খুলনা | শুক্রবার | ২২ জুন ২০১৮ | ৯ আষাঢ় ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

রমজান মাসে দান খয়রাতের বিশেষ ফজিলত

মুফতী আব্দুল্লাহ | প্রকাশিত ১১ জুন, ২০১৮ ০১:০৩:০০

সম্মানিত পাঠক পাঠিকাগণ এই তো দেখতে দেখতে আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিতে যাচ্ছে পবিত্র মহিমান্নিত মাহে রমজান। এই মাসে নবী (সঃ) প্রধান এই ধরনের আমল করতেন এক শারীরিক যথা নামাজ, রোজা, সালাতুর তারাবী, ইতিকাফ ২য় হচ্ছে আর্থিক ইবদত যাকাত, ছদকাতুল ফিতর ও নফল দান খয়রাত তাই আমাদের ও নামাজ রোজার পাশাপাশি দান খয়রাতের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া দরকার কেন না কোরআন হাদিসে যাকাত দানের বিষয় যেমন তাগিদ দেওয়া হয়েছে তদরূপ নফল ছদগার বিষয়ও অধিক উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন ‘যারা ব্যয় করে নিজেদের ধন সম্পদ রাতে ও দিনে গোপনে ও প্রকাশ্যে তাদের জন্য রয়েছে সোয়াব তাদের প্রতিপালকের নিকট আর তাদের ভয় নেই তারা চিন্তিত হবে না। (সুরা বাকারা-২৭৪)।
আব্দুল্লাহ ইবনে আকরাম (রাঃ) বলেন, লোকদের মধ্যে রাসূল (সঃ) সবচেয়ে বেশী দানশীল ছিলেন। বিশেষতঃ রমজান মাসে যখন জিবরাঈল (আঃ) তার সাথে সাক্ষাত করতেন তখন দানশীলতা অধিক বেড়ে যেতো। জিবরাঈল (আঃ) প্রতি রাতে স্বাক্ষাত করতেন ও কোরআনের দাওর করতেন রসূল (সঃ) এর কল্যাণে বিতরণ প্রবাহিত বায়ুর চেয়ে অধিক ব্যাপক ও বিস্তৃত ছিল। (বুখারী শরীফ)
দান ছদকার ক্ষেত্রে কয়েকটি লক্ষণীয় বিষয় ঃ ১। কোন অবস্থায় আমরা দান ছদকা করব সুস্থ অবস্থায় না কি মুমূর্ষু অবস্থায়? এ সম্পর্কে এক ব্যক্তি নবীজি (সঃ) কে প্রশ্ন করলেন কোন ছদকা সোয়াবের দিক দিয়ে বড়? হুজুর (সঃ) বলল্লেন এমন অবস্থায় ছদকা যখন তুমি সুস্থ থাকো অন্তরে সম্পদের লোভ থাকে গরীব হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে ধনী হওয়ার আশা থাকে। আর ছদকা করতে এতো দেরী করিও না যে, রুহু হলক পর্যন্ত পৌঁছিয়ে যায় অর্থাৎ মৃত্যুর সময় নিকটে আসিয়া যায়। তখন তুমি এরূপ বলিতে আরম্ভ করো যে, এই পরিমাণ মাল অমুক (মসজিদের) জন্য আর ঐ পরিমাণ (মাদ্রাসার) জন্য অথচ তোমার মাল আর তোমার নেই। অর্থাৎ তোমার ওয়ারিশ এর জন্য হয়ে গিয়াছে।
মিশকাত শরীফ ঃ ২। আমার যাহা কিছু দান ছদকা করবো তাহা শুধু আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভের জন্য করবো। আর যদি ইহা ছাড়া ভিন্ন কোন উদ্দেশ্য থাকে তবে এর দ্বারা সোয়াব তো পাওয়াই যাবে না আরো ভয়াবহ শাস্তি আছে। যা রসুল (সঃ) এর এই বাণী থেকে বোঝা যায় ‘কিয়ামতের’ ময়দানের সর্বপ্রথম যাদের ব্যাপারে ফয়সালা শোনানো হবে তাদের মধ্যে এক ধনী ব্যক্তি হবে যাকে আল্লাহ তায়ালা অনেক ধন সম্পদ দিয়া ছিলেন তাকে বলা হবে তুমি এই সমস্ত ধন সম্পদ পাইয়া কি আমল করিয়াছ সে বলবে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য উহা আমি আল্লাহর রাস্তায় খরচ করিয়াছি। আল্লাহ বলবেন তুমি মিথ্যা বলছো। তুমি খরচ করছো মানুষ তোমাকে দাতা বলবে অতপর তাকে জাহান্নামের নিক্ষেপ করা হবে।
মুসলিম শরীফ ঃ ৩। হালাল মাল থেকে আমরা দান ছদকা করবো কেননা আল্লাহ তায়ালা পূত ও পবিত্র তিনি পবিত্রতা পছন্দ করেন আর অপবিত্র তাকে ঘৃণা করেন হালাল মাল পবিত্র আর হারাম মাল অপবিত্র। এ সম্পর্কে নবী (সঃ) বলেন যে ব্যক্তি হারাম মাল সঞ্চয়করে পরে তা দান করে দিলো সে কোন সোয়াব পাবে না। হারাম উপার্জনের গুনা তার উপর বোঝা হয়ে চাপবেই। (সহী ইবনে হিব্বান)
তাই আসুন আমরা এই পবিত্র মাহে রমজানে ফরজের পাশাপাশি নফল দান ছদকার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিই।
লেখক ঃ মুহাদ্দিস উসওয়ে হাসানা মাদ্রাসা, রায়ের মহল খুলনা ও ইমাম মুজগুন্নী কেডিএ পার্ক জামে মসজিদ।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন






ব্রেকিং নিউজ












বিশ্বকাপে আজকের খেলা

বিশ্বকাপে আজকের খেলা

২২ জুন, ২০১৮ ০০:৪৫