খুলনা | বুধবার | ১৮ জুলাই ২০১৮ | ৩ শ্রাবণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

রূপসার আঠারোবেকী নদীর দু’পাশে বনায়নের মধ্যে দিয়ে হতে পারে আকর্ষনীয় পিকনিক স্পট

কৃষ্ণ গোপাল সেন, রূপসা | প্রকাশিত ১৪ জুন, ২০১৮ ০০:২৩:০০

রূপসার আঠারোবেকী নদীর দু’পাশে বনায়নের মধ্যে দিয়ে হতে পারে আকর্ষনীয় পিকনিক স্পট

রূপসা উপজেলার বুক চিরে প্রবাহিত হওয়া মৃত প্রায় আঠারোবাকী নদী খনন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে দু’কূলের সাধারণ মানুষের মাঝে। তবে নদী তীরের খাস জমি দখল করার জন্য ওঁৎ পেতে রয়েছে প্রভাবশালী কিছু অবৈধ দখলদারেরা। এদিকে খনন কাজের মাটি সঠিকভাবে ব্যবহার না করে এক একস্থানে স্তুপ করে রাখার পাশাপাশি ঠিকাদাররা তা বিক্রি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব মাটি নদীর দু’পাড়ে সমান ভাবে ফেললে নির্মিত হতে পারে সাধারণ মানুষের চলাচলের রাস্তা। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদী রক্ষাসহ পরিবেশ রক্ষায় সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় গাছ লাগালে তৈরি হতে পারে শীতল মনোরম পরিবেশসহ চিত্ত বিনোদনের জন্য অপরুপ ইকোপার্ক। এমন দাবি তুলেছেন সূধীজনসহ স্থানীয়রা। এতে নদী রক্ষার পাশাপাশি অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে রক্ষা পাবে দু’কূলের সরকারি খাস সম্পত্তি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভৈরব ও আঠারোবাকী নদীর মিলনস্থল রূপসা উপজেলার আলাইপুর থেকে মধুমতি নদীর সংযোগস্থল মুলশ্রী পর্যন্ত ৫৭ কিলোমিটার খরস্র্রোতা এ নদীতে চর পড়ে একেবারে মারা গিয়েছিলো। অনেকে নদীর বুকে বসতি নির্মাণসহ চাষাবাদ করে আসছিলো। নদী মারা যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন হতে না পেরে এর পাশর্^বর্তী বৃহৎ এলাকাসমূহ বর্ষা মৌসুমের ৩/৪ মাস জলাবদ্ধ থাকতো। বিশেষ করে বাড়ি-ঘর, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, মন্দির, মাছের ঘের, পান বরজসহ আবাদী কৃষি জমি থাকতো পানির নিচে। এ অবস্থা থেকে সাধারণ মানুষদের রক্ষা করার মানষে প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনায় পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী খনন কর্মসূচি হাতে নেয়। নদীর সীমানা অনুযায়ী ৯৫ ফুট থেকে ১৬০ ফুট চওড়া ও একশ ৫০ ফুট গভীর করে খননের জন্য বরাদ্ধ দেয়া হয় একশ ২৫ কেটি টাকা। যা পর্যবেক্ষণ ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয় সেনাবাহিনীকে। গত বছরের ২৩ জানুয়ারী শুরু হওয়া এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০১৮ সালের ৩০ জুন। ইতোমধ্যে এস্কেবেটর মেশিনের সাহায্যে মূল নদী খনন শেষে বর্তমানে ড্রেজারের মাধ্যমে তলদেশ কাটা হচ্ছে। এদিকে এস্কেবেটর মেশিন ও ড্রেজার ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর রয়েছে নানা অভিযোগ।
এ প্রসঙ্গে উপজেলার ডোবা গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্রনাথ বিশ^াস বলেন, নদী মরে যাওয়ার ফলে অনেক অবৈধ দখলদাররা সরকারি খাস জমি দখল করে নেয়। নদী খনন প্রক্রিয়ার শুরুতে এসব দখলদারদের উচ্ছেদ করা হলেও এরা আবারো ওই খাস জমি দখল করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে নদীর দু’পাড়ে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় বৃক্ষরোপনসহ একটা পার্ক নির্মাণ করা হলে সরকারি এসব সম্পত্তি অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে রক্ষা পাবে। মানুষ কিছুটা হলেও নির্মল বাতাস উপভোগ করতে পারবে। তিনি বলেন নদী খননের পাশাপাশি এর সাথে সংযুক্ত ছোট ছোট খালগুলোও অবমুক্ত করতে হবে। পাশাপশি সরকারি জমি আইনী প্রক্রিয়ায় কাগজ-পত্র তৈরিতে সহায়তাকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে বলে তিনি দাবি করেন।
আনন্দনগর গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মোল্লা তাহিদুল ইসলাম বলেন, খনন কাজে নিয়োজিতরা নদীর মাটি ও বালু সঠিকভাবে ব্যবহার না করে বিভিন্নস্থানে স্তুপ করে রাখাসহ বিভিন্ন লোকের কাছে বিক্রি করছে। এসব মাটি নদীর দু’পাড়ে রাস্তার আদলে সমান করে ফেলে দিলে সাধারণ মানুষ স্বাচ্ছন্দে চলাফেরা করতে পারতো। পাশাপাশি নদী থেকে ৫শ’ ফুট দূরে অবস্থিত আনন্দনগর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ দীর্ঘদিন জলাবদ্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। এখানকার মাটি বা বালু ওই বিদ্যালয় দিলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হতো। ফিরে পেতো বিদ্যালয়টি ক্রীড়া বিনোদনের স্থান।
সামন্তসেনা এলাকার বাসিন্দা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খান বজলুর রহমান বলেন, নদী মাতৃক বাংলাদেশে এ সকল জলাধারকে স্তব্দ করে দেয়া ঠিক হবে না। নদীর প্রবাহমান জলধারায় জলাশয়ের জীব বৈচিত্র্যকে যেমন উজ্জীবিত করে ঠিক তেমনি এর দু’পাড়ে বৃক্ষ রোপনের মাধ্যমে সবুজ বনায়ন ও পার্ক নির্মিত হলে নির্মল পরিবেশে মানুষ উজ্জীবিত হবে। তিনি বলেন রেকর্ড অনুযায়ী নদী খননের পর আলাইপুর থেকে নন্দনপুর পর্যন্ত (৫ কিলোমিটার) নদীর দু’পাড়ে এক হাজার ফুট খাস জমি থাকছে। যেখানে একটি সুন্দর ইকো পার্ক নির্মাণ করা যেতে পারে। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, নদী খননের মাটি বা বালু বিক্রি করার কোন সুযোগ নেই। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট, কারো একান্ত প্রয়োজনে বা কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিনা অর্থে এসব মাটি ও বালু নিতে পারবে। যারা টাকার বিনিময়ে বিক্রি করছে তাদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এমনকি এর আগে এ অভিযোগে ৭ জনকে কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি বলেন এস্কেবেটর মেশিনের সাহায্যে মাটি কাটা শেষে ড্রেজারের সাহায্যে তলদেশ কাটার মাটি ও বালু দু’কূলে রাস্তার আদলে ফেলা হবে। যা পরিকল্পনাধীন রয়েছে। এছাড়া আলাইপুর থেকে মধুমতি নদীর দু’কূলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ঠিক রাখার জন্য অবৈধ দখলদার এমনকি ডিসিআরসহ সকল বন্দোবস্ত বাতিল এর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং সামাাজিক বনায়নের মাধ্যমে বৃক্ষ রোপন করে মনোরম পরিবেশ তৈরী করার জন্য খুলনা, বাগেরহাট ও নড়াইল বন কর্মকর্তা বরাবরে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।
রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইলিয়াছুর রহমান বলেন, আমি নিজেই আঠারোবাকীর খনন প্রকল্প এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখেছি। খননকৃত নদীপথের দু’পাড়ে সরকারের যথেষ্ট খাস জমি বিদ্ধমান রয়েছে। সে ক্ষেত্রে নদী সুরক্ষায় সুচিন্তিত ভাবনার মধ্য দিয়ে পরিকল্পিতভাবে ভেড়ীবাঁধ দিয়ে তার উপর রাস্তা নির্মাণ করা সম্ভব। তাছাড়া ভেড়ীবাঁধের পাশ দিয়ে মাটি সুরক্ষাকল্পে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ রোপনের মাধ্যমে চিত্ত বিনোদনের জন্য নির্মল পরিবেশের সৃষ্টি করা যেতে পারে। এমনকি পরিবেশ ও প্রকৃতির সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যটকদেরও আকৃষ্ট করা সম্ভব হতে পারে। এ ব্যাপারে তিনি যথাযথ সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে তিনি জানান। তবে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় সূধীজনসহ সমাজের বিত্তবানদের এ কাজে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

বদলে যাবে মংলা বন্দর

বদলে যাবে মংলা বন্দর

০৩ জুলাই, ২০১৮ ০২:০১













ব্রেকিং নিউজ











জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ  আজ শুরু

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ  আজ শুরু

১৮ জুলাই, ২০১৮ ০০:৫৬