খুলনা | শুক্রবার | ২২ জুন ২০১৮ | ৯ আষাঢ় ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

‘অগ্রাধিকার ২২ খাল পুনরুদ্ধার’   

দায়িত্ব না নিলেও মেয়র হিসেবে সক্রিয় তালুকদার খালেক

বিশেষ প্রতিনিধি | প্রকাশিত ২৯ মে, ২০১৮ ০১:১০:০০

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হয়ে গেছে ১৫ মে। বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক। নগরীর তিনটি কেন্দ্রে গোলযোগের কারণে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে, সে কারণে এখনও গেজেট প্রকাশিত হয়নি। প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী থেকে ভোটের ব্যবধান বেশি থাকায় তিন সেন্টারের নির্বাচনের ফলাফলে কোন প্রভাব পড়বে না। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত না হওয়ায় শপথও নিতে পারেননি তিনি এখনও। শপথ পড়ার পরেও মেয়রের চেয়ারে বসার জন্য তালুকদার খালেককে অপেক্ষা করতে হবে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, বর্তমান মেয়র মনিরুজ্জামান মনির পাঁচ বছর পূর্তি হবে ২৪ সেপ্টেম্বর। তারপরেই তালুকদার খালেক আনুষ্ঠানিক ভাবে মেয়রের দায়িত্ব নেবেন। কিন্তু বসে নেই নব-নির্বাচিত মেয়র। 
জানা গেছে, প্রতিদিনই তিনি নগরবাসীর কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করছেন, সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা, কর্মচারীদের প্রয়োজনে দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। নগরীর উন্নয়ন কাজ সরেজমিন পরিদর্শনেও গেছেন, কাজের মান ঠিক রাখতে ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের নির্দেশও দিয়েছেন।   
এরই মধ্যে তালুকদার আব্দুল খালেক সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বসেছেন, সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সর্বশেষ একটি চিত্র নিয়েছেন। এই বৈঠকের আগে তিনি মেয়র মনির সঙ্গে ফোনে কথা বলে তার সম্মতিও নিয়েছেন। 
খুলনা সার্কিট হাউজে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত প্রায় দুই ঘণ্টার এই  বৈঠকে তালুকদার খালেক তার স্বভাব সুলভ ভঙ্গিতেই কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। নগরবাসীর জন্য নিজে যেমন আমৃত্যু কাজ করবার অঙ্গীকার করেছেন, তেমনি সততার সঙ্গে নগরবাসীকে আরও অধিকতর সেবা দেবার জন্য কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান রেখেছেন। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তালুকদার খালেক সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের জানান, বিগত পাঁচ বছর খুলনা মহানগরী উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেকে বঞ্চিত ছিলো, তার চলতি মেয়াদে ব্যাপক উন্নয়ন হবে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খুলনার উন্নয়নের ব্যাপারে আন্তরিক। সে ক্ষেত্রে সরকার থেকে টাকা পাওয়া কোনও সমস্যা নয়। 
এই বৈঠকে সিটি কর্পোরেশনের সিইও, বাজেট অফিসার, প্রধান প্রকৌশলীসহ প্রকৌশল শাখা, পরিচ্ছন্ন বিভাগ, গ্যারেজ বিভাগ, লাইসেন্স শাখা ও সাধারণ বিভাগের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ছিলেন এমন এক কর্মকর্তারা জানান, মেয়র আপাতত নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। এটিই তার প্রথম চ্যালেঞ্জ। খুলনা শহরে দখল হয়ে ২২খাল পুনরুদ্ধারে মেয়র খালেক নগরবাসীর জন্য প্রথম অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এর বাইরে নগরীতে ইজিবাইক, যন্ত্রচালিত রিকশা, মাহেন্দ্র নিয়ে বিদ্যমান বিশৃঙ্খলা দূর করতেও মেয়র কাজ করছেন। মেয়রের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র বলেছে, স্পর্শকাতর এই বিষয়টি নিয়ে তিনি এখনই হুট করে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চান না। শপথ নিয়ে কাউন্সিলরদের সঙ্গে বসে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে চান মেয়র। 
জানা জেছে, খুলনা মহানগরীর জন্য রিকশা, ইঞ্জিন চালিত রিকশা, মাহেন্দ্রর জন্য নির্দিষ্ট একটি রং ব্যবহারের জন্য নির্দেশনা সিটি কর্পোরেশন থেকে দেয়া হতে পারে। সূত্র মতে, নগরীতে ডুমুরিয়া, ফুলতলা, বটিয়াঘাটা, রূপসা থেকে শত শত রিকশা, ইঞ্জিন চালিত রিকশা, মাহেন্দ্র অবাধে চলাচল করছে। ফলে নগরীতে যানজট হচ্ছে, বিশৃঙ্খলা হচ্ছে। 
মেয়রের সঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের সভার বিষয়টি স্বীকার করে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) আব্দুল আজিজ জানান, নগরীতে জলবদ্ধতা নেই, তবে অধিক বৃষ্টি হলে জলজটের সৃষ্টি হয়। মেয়র স্যার অধিক বৃষ্টির পরপরই যাতে পানি নেমে যায় সেটি সমাধানে আমাদের পরামর্শ চেয়েছেন, একই সঙ্গে দখল হয়ে যাওয়া ২২খালের সর্বশেষ অবস্থান জানতে চেয়েছেন। নগরীতে চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের একটি চিত্রও তিনি আমাদের কাছ থেকে নিয়েছেন, যে কোনও প্রয়োজনে বা সহযোগিতায় তিনি সব সময়য়েই আমাদের পাশে থাকার কথা বলেছেন। আমরাও নগরবাসীর সেবায় তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি। তিনি আরও জানান, মেয়র স্যার আমাদেরকে আরও সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে  নগরবাসীর সেবা দিতে নির্দেশনা দিয়েছেন।
 

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ












বিশ্বকাপে আজকের খেলা

বিশ্বকাপে আজকের খেলা

২২ জুন, ২০১৮ ০০:৪৫