খুলনা | শুক্রবার | ২২ জুন ২০১৮ | ৯ আষাঢ় ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

নেতৃত্ব সংকটে অভিভাবক শূন্য মহানগর জাপা  সাবেক নেতাদের দলে ভেড়াতে তৎপর কেন্দ্র

বশির হোসেন | প্রকাশিত ১২ জুন, ২০১৮ ০১:০৩:০০

অভিভাবক শূন্য অবস্থায় এক মাস কাটলো খুলনা মহানগর জাপার। নগর পর্যায়ের নেতাদের অব্যাহত পদত্যাগ ও একাধিক নেতাকে বহিষ্কারের ফলে নেতৃত্বের চরম সংকটে দলটি এক মাসেও কমিটি পুনর্গঠন করতে পারেনি। সহসা এ কমিটি গঠন হওয়া নিয়ে সংশয় খোদ দায়িত্ব পালনরত নেতাদের। তবে পদত্যাগ করা সাবেক নেতাদের পুনরায় দলে ভেড়াতে কেন্দ্র থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দলীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানিয়েছে, কেসিসি নির্বাচনে চরম হতাশাজনক ফলাফলের পরে নগর কমিটি বিলুপ্ত এবং মেয়র প্রার্থী মুশফিককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয় গত ১৭ মে। আবার মুশফিককের দলে যোগদানের সময় গত বছরের ২৮ জানুয়ারি জাতীয় পার্টি থেকে পদত্যাগ করেন দলের তৎকালীন নগর শাখার সভাপতি শেখ আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলাম ও যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যাপক গাউসুল আজম। একই দিন দল ত্যাগ করে আওয়ামী লীগে যোগ দেন নগর কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক এম এ আল মামুন, সদস্য কাজী শরিফুল ইসলাম, সোনাডাঙ্গা থানা জাতীয় পার্টির সভাপতি সাইফুল আলমসহ অনেক নেতা-কর্মী। দফায় দফায় পদত্যাগ ও বহিষ্কারের ফলে আর মাজা সোজা করে দাঁড়াতে পারেনি জাপা। ফলে এক মাস ধরে নগর জাপা অভিভাবকহীন পথ চলছে। এতে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে খুলনায় জাতীয় পার্টি অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে বলে মনে করেন নেতারা। 
দলীয় বিভিন্ন সূত্র বলছে, এক সময় জাপার শক্ত ঘাঁটি ছিলো খুলনা। রব-কাশেম কমিটির পর নগর জাপার হাল ধরেন সাবেক এমপি আলহাজ্ব আব্দুল গফ্ফার বিশ্বাস ও মোল্লা মজিবর রহমানের  নেতৃত্বাধীন কমিটি। গফ্ফার বিশ্বাসের পদত্যাগের পর থেকে সাবেক এমপি আলহাজ্ব মোঃ আবুল হোসেন-এর নেতৃত্বেই চলছিল নগর জাপা। তবে আবারও নগর জাপার হাল ধরার জন্য এরই মধ্যে কেন্দ্র থেকে পদত্যাগকারী সাবেক কয়েকজন নেতার সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে।  এদের মধ্যে নগর জাপার সাবেক সভাপতি সাবেক এমপি আলহাজ্ব আব্দুল গফ্ফার বিশ্বাস এবং সাবেক এমপি মোঃ আবুল হোসেন এর সাথে কেন্দ্র থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে দলীয় সুত্রে জানা গেছে।
নগর কমিটির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল গফ্ফার বিশ্বাস এ প্রতিবেদককে বলেন ‘এখন জাতীয় পার্টির সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। তবে জাতীয় পার্টি যতদিন আওয়ামী লীগের লেজুড় হয়ে থাকবে ততদিন এই দল অস্তিত্ব সংকটে ভুগবে। দলের বিভিন্ন পর্যায় থেকে আমার সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে কিন্তু এই লেজুড়বৃত্তির দলে যোগদান করে লাভ নেই। স্বাতন্ত্রবোধ নিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারলে দল আবার ঠিক হয়ে যাবে।
নগর কমিটির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ আবুল হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, পার্টির চেয়ারম্যানই চায়না দল ভালো থাকুক। একজন খুনীকে নিয়ে এসে খুলনায় দলের সর্বনাশ করেছে। দলকে মেরে ফেলেছে। এখন মরা দল আমার ঘাড়ে দেয়ার কথা বলছে। কিন্তু আমি এখন এই দলের দায়িত্ব নিতে পারবো না।
জেলা জাপার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব এস এম শফিকুল ইসলাম মধু বলেন, ‘জাতীয় পার্টি একটি বড় রাজনৈতিক দল। দলের প্রয়োজনে কমিটি গঠন করা হয় আবার দলের প্রয়োজনেই কমিটি ভাঙা হয়। কেসিসি নির্বাচনে হতাশাজনক ফলাফলের পর পার্টির চেয়ারম্যান খুলনা মহানগর কমিটির উপর খুবই ক্ষিপ্ত। এই মুহূর্তে কোন কিছুই শুনতে চান না। তবে ঈদের পরে এই মহানগর কমিটি নিয়ে ভাবা হবে। আর সাবেক নেতাদের দলে ভেড়াতে যোগাযোগের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, হ্যাঁ যোগাযোগ করা হচ্ছে। আমি নিজেই তাদের সাথে যোগাযোগ করেছি। তারা কিছুই বলেনি। দেখা যাক ঈদের পরে অবশ্যই ভালো কিছু সিদ্ধান্ত নেবেন পার্টির চেয়ারম্যান।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ












বিশ্বকাপে আজকের খেলা

বিশ্বকাপে আজকের খেলা

২২ জুন, ২০১৮ ০০:৪৫