আপনাকে এমন তড়পড়াতে হচ্ছে। 
ইরফান হঠাৎই চমকে দিয়ে স্যামনের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করেÑ
Ñ  ওটা কী গাছ? এত সুন্দর থরে থরে ফুল ফুটে আছে আমি তো এতক্ষণ দেখি নি।
Ñওগুলো করবী ফুল। থোকায় থোকায় করবী ফুল। কী হয়েছে আপনার? এমন করছেন কেন? 
নীচু গলায় জিজ্ঞেস করে স্যামন। 
Ñআমার চাকুরিটা বোধ হয় হবে না ম্যাডাম। ওদের আগে থেকেই সব ঠিক করা। শুধুমাত্র...
Ñনা হলে না হবে, তাতে কী হয়েছে? আপনার তো একটা সুন্দর চাকরি আছেই। 
Ñতা তো আছে। সবারই আছে। তারপরও মানুষ...
এরই মধ্যে ডাক পড়ে স্যামনের
স্যামনও এগিয়ে যায় অনেক স্বপ্নের অনেক আকাক্সক্ষার অন্ধকার দরজা দিয়ে। 
কয়েক মিনিটের ব্যবধানে যখন ও বের হয় তখন ইরফানের মুখের ঐ ছাপটাই হয়ত স্যামনের মুখে পড়ে। ইরফান বোধ হয় এক ঝলকেই বুঝে যায় ইরফানের মত তারও কোন এক্সট্রা আইডেনটিটি নেই। শুধু মাত্র শিক্ষক ছাড়া?
মিইয়ে পড়া ইরফান হঠাৎই অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলে ওঠেÑ
Ñ চলুন ম্যাডাম, আমরা এক সঙ্গে বসে চা খাব কয়েক কাপ। সেই ষোল বছর আগের মত এক কাপ, দুই কাপ, তিন কাপ, অ-নে-ক কাপ। 
স্যামন মুখে কিছুই বলে না। শুধু সামনের দিকে পা বাড়িয়ে তাল রাখে ইরফানের সাথে। 
ওরা দুজন খুব নিস্পৃহভাবে যখন যশোর সার্কিট হাউজের চওড়া রাস্তা দিয়ে মৃদু পায়ে হেঁটে বের হচ্ছিল করবী ফুলের থোকা থোকা রক্ত লাল পাপড়ি শাখা নেড়ে ওদেরকে বিদায় জানাচ্ছিল নাকি স্বাগত জানাচ্ছিল সেদিকে ওদের আর কোন ভ্রুক্ষেপ ছিল না। আবার ষোল বছরের আগের মত ওরা থিতু হতেও পারছিল না। পশ্চিম দিগন্তের সমস্ত লাল ওদেরকে ছেয়ে ফেলে মায়াময়। 
 লেখক: কবি, গবেষক, কথাসাহিত্যিক, উপাধ্যক্ষ, উপশহর মহিলা ডিগ্রি কলেজ, যশোর  


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

বদলে যাবে মংলা বন্দর

বদলে যাবে মংলা বন্দর

০৩ জুলাই, ২০১৮ ০২:০১













ব্রেকিং নিউজ






পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:২৩


নগরীতে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

নগরীতে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:২০