খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৮ অক্টোবর ২০১৮ | ২ কার্তিক ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

শত্র“তা ভুলে বন্ধুত্বের করমর্দন : যৌথ চুক্তিপত্রে সই 

নিরাপত্তার বিনিময়ে পরমাণু অস্ত্র ত্যাগ করবেন কিম :  ট্রাম্প

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ১৩ জুন, ২০১৮ ০০:৫২:০০

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরে ঐতিহাসিক বৈঠক করেছেন। এ সময় তাঁরা হাসিমুখে করমর্দন করেছেন। তাঁদের এই বৈঠক বিশ্বের জন্য শান্তির বার্তা বয়ে আনতে পারে। দুই নেতার আলোচিত বৈঠকের নানা মুহূর্ত ধরা পড়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ক্যামেরায়।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং-উন একটি যৌথ চুক্তিপত্রে সই করছেন। একে গুরুত্বপূর্ণ নথি বলা হলেও তাতে কী আছে, এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। সিঙ্গাপুরের সেন্তোসা দ্বীপের ক্যাপেলা হোটেলে ট্রাম্প ও কিমের একান্ত বৈঠক ও পরে দুই পক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গুরুত্বপূর্ণ নথিতে সই করার ঘোষণা এল। একান্ত বৈঠক শেষে দু’জনকে হাসিমুখেই বের হতে দেখা যায়। তাই ঘটনাটিকে শান্তির পথে ইতিবাচক সূচনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং আনের সাথে এক ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠক এবং চুক্তি স্বাক্ষরের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তাদের মধ্যে ‘দারুণ ভালো’ আলোচনা হয়েছে।
মি. ট্রাম্প বলেন, উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তার গ্যারান্টির বিনিময়ে কিম জং আন পরমাণু অস্ত্র ত্যাগ করার অঙ্গীকার করেছেন।
দুই নেতার স্বাক্ষরিত দলিলে মি. কিম কোরিয়া উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্র মুক্ত করার প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন। তবে এর পর এক নজিরবিহীন সংবাদ সম্মেলনে মি. ট্রাম্প এমন কিছু খুঁটিনাটি প্রকাশ করেন-কাগজপত্রে যার উল্লেখ নেই।
সিঙ্গাপুরে ঐতিহাসিক একান্ত বৈঠকের পর মি. ট্রাম্প বলেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা ‘একটি বড় ক্ষেপণাস্ত্র ইঞ্জিন পরীক্ষা ক্ষেত্র' ধ্বংস করতে রাজি হয়েছেন, এবং এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়াকে লক্ষ্য করে সামরিক মহড়া চালানো বন্ধ করবে। তিনি এসব যুদ্ধের মহড়াকে ‘ব্যয়বহুল এবং উস্কানিমূলক’ বলেও বর্ণনা করেন।
কেউ কেউ অবশ্য এই মহড়া বন্ধের অঙ্গীকারকে ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড় দিয়েছে’ বলে চিত্রিত করতে চাইছেন। তবে এই প্রথম ক্ষমতাসীন অবস্থায় কোন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং উত্তর কোরিয়ার নেতার বৈঠক হলো-যারা কিছুকাল আগেও পরস্পরের উদ্দেশ্যে অপমানকর ব্যঙ্গবিদ্রুপ ছুঁড়ে দিচ্ছিলেন।
শীর্ষ বৈঠকের মূল বিষয় ছিল : পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ এবং উত্তেজনা হ্রাস। স্বাক্ষরিত চুক্তিতে বলা হয়-দুই দেশ নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য সহযোগিতা করবে, এবং যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়াকে নিরাপত্তার গ্যারান্টি দেবে।
মি. কিম কোরিয়ান উপদ্বীপকে সম্পূর্ণ রূপে পরমাণু অস্ত্র মুক্ত করার জন্য তার অবিচল এবং দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। কিভাবে এটা করা হবে তা স্পষ্ট করা হয়নি বলে কোন কোন বিশ্লেষক মতামত দিয়েছেন।
তাদের কথা : মাত্র দেড় পৃষ্ঠার এই দলিলটি অস্পষ্ট এবং 'এর ভেতরে কিছু নেই।'
এই বৈঠকের পর দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে, এর মধ্যে দিয়ে শীতল যুদ্ধের যুগের শেষ সংঘাতের অবসান হলো। একে আরো স্বাগত জানিয়েছেন রাশিয়া এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও । 
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, এখন উত্তর কোরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞাগুলো শিথিল করা যেতে পারে। তবে ইরান বলেছে, এমনও হতে পারে যে মি. ট্রাম্প দেশে ফিরে যাবার আগেই এ চুক্তি বাতিল করে দিতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, নথিতে সইয়ের অর্থ দাঁড়ায় আলোচনার অগ্রগতি হয়েছে এবং এর গতি বজায় থাকবে।
সিঙ্গাপুরের দ্য স্ট্রেইট টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সকাল ১০টার কিছু আগে দুই নেতা সিঙ্গাপুরের সেন্তোসা দ্বীপের ক্যাপেলা হোটেলের বারান্দায় হাসিমুখে দেখা দেন। উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন তাঁরা।
গতকাল মঙ্গলবার দিনের শুরুতে অবশ্য দুই নেতার মধ্যে কোনো চুক্তির আগাম তথ্য ছিল না। স্থানীয় সময় সাড়ে বেলা ১১টায় দুপুরের খাবারের পর দীর্ঘ সময় কোনো কাজ রাখা হয়নি।
বিরতির সময় কিমের সঙ্গে হোটেলের আঙিনায় কিছুক্ষণ হাঁটেন ট্রাম্প। এরপর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, দুপুরের পর একটি নথি সই হতে পারে।
স্বাক্ষরিত ডকুমেন্টে কি আছে : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন স্বাক্ষরিত ‘কমপ্রিহেনসিভ’ ডকুমেন্টে কোরিয়া উপদ্বীপ অঞ্চলকে পুরোপুরি পারমাণবিক অস্ত্রমুস্ত করার কথা বলা হয়েছে। দু’নেতা এ লক্ষে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন। ওই ডকুমেন্টে বলা হয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে একটি নতুন সম্পর্ক গড়তে কাজ করে যাবেন। 
স্বাক্ষরিত ডকুমেন্টে বলা হয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও চেয়ারম্যান কিম জং উন ব্যাপক, ইনডেপথ ও আন্তরিক মতবিনিময় করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে একটি নতুন সম্পর্ক গড়ার জন্য। পাশাপাশি কোরিয়া উপদ্বীপ অঞ্চলে একটি টেকসই ও শান্তিপূর্ণ এলাকা গড়ে তোলার জন্য কাজ করবেন তারা। এক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়াকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তার প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
তাকে এ বিষয়ে নতুন করে প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন চেয়ারম্যান কিম জং উন। একই সঙ্গে কোরিয়ান উপদ্বীপ অঞ্চলকে পুরোপুরি পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার দৃঢ় প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন তিনি।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

সক্ষমতা সূচকে পেছালো বাংলাদেশ

সক্ষমতা সূচকে পেছালো বাংলাদেশ

১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ১৩:৪৪













ব্রেকিং নিউজ

নগরীতে ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণহীন 

নগরীতে ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণহীন 

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০৫

ইসিতে মতবিরোধ স্পষ্ট

ইসিতে মতবিরোধ স্পষ্ট

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০৬

ক্রিমিয়ার কলেজে হামলায় নিহত ১৮

ক্রিমিয়ার কলেজে হামলায় নিহত ১৮

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০৪



শেখ রাসেলের ৫৪তম জন্মদিন আজ

শেখ রাসেলের ৫৪তম জন্মদিন আজ

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০৩