খুলনা | মঙ্গলবার | ২৩ অক্টোবর ২০১৮ | ৮ কার্তিক ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

সম্মেলনের পর এক মাস অতিবাহিত

কেন্দ্রে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি পেতে তৃণমূলের অপেক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ১২ জুন, ২০১৮ ০১:০৪:০০

সম্মেলনের এক মাস অতিবাহিত হলেও ছাত্রলীগের নতুন কমিটি নিয়ে জল্পনা চলছেই দেশব্যাপী। ছাত্রলীগের নতুন কমিটি পেতে অপেক্ষায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। নতুন নেতৃত্বকে বরণ করতে মুখিয়ে আছেন তারা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার কমতি নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গত ১১ ও ১২ মে  কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ২৯তম সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এবারের কমিটি হবে সমঝোতার মাধ্যমে এবং বয়স হবে ২৮ বছর। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বলেন, আমরা প্রার্থীদের তালিকা নেত্রীর হাতে পৌঁছে দিয়েছি। তিনি আমাদের জানিয়ে দেবেন। এ জন্য হয়তো ২/৩ দিন সময় লাগবে। এরপর সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। সেই থেকে তৃণমূলের অপেক্ষা শুরু।
এদিকে, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শীর্ষ পদে (সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক) জায়গা পেতে এরই মধ্যে পদ প্রত্যাশীরা জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সব সদস্য ও প্রতিটি জেলা থেকে নির্বাচিত ২৫ জন কাউন্সিলর কাউন্সিলের প্রতিনিধি হিসেবে গণ্য হবেন। এই কাউন্সিলররা ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই পদ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করেন। কিন্তু এতোদিন এই প্রক্রিয়ায় ‘সিন্ডিকেট’র প্রভাব ছিল অভিযোগ রয়েছে। সে জন্য এবার আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘সমঝোতার ভিত্তিতে সিলেকশনের’ ইঙ্গিত দিয়েছেন। পদ প্রত্যাশী ১০৯ জন তাদের জীবন-বৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন বলে সূত্রে জানা গেছে।
সম্মেলনের পূর্বে গত ২ মে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ীই প্রার্থীদের আবেদন নেয়া হয়েছে। তালিকায় আসা আগ্রহীদের ডেকে প্রথমে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়, সেটা হয়ে গেলে সেভাবে (প্রেস রিলিজে ঘোষণা) হবে। এতে সফল না হলে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে ভোট হবে।’
আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন সাবেক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগামী জাতীয় নির্বাচনসহ বেশ কিছু জাতীয় এবং দলীয় বিষয়াদি বিবেচনায় রেখে এবার খুব হিসাব-নিকাশ করে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নিবেদিত প্রাণ মেধাবী এবং পরীক্ষিত কর্মীদের দিয়ে ছাত্রলীগের কমিটি  গঠন হবে। নেতৃত্ব বাছাইয়ে বিগত দশম সংসদ নির্বাচন বানচালে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড মোকাবেলায় কার কী ভূমিকা ছিল সেটিও আমলে নেয়া হচ্ছে। কারা মাঠে ছিল, কারা ছিল না সেই হিসাবও কষছে হাইকমান্ড। কেবল পদের আশায় দৌড়ালে চলবে না, যারা মাঠে থেকে সংগঠনকে সক্রিয় রেখেছে তারাই মূল্যায়িত হবে।
নেতারা বলছেন, কোনো ভাবেই বির্তকিত কাউকে নেতৃত্বে রাখতে চাইছে না নীতি-নির্ধারণী পর্যায়। আগামীতে যেন ছাত্রলীগের কারণে কোথাও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন না হয়, সেদিক বিবেচনা করে পরিচ্ছন্ন ও মেধাবীদের ঠাঁই হবে এবারের কমিটিতে। সেদিক থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে পরিবারের রাজনৈতিক ভূমিকার ওপর।
গুঞ্জন রয়েছে এবারের শীর্ষ চারটি পদে (কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) চট্টগ্রাম, রংপুর, রাজশাহী অঞ্চল গুরুত্ব পাবে। এছাড়াও বরাবরের মতো থাকছে বরিশাল ও ফরিদপুর অঞ্চলের গুরুত্ব। তবে খুলনা অঞ্চল থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি চৈতালী হাওলাদার চৈতি, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা বিষয়ক উপ-সম্পাদক সাগর হোসেন সোহাগ কেন্দ্রের শীর্ষপদ প্রত্যাশী বলে শোনা যাচ্ছে ।
খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোঃ আবু সাঈদ খান বলেন, “নতুন নেতৃত্বকে বরণ করে নিতেই তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা প্রস্তুত। সম্মেলন হয়ে গেল এক মাস,  এখনো কমিটি ঘোষণা করা হলো না, এমনটি ইতিপূর্বে কখনোই হয়নি। তবে ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতা-কর্মী জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অটল আস্থা ও বিশ্বাস রেখেই ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সহকারে অপেক্ষা করছি নতুন নেতৃত্বের। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





যশোরে সাংবাদিক নোভার  আত্মহত্যা

যশোরে সাংবাদিক নোভার  আত্মহত্যা

২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:৫৬









ব্রেকিং নিউজ





যশোরে সাংবাদিক নোভার  আত্মহত্যা

যশোরে সাংবাদিক নোভার  আত্মহত্যা

২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:৫৬