খুলনা | সোমবার | ২০ অগাস্ট ২০১৮ | ৫ ভাদ্র ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে মংলা বন্দরকে ঘিরে সরকারের মহা-পরিকল্পনা

মাহমুদ হাসান, মংলা  | প্রকাশিত ১৩ জুন, ২০১৮ ০০:৩৮:০০

দেশের বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর মংলাকে এক সময় বলা হতো নিঝুমপুরী বা মৃত বন্দর। আর সেই মৃত বন্দরের নীরবতার অবসান ঘটিয়ে ধীরে ধীরে আধুনিকায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক এ বন্দর । মংলা থেকে ঢাকা পর্যন্ত উন্নত সড়ক ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও শুধু মাওয়ায় অনিয়মিত ফেরিপারাপার ব্যবস্থার কারনে মংলা বন্দর রাজধানী ঢাকা থেকে অনেক দূরে রয়ে গেছে। যে কারনে দেশের বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, গাজীপুরের শিল্প ও বাণিজ্য সেক্টর তথা ট্রেডগুলো মংলা বন্দরের উপর নির্ভর করতে পারেনি। তারা সব সময়ই চট্টগ্রাম বন্দরকে প্রাধান্য দিয়ে আসছে। পদ্মা সেতু আর রেল লাইনের কাজ শেষ হলেই ঘুরে যাবে দক্ষিণাঞ্চলবাসীর বহু কাঙ্খিত মংলা সমুদ্র বন্দরের ভাগ্য চাকা। গত ১২ বছরে মংলা বন্দর অনেক সামনে এগিয়ে গেছে। আর ২০২১ সালের মধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হবে এ বন্দর। 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মংলা বন্দরকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ যে স্বপ্ন দীর্ঘদিন ধরে দেখে আসছে সেই স্বপ্ন এবার বাস্তবে রুপ নিতে যাচ্ছে। সরকারের ভিশন-২০২১ সামনে রেখে মংলা বন্দরের উন্নয়নে চীন সরকারের সাথে ৩ হাজার কোটি টাকার একটি বৃহৎ প্রকল্প স্বাক্ষরিত হয়েছে গত বছরের ১৪ অক্টোবর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের উপস্থিতিতে এ সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়াও ইতোমধ্যে ভারত সরকার ৬ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা সহায়তা করছে।  
চিনের সাথে চুক্তি অনুযায়ী এ প্রকল্পে নতুন চারটি জেটি ও দু’টি ইয়ার্ড নির্মাণ, বহুতল বিশিষ্ট গাড়ি রাখার মাল্টিস্টোরেজ কার পার্ক নির্মাণ, ১১টি সার্ভে ও টাগবোর্ড ক্রয়, কার্গো ও কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের জন্য অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা, চার লেনের সড়ক উন্নয়নসহ আটটি কম্পোনেন্ট রয়েছে। মংলা বন্দরকে প্রথম শ্রেণীর সমুদ্র বন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে যে পরিমাণ উন্নয়ন প্রয়োজন তা অর্থের অভাবে সম্ভব হচ্ছিল না। তাই চীন ও ভারত সরকারের উন্নয়ন বিনিয়োগ মংলা বন্দরের উন্নয়নে গতি ফেরাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে এ বন্দর হবে দেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক নগরী। 
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডোর এম ফারুক হাসান বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে সড়ক পথে ঢাকার সবচেয়ে কাছাকছি সমুদ্র বন্দর হবে মংলা। তখন এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি খরচ চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ে অনেক গুণ কমে যাবে। আর এ কারনেই আমদানি রপ্তানিকারকরা অর্থ সাশ্রয়ে মংলা বন্দর ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠবেন। একই সঙ্গে রেলপথ যুক্ত হলে পণ্য পরিবহনের খরচও অনেক কমে যাবে। আশা করা যায় ২০২১ সালের আগেই মংলা বন্দরের জন্য গৃহীত সকল উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। তিনি আরো বলেন, চীনের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন হলে অবকাঠামো উন্নয়নে মংলা বন্দর ব্যাপকভাবে লাভবান হবে। এতে বন্দরের ক্যাপাসিটি অনেক গুন বেড়ে যাবে। পাশাপাশি বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্গো শিপ হ্যান্ডলিং বাড়লে এখানে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এ বন্দর গতিশীল হলে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলায় নতুন নতুন শিল্প কারখানা গড়ে উঠবে। বন্দর চেয়ারম্যান জানান, কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের জন্য ইতিমধ্যেই ২২টি আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। যা চলতি বছরের শেষ নাগাদ হ্যান্ডলিংয়ের কাজে যুক্ত হবে। বিদেশী জাহাজের জ্বালানী তেল সহজলভ্য করতে বন্দরের পাশেই নির্মিত হচ্ছে বৃহৎ আকারের তেল ডিপো। মংলা বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের ভিশন-২০২১ সামনে রেখে দক্ষতার সাথে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করার সাথে সাথে আগামী দিনের পরিকল্পনার কাজও চলছে পুরোদমে। 
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল হক জানায়, বর্তমানে মংলা বন্দরের পাঁচটি জেটির কার্যক্ষমতার অর্ধেকটা ব্যবহৃত হচ্ছে। আগামী দিনের কাজের পরিধি ও চাপের কথা চিন্তা করে পাঁচটি জেটির সম্পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চিনের সাথে যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে তা ইতিমধ্যে বাস্তাবায়ন হতে যাচ্ছে। তাদের প্রকল্পের কাজগুলো শুরুর আগে গত সপ্তাহে চিনের একটি প্রতিনিধি দল মংলা বন্দর পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, বন্দর পরিপূর্ণ ব্যবহারে প্রথমত খেয়াল রাখতে হবে এ বন্দরে বড় ড্রাফটের (গভীরতা) জাহাজের নির্বিঘেœ চলাচল নিশ্চিতকরণ। এ লক্ষে বন্দরের বহিঃনোঙ্গর থেকে জেটি পর্যন্ত ১৩১ কিলোমিটার পশুর চানেলটির নাব্য (গভীরতা) বাড়াতে ক্যাপিট্যাল ড্রেজিং এখন চলমান। ইতিমধ্যে এ চ্যানেলের তিন ভাগের এক ভাগ ক্যাপিটাল ড্রেজিং সম্পন্ন হয়েছে। আর এতে ব্যয় হয়েছে ১১২ কোটি টাকা। সরকারের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এ ড্রেজিং এর কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আর বাকী দুই ভাগ ড্রেজিংয়ের জন্য ৪৩১ কোটি টাকার দু’টি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের আশা এ প্রকল্প দু’টি শিগগিরই অনুমোদন পাবে। এছাড়া পশুর চ্যানেলের প্রয়োজনীয় নাব্য ধরে রাখতে বন্দরের জন্য নিজস্ব দু’টি মেইনটেন্যান্স (রক্ষনাবেক্ষন) ড্রেজার মেশিন কেনা হয়েছে। 
এ ব্যাপারে মেসার্স নুরু এন্ড সন্স (স্টিভিডরস) এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও বন্দর ব্যবহারকারী এইচ এম দুলাল জানায়, পদ্মা সেতু চালু হলে ঢাকার সঙ্গে মংলা বন্দরের দূরত্ব হবে সড়ক পথে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার। অর্থাৎ মংলা বন্দরের যাতায়াত পথ চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ে প্রায় ৯৫ কিলোমিটার কমে যাবে। এতে পরিবহন খরচ ও সময় দু’টিরই সাশ্রয় হবে। বন্দর ব্যবহারকারী মেসার্স গ্রীন এন্টারপ্রাইজের ব্যাবস্থাপক মাহবুবুর রহমান মানিক বলেন, মংলা বন্দর পূর্বের সেই বন্দর নেই। এখন অনেকটা আধুনিক বন্দরে রুপান্তরিত হয়েছে। এখন চীন ও ভারত সরকার যদি এ বন্দরের উন্নয়নের সহায়তা করে এবং তাদের প্রকল্পের কাজগুলো সঠিক ভাবে সম্পন্ন হয় তবে এ বন্দর হবে বিশ্বের অন্যতম বাণিজ্যিক বন্দর।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ












পুলিশ যখন শ্রমিক

পুলিশ যখন শ্রমিক

২০ অগাস্ট, ২০১৮ ০১:০২


ব্রেকিং নিউজ












পুলিশ যখন শ্রমিক

পুলিশ যখন শ্রমিক

২০ অগাস্ট, ২০১৮ ০১:০২