খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৬ অগাস্ট ২০১৮ | ১ ভাদ্র ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

ফকিরহাটে ভিজিএফ’র কার্ড বন্টণে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

সৈয়দ আলী/মোঃ আরিফ ঢালী, ফকিরহাট | প্রকাশিত ১৪ জুন, ২০১৮ ০০:১০:০০

ফকিরহাটে ভিজিএফ’র কার্ড বন্টণে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

ফকিরহাটে ভিজিএফ কার্ড পাচ্ছে কারা, এমন প্রশ্ন এখন সাচেতন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। কেননা আসন্ন ঈদ উপলক্ষে ফকিরহাটে যে পরিমান ভিজিএফ কার্ড বরাদ্ধ রয়েছে, তা যদি সঠিকভাবে বন্টন করা হয় তাহলে ইউনিয়নের ধনীলোক সহ কোন লোক বাদ যাবার কথা নয়। ইউনিয়নের শুধুমাত্র দুস্থ লোকেরাই ভিজিএফ কার্ডগুলি পেয়ে থাকে। আসন্ন ঈদে ফকিরহাটে ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ হয়েছে ২৯২৪৫টি। খাদ্য সহায়তা কর্মসূচী ভিজিডি ও ফেয়ার প্রাইজ কার্ডধারীরা অন্য কোন খাদ্য সহায়তা না পাওয়ার কথা থাকায় প্রতি ইউনিয়নের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই ভিজিএফ কার্ড পাচ্ছে না। ফলে ইউনিয়নে অবশিষ্ট যে সব খানা বা পরিবার রয়েছে কার্ডের সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি। হিসাব মতে প্রতি পরিবারকে একটি করে কার্ড দেয়ার পরও কোন কোন ইউনিয়নে আরও কার্ড থেকে যাবে। ইউনিয়নের প্রায় অর্ধেক লোক এই সব কার্ড ছুয়েও দেখে না। তাহলে প্রকৃত দুস্থদের মাঝে একটি করে কার্ড দিলেও অর্ধেক বা একটি বড় অংশ থেকে যাবে। আবার যাদের নামে কার্ড বরাদ্দ করা হয়েছে, এদের মধ্যে কেউ কেউ চাল নিচ্ছে না। তাহলে এই অবশিষ্ট কার্ড যাচ্ছে কোখায়, কারা নিচ্ছে এই ভিজিএফ কার্ডের চাল? অভিযোগ রয়েছে, বন্টনের পর অবশিষ্ট চাল জনপ্রতিনিধিরা গোপনে বিক্রি করে দেন। আবার কোন কোন প্রতিনিধি একেক জনকে ২/৩টি কার্ডের চাল দিয়ে অন্য সুবিধা গ্রহণ করে থাকেন। এই কার্ড বন্টনের তালিকা প্রনয়নে একটি কমিটি থাকলেও এই কমিটিকে উপেক্ষা করে জনপ্রতিনিধিরা ইচ্ছামতো তালিকা তৈরি করে আসছেন।
পিলজংগ ইউনিয়নে জোৎস্না বেগম নামে একজন কার্ডধারী জানান, তাকে  চাল না দিয়ে বের করে দেয়া হয়েছে। আবার টাকার বিনিময়ে একেক জনকে ৩টি কার্ডের চাল দেয়া হয়েছে। আকরাম কাজী নামের স্থানীয় এক আওয়ামী নেতা জানান, ইউপি সদস্য আঃ খালেক একজনকে এক বস্তা চাল দেবার সময় তিনি বাধা দেন। ইউপি সচিব শরিফ উদ্দিন পলাশ জানান, জনপ্রতিনিধিরা এসব কার্ড বরাদ্দ দেন। ইউপি সদস্য আঃ খালেকের এক বস্তা চাল বিতরণের সময় তিনি সেখানে না থাকায় বিষয়টি তিনি জানেন না। অতিরিক্ত কার্ড বাবা ও ছেলেকে দেখিয়ে বন্টন করে দেয়া হচ্ছে। ইউপি চেয়ারম্যান খান শামীম উজ্জামান পলাশ এ বিষয়ে জানান, ইউপি মেম্বর আঃ খালেক একজনকে ৩টি কার্ড দেবার বিষয়টি তিনি জানেন। জোৎস্না বেগমকে বের করার বিষয়টি তিনি জানেন না। তবে এ রকম ঘটনা ঘটলে তার কাছে অভিযোগ করবেন তো। একটি পরিবারকে ২/৩টি কার্ড প্রদান করা প্রসংগে তিনি জানান, উপজেলার তালিকাটি অনেক পুরাতন। এখন তার ইউনিয়নে খানার সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে এবং একটি পরিবার ভেঙে এখন  ৩/৪টি পরিবার হয়েছে।
শুভদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সহিদুল ইসলাম জানান, তার ইউনিয়নে খানার সংখ্যা ৪৩২৪। দোকান বাদ দিলে এই খানার সংখ্যা আরও ২০০/১০০ কমে যাবে। ভিজিডি ও ফেয়ার প্রাইজ ধারী প্রায় ১৪শ’। ভিজিএফ কার্ড ৩১শ’। এই কার্ড কাদের দিচ্ছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, কার্ড দেয়ার মতো এতো লোক নেই। তারপরও সবার মাঝে ভাগ করে দিচ্ছি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইউপি চেয়ারম্যান জানান, এতো সতো নিয়ম মেনে এসব করা হয়ে ওঠে না। কার্ড ফেরত দিয়ে লাভ কি? তার চেয়ে বাবা ও ছেলেকে দেখিয়ে ২/৩টি কার্ডের চাল দেয়া হচ্ছে।
বেতাগা ইউপি চেয়ারম্যান স্বপন দাশ জানান, তিনি ২৮৫০টি ভিজিএফ কার্ড পেয়েছেন। ভিজিএফ ও ফেয়ার প্রাইজধারীদের বাদ দিলে যে কার্ড থাকে তাতে চেয়ারম্যান, মেম্বার,  ধনী পরিবার সহ প্রত্যেক পরিবারকে দেবার পরও আরো থাকে যাবে। এই কার্ডগুলি দুস্থ লোকেরা পাবে। স্বচ্ছল পরিবার এ গুলি গ্রহণ করতে চায় না। এমনকি তালিকাভুক্ত লোকও লোক লজ্জার ভয়ে চাল নিতে আসে না। ফলে অনেক চাল থাকে যায়। তিনি ১০০২টি কার্ড রেখে ১৮৪৮টি কার্ড ফেরত দিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা পাল জানান,  চেয়ারম্যান-মেম্বারদের স্বচ্ছতার সাথে বন্টনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ভিজিএফ কার্ড বিতরণের অনিয়মের প্রসংগে তিনি বলেন, এক সাথে সব ইউনিয়নে চাল বিতরণ চলছে। তাই সব দিক খেয়াল দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ












হারে শেষ প্রোটিয়াদের লঙ্কা সফর

হারে শেষ প্রোটিয়াদের লঙ্কা সফর

১৬ অগাস্ট, ২০১৮ ০০:৫৭