খুলনায় মাদকের গোয়েন্দা তালিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের শিকার অনেকে! 


মহানগরসহ খুলনা জেলায় মাদকের পৃষ্ঠপোষক ও সহায়তাকারীদের নিয়ে প্রস্তুত কথিত গোয়েন্দা তালিকা নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ওই তালিকায় বেশ কিছু রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও পুলিশের নাম আসায় বির্তক ক্রমেই বাড়ছে। ইতোমধ্যে  এই তালিকাকে বিতর্কিত আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, র‌্যাব, পুলিশের উর্ধ্বতন মহলে বেশ কিছু লিখিত আবেদন জমা পড়েছে। 
এসব আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ী ও আশ্রয় প্রশ্রয়দাতাদের আড়াল করতে গোয়েন্দা সংস্থার কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত সদস্য মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে এই তালিকায় নিরাপরাধ অনেক মানুষের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। চলমান মাদক বিরোধী অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এ তালিকায় নিরপরাধ লোকজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগে বলা হয়।
এদিকে বিতর্কিত ওই তালিকা নিয়ে মাঠে কাজ করতে নানা সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছে খুলনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য জানান, গোয়েন্দা সংস্থায় যারা রয়েছেন, তারাওতো পুলিশ বা অন্য কোন বাহিনীর সদস্য। টাকা পেলে অনেক কিছু করতে পিছপা হয়না তারা। তারা উদৃতি হিসেবে নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। 
এদিকে কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হক ক্রস ফায়ারে নিহত হওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন তার ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়েছেন। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, একরামুল নিহতের পর এই বিষয়টি উঠে আসলেও কথিত গোয়েন্দা তথ্যে গত পাঁচ বছর ধরেই তার বিরুদ্ধে নানা ধরণের প্রতিবেদন দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দিনের পর দিন রিপোর্ট বানানো হয়েছে একরামকে নিয়ে। সামাজিকভাবে তাকে মারা হয়েছে অনেক আগেই। একরামের অপরাধ ছিল একটাই, সে টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিল।’
কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত একরামুলের বিষয়ে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে লেখা এক খোলা চিঠিতে বলেন, একরামুলের বিরুদ্ধে মাদকের একটি মামলা হয়েছিল ২০০৮ সালে। কিন্তু সেই মামলাটি একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার ঈর্ষা থেকে করা হয়েছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণ হয়।
এদিকে গত ২৪ মে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে দাখিল হওয়া একটি লিখিত অভিযোগে খুলনার তেরখাদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও তেরখাদা ৫নং ইউপি চেয়ারম্যান এফ এম অহিদুজ্জামান বলেন, খুলনার মাদকের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে মহিদুজ্জামান নামে একজনকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক হিসেবে তার নাম প্রকাশ করা হয়েছে। মূলতঃ আমি সভাপতি আর ওই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান আমি নিজে। কিন্তু গোয়েন্দা তালিকায় মহিদুজ্জামান নামে একজনকে এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে লেখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কতটা হিংস্র হতে পারে তা এই গোয়েন্দা তালিকা না দেখলে বিশ্বাস হবে না। 
এদিকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ , র‌্যাব-৬ সহ স্থানীয় প্রশাসনের নিকট বিভিন্ন এলাকার রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা মাদকের গোয়েন্দা তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করে আরও গভীরভাবে সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়ে লিখিত আবেদন করেছেন।


footer logo

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।