খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৬ অগাস্ট ২০১৮ | ১ ভাদ্র ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

আলোচনায় কাজি আমিন 

শাহীন রহমান | প্রকাশিত ১৩ জুন, ২০১৮ ০০:০৫:০০

খুলনা আওয়ামী লীগে এখন রীতিমতো আলোচনায় আছেন সাবেক মেয়র ও খুলনা চেম্বার সভাপতি কাজি আমিনুল হক। সাফল্য যেন সব সময়েই তার হাতে। এজন্য দলের কর্মী থেকে শুরু করে নেতা পর্যন্ত সবার কাছেই এখন এক ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন তিনি। সবার কাছেই তিনি এখন ‘বড় ভাইয়ের’ পরিচিতি পেয়েছেন, রয়েছেন আলোচনায়। বিশেষ করে সদ্য সমাপ্ত মেয়র নির্বাচনে তার ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো।  
কাজি আমিন, ছিলেন নগরীর ২১নং ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র। খুলনা চেম্বার অব কমার্সের বর্তমান সভাপতি। এর আগেও পাঁচবার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন প্রতিষ্ঠানটিতে। খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের অন্যতম সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে আছেন। ৮০’র দশকে জাতীয় পার্টি খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি ছিলেন। ৯০’এ এরশাদ সরকারের পতন হলে কাজি আমিন ৯২ তে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। নগর আওয়ামী লীগে একজন সদস্য হিসেবেই কাজ শুরু করেন তিনি। রাজনীতি, চেম্বার সভাপতি, নিজ ব্যবসার বাইরেও কাজি আমিন একজন ক্রীড়া সংগঠক, মিডিয়া বান্ধব। খুলনার অসংখ্য সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ব্যক্তিজীবনে তিনি খুব বন্ধুবৎসল, প্রাণখোলা একজন আড্ডাবাজ মানুষ। নিজ জেলা শহরে যেমন একটা ইমেজ নিয়ে আছেন, তেমনি দলের সভানেত্রীর গুড বুকেও রয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একাধিক বার বিদেশ সফরও করেছেন তিনি। 
গেল মেয়র নির্বাচনে একজন কর্মী হিসেবে কাজি আমিন যেমন দলের মেয়র প্রার্থীর বিজয়ের জন্য খেটেছেন, তেমনি দলের নীতি নির্ধারক হিসাবে বাইরের ভোট আনতে অন্যতম সহায়ক শক্তি হিসেবেও কাজ করেছেন। কয়েক দফা চেম্বার সভাপতি হওয়ায় খুলনার ব্যবসায়ীমহলে কাজি আমিনের ভাল সম্পর্ক রয়েছে। একই ভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়েরও আস্থা রয়েছে তার উপর। 
দলের বাইরে কয়েকজন কাউন্সিলরকে নিজ দলের প্রার্থীর পক্ষে ভোটে টেনে তিনি নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তার ভূমিকায় দলের কেউ কেউ অসন্তষ্ট কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও শেষ বিজয়ের হাসিটা কাজি আমিনের কারনে দলই হেসেছে। যা কিনা ছিল রীতিমতো চ্যালেঞ্জ। এখানেই কাজি আমিনের সাফল্য।
সোমবার খুলনা চেম্বার অব কমার্স ভবনের নিজ অফিসে আলাপকালে কাজি আমিন জানান, দলের একজন কর্মী হিসেবে প্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করেছি মাত্র। আলোচনায় থাকার জন্য কিছু করিনি। পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে জানতে চান, আমাকে নিয়ে দলে বা দলের বাইরে কোনও আলোচনা হয় নাকি ? তিনি বলেন, আমি ক্ষুদ্র একজন মানুষ, শেখ হাসিনার কোটি কোটি কর্মী, সমর্থকের মধ্যে আমি সামান্য একজন কর্মী মাত্র। দল আমাকে যখন যে দায়িত্ব দেয় তখন সেটাই নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করি। 
কাজি আমিন বলেন, মেয়র পদে আমাদের প্রার্থী এবার জিতে এসেছে এটাই বড় কথা। আর দশটা নির্বাচনের চেয়ে এবারের খুলনার নির্বাচন ছিল একেবারেই ভিন্ন। দুই দলেই হেভিওয়েট প্রার্থী ছিল এবার। টানা নয় বছর দল ক্ষমতায় থাকার সুবাদে দলের কিছুটা হলেও নেতিবাচক ভূমিকা বিদ্যমান। সেই ক্ষেত্রে আমাদের মূল শ্লোগানই এবার ছিল, দলের সভানেত্রীর চলমান দেশব্যাপী উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং তালুকদার খালেকের ব্যক্তি ইমেজ। 
কাজি আমিন জানান, গতবার যে কোনও কারনেই হোক আমাদের মেয়র প্রার্থী হেরে গিয়েছিলেন, সেখান থেকে ইউটার্ন করে জিতে আসা চাট্টিখানি বিষয় ছিল না। 
চেম্বার সভাপতি বলেন, খুলনাবাসী এবার বুঝতে পেরেছে, খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আ’লীগ সরকারের কোনও বিকল্প নেই। তাই খুলনা মেয়র নির্বাচনে উন্নয়নের পক্ষে যেমন ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন ছিল তেমনি দলের বাইরে অন্য কাউন্সিলররাও বুঝেছিল উন্নয়নের স্বার্থে আ’লীগের মেয়র প্রার্থীর বিজয়ের বিকল্প নেই। 
নির্বাচনের পরে খুলনা আ’লীগের অভিভাবক বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ হেলাল উদ্দিন হেলাল এমপির দেয়া টানা দুই দিনের ইফতার মাহফিল সুশৃঙ্খলভাবে সফলভাবে তুলে দিয়েছেন কাজি আমিন, যা ইতিমধ্যেই প্রশংসিত হয়েছে। 
কাজি আমিন জানান, খুলনা আ’লীগের রাজনীতি বরাবরই শেখ হেলাল মুখি। শেখ হেলাল নিজেই চান, গণমুখী একটি আ’লীগ খুলনাবাসীকে উপহার দিতে। তাই দলকে খুব শিগগিরই ক্লিন করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। মাদক বিরোধী অবস্থানে খুলনা আ’লীগ কঠোর অবস্থানে যাবে। ব্যক্তিগতভাবে কেউ জমি দখল, উদ্ধার এর কাজ করতে পারবে না। কোনও ইউনিটে বসে কেউ বিচার শালিস করতে পারবে না, এমন উদ্যোগ শেখ হেলাল নিজ থেকেই নিচ্ছেন।  তিনি বলেন, বিচার শালিস যা করার সেটা মেয়র বা নির্বাচিত কাউন্সিলররাই করবেন আইনের মধ্য থেকে।
 

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ












হারে শেষ প্রোটিয়াদের লঙ্কা সফর

হারে শেষ প্রোটিয়াদের লঙ্কা সফর

১৬ অগাস্ট, ২০১৮ ০০:৫৭