খুলনার সরকারি সাত কর্মকর্তা ও পরিবারের সম্পদ অনুসন্ধানে দুদক


ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি, ঘুষ, অনিয়ম, দুর্নীতি, মাদক ব্যবসা ও প্রকল্প হতে টাকা আত্মসাতের মাধ্যমে অবৈধভাবে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে খুলনায় সরকারি সাত কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের উপ-পরিচালক বলছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে এসব কর্তকর্তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান পরিচালনা করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা মিললে মামলা দায়ের হবে।
তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (অবসরপ্রাপ্ত) এম ডি কামাল উদ্দিন আহমেদ : জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর খুলনা সার্কেলের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (অবসরপ্রাপ্ত) এম ডি কামাল উদ্দিন আহমেদ বর্তমান খালিশপুরের মেইন রোডস্থ ২নং নেভিগেট এলাকায় বসবাস করছেন। অভিযোগ উঠেছে তিনি জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে নিজের নামে ও সন্তান তাসনিমা তামান্না, নুসরাত তামান্না, তাসফিয়া তামান্না এবং তাসফিক আহমেদ এর নামে বাড়ি নির্মাণ ও ফ্ল্যাট কেনা-বেচা করেছেন। 
শিক্ষা অফিসার অশোক কুমার সমাদ্দার : বাগেরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অশোক কুমার সমাদ্দার বিভিন্ন প্রকল্প হতে টাকা আত্মসাত ও অবৈধভাবে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে নিজ, স্ত্রী সবিতা রানী গোস্বামী  এবং সন্তান শতাব্দী সমদ্দার, ইন্দিরা সমদ্দার ও অমৃত সমদ্দারের নামে জমি বাড়ি ও ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 
ওসি সরদার মোশাররফ হোসেন  :  কেএমপি’র হরিণটানা থানার সাবেক ওসি সরদার মোশাররফ হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করেছেন। যার মাধ্যমে নিজের নামে, তার স্ত্রী দিলারা হোসেন ও সন্তান মুদিলাতুল হুসনা ও মুদিয়াতুল হুসনার নামে জমি বাড়ি, ফ্ল্যাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন এমন অভিযোগ উঠেছে। 
যুগ্ম কর কমিশনার গণেশ চন্দ্র মন্ডল : খুলনা কর অঞ্চল-এর যুগ্ম-কর কমিশনার গণেশ চন্দ্র মন্ডলের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও অবৈধভাবে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন মাধ্যমে নিজের নামে, তার স্ত্রী সবিতা মল্লিক ও সন্তান অরুনিয়া ঐন্দ্রিলা বাধন ও দেব ইন্দ্রনীল সজিবর নামে জমি বাড়ি,  ফ্ল্যাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ। 
এসআই মধুসূদন বর্মন : খুলনা জোন কেএমপি’র সিআইডি এসআই মধুসূদন বর্মন অবৈধভাবে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। আর এ সম্পদ আর্জনের মাধ্যমে নিজের নামে ও স্ত্রী অনীলা রানী মন্ডল ও সন্তান মৌ বর্মন এর নামে বাড়ি নির্মান করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এস আই মোঃ সোহেল রানা : কেএমপি’র নিরালা পুলিশ ফাঁড়ির প্রাক্তন এসআই মোঃ সোহেল রানার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে । যার মাধ্যমে নিজের নামে, স্ত্রী শিরিন পারভীন ও পলি বেগম ও সন্তান তানভীর ইসলাম ও স্বর্ণা আক্তারের নামে জমি বাড়ি, ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন।
স্টেনোগ্রাফার ফরিদ আহমেদ : খুলনা স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের স্টেনোগ্রাফার ফরিদ আহমেদ এর বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ আর্জন অভিযোগ উঠেছে। যার মাধ্যমে নিজের নামে, স্ত্রী মিসেস পলি আহমেদ ও সন্তান আবির আহমেদ ও আবরার আহমেদ-এর নামে জমি বাড়ি, ফ্ল্যাট গড়ে তুলেছেন ।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে খুলনার সাত কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে এসব কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্তত ৫ জনের সাথে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা এসব অভিযোগ অসত্য ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন। তারা আরও বলেছেন অনুসন্ধানে তাদের বিরুদ্ধে সত্যতা মিলবে না।
তদন্তের সত্যতা স্বীকার করে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবুল হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি, ঘুষ, অনিয়ম, দুর্নীতি, মাদক ব্যবসা ও প্রকল্প হতে টাকা আত্মসাতের মাধ্যমে এসব কর্মকর্তারা তাদের পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ যেমন বাড়ি, ফ্ল্যাট ও বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন এমন অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)- এর সমন্বিত খুলনা জেলা কার্যালয়ে দাখিল হয়েছে। অভিযোগ দাখিলের পর সত্যতা অনুসন্ধানে বিভিন্ন ব্যাংক এবং সরকারি দপ্তরগুলোতে চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিগুলোর জবাব পাওয়ার পর অভিযোগ সত্য-না মিথ্যা তা প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হবে। তখন মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


footer logo

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।