খুলনা | শুক্রবার | ১৭ অগাস্ট ২০১৮ | ২ ভাদ্র ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ খুলনা জেলা দায়রা জজ জেসমিন আনোয়ারকে প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ১৩ জুন, ২০১৮ ০০:৫৯:০০

দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ খুলনা জেলা দায়রা জজ জেসমিন আনোয়ারকে প্রত্যাহার

আদালতের বিচারিক কাজে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে খুলনার জেলা ও দায়রার জজ (সিনিয়র জেলা জজ) বেগম জেসমিন আনোয়ারকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপ-সচিব (প্রশাসন-১) মোঃ মাহবুবার রহমান সরকার স্বাক্ষরিত (৪১৩-/১(১৩)-বিচার-৩/১টি-০১/২০১৭) স্মারকে এক পত্রে গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশে হয়েছে। 
আদেশে বলা হয়, ১২ জুন জেলা জজ জেসমিন আনোয়ার খুলনার জেলা জজের বর্তমান পদের দায়িত্বভার ছেড়ে দিয়ে পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করে অবিলম্বে বদলীকৃত কর্মস্থলে যোগদান করবেন। 
খুলনার আদালতের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে গত ২৫ এপ্রিল একজন মন্ত্রী, দুই এমপি, কেসিসি’র নব-নির্বাচিত মেয়র এবং জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত একটি পত্র আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। ওই পত্রে খুলনা জেলা ও দায়রা জজ (সিনিয়র জেলা জজ) বেগম জেসমিন আনোয়ার-এর বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনিয়ম ও অবিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগের কারনে খুলনা থেকে প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়। 
সুপারিশকারীরা হলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, খুলনা মহানগর আ’লীগের সভাপতি ও সদ্য নির্বাচিত কেসিসি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, জেলা আ’লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশিদ, জেলা সাধারণ সম্পাদক এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা এমপি, মহানগর সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান এমপি। 
সুপারিশকৃত অভিযোগের কপি থেকে জানা গেছে, খুলনা জেলা ও দায়রা জজ (সিনিয়র জেলা জজ) বেগম জেসমিন আনোয়ার তার জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি বাসভবনে থেকেও তা গোপন করেছেন। সরকারি বাসাটি বসবাসের অনুপোযোগী বিধায় তিনি থাকেন না এ ধরনের তথ্য দিয়ে ভাড়া বাসার নামে ৭ লাখ ২০ হাজার সরকারি টাকা আত্মসাত করেছেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন সময় খুলনার চিহ্নিত মাদক সম্রাটদের তিনি জামিন দিয়েছেন। চলতি বছরে মন্ত্রণালয় থেকে এক আদেশে খুলনার জেলা জজ বেগম জেসমিন আনোয়ারকে টট্টগ্রামের লেবারকোর্টে বদলি করা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। বরং অপর একটি আদেশে তাকে স্ব-কর্মস্থলে রাখা হয়। 
খুলনার জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন আনোয়ারকে প্রত্যাহার করা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারী দিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পত্র প্রেরণ করেছিলেন বার কাউন্সিল, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক ও বর্তমান একাধিক নেতৃবৃন্দ। 
আইনজীবীদের ওই অভিযোগে বলা হয়, খুলনা জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন আনোয়ারকে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবিচারিক কার্যকলাপের জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং চট্টগ্রামের লেবার কোর্টে বদলী করা হয়। কিন্তু তিনি নানাভাবে তদ্বিরের মাধ্যমে খুলনায় কর্তব্যরত রয়েছেন। তিনি খুলনার কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীদের জামিন দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন ও সরকারি বাসায় থেকেও ভাড়া বাসার নামে সরকারের ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাত করেছেন। 
জেলা ও দায়রা জজ’র বিরুদ্ধে অভিযোগকারী আইনজীবীরা হলেন জেলা বারের সাবেক সভাপতি ও বার কাউন্সিলের সাবেক সদস্য এড. এম এম মুজিবুর রহমান, এড. রজব আলী সরদার, জেলা বারের সাবেক সভাপতি এড. গাজী আব্দুল বারী, জেলা বারের সাবেক সভাপতি এড. গোলাম মোস্তফা ফারাজী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এড. মিনা মিজানুর রহমান, সাবেক সভাপতি শেখ মাসুদ হোসেন রনি, সাবেক সভাপতি এড. আব্দুল মালেক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এড. নুরুল হাসান রুবা, সাবেক সভাপতি এড. এস আর ফারুক, সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম মহসীন, সাবেক সভাপতি এড. ইউনুস আহমেদ, সাবেক সভাপতি শেখ সোহরাব হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মোহাম্মদ মাসুম রশীদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এড. শেখ আয়ুব আলী, এড. সুজিত অধিকারী, এড. সুলতানা রহমানসহ আরও বেশ কিছু আইনজীবী।  
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ











ফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা

ফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা

১৭ অগাস্ট, ২০১৮ ০১:০২