খুলনা | শুক্রবার | ১৭ অগাস্ট ২০১৮ | ২ ভাদ্র ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

সদ্য সমাপ্ত খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন

তবুও থানা-ওয়ার্ড বিএনপি’র সাংগঠনিক দুর্বলতা ফুটে উঠেছে প্রকটভাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক  | প্রকাশিত ২৯ মে, ২০১৮ ০০:৪৩:০০

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বিভিন্ন অভিযোগ উঠলেও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি’র সাংগঠনিক দুর্বলতাও ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে নগর বিএনপি’র জেষ্ঠ্য নেতাদের নিষ্ক্রীয়তা, থানা এবং ওয়ার্ড কমিটির দুর্বলতাকে চিহ্নিত করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় ও মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, টানা প্রতিকূল পরিবেশ পাড়ি দিয়ে সাংগঠনিক দুর্বলতায় ভুগছে খুলনা বিএনপি।
দলীয় সূত্র মতে, সর্বশেষ ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফলাফল বিপর্যয়ের মধ্যেও খুলনা-২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন নগর বিএনপি’র সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সেই থেকে দলটির কেন্দ্রে সমাদর বাড়ে তাঁর। এছাড়া খুলনায় ইতিপূর্বেও বিএনপি জনপ্রিয়তায় শীর্ষে ছিল। অবশেষে গত ১৫ মে কেসিসি নির্বাচনে নজরুল ইসলাম মঞ্জু’র পরাজয়ে ভেঙ্গে পড়েছে দলটির তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। যদিও নির্বাচন বিশ্লেষণে তাদের নানান মত রয়েছে। তবে জাল ভোট ও কেন্দ্র দখল প্রতিরোধ, অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা ও বিরোধ নিষ্পত্তি করতে না পারার সাংগঠনিক দুর্বলতা রয়েছে, এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন দলটির তৃণমূল নেতা-কর্মীরা।
নগর বিএনপি’র সম্পাদক মন্ডলীর একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে (রেকর্ড রয়েছে) বলেছেন, “কেসিসি নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী যতোই সিরিয়াস, সিনিয়র নেতারা ততোই নিরুত্তাপ ছিলেন। প্রতিদিনের কাজের পর্যালোচনা, জবাবদিহিতা ও সংকট-সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা ছিল না। খুলনায় কর্মী, সমর্থক ও ভোটার আছে বিএনপি’র প্রচুর, কিন্তু সংগঠন নেই! সকলকে দল করার সুযোগ না দিয়ে, ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করে আজ এই অবস্থা। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে পারে না। ৪-৫ জনের সমন্বয়ে বিএনপি’র ওয়ার্ড কমিটি রয়েছে এক যুগ আগের। এছাড়া অঙ্গ সংগঠনের কোন ওয়ার্ডে কমিটি নেই; কমিটি করতে গেলে থানা বিএনপি করতে দেয় না। আবার থানা কমিটির শীর্ষ নেতাদের পীরের মতো দেখেন নগর বিএনপি’র শীর্ষ নেতা। বাঘের মতো যুবদল, সভাপতি গ্রেফতারের পর সাধারণ সম্পাদক বিড়ালের মতো হয়ে যায়। নির্বাচনেও দেখা যায়নি তাকে! একই অবস্থা ছাত্রদলের। প্রচার-প্রচারণার সময় যখন প্রার্থী ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গেছেন তখন ওয়ার্ড নেতা-কর্মীদেরও ডাকা হয়নি, এতে ক্ষোভ রয়েছে তৃণমূলে। শুধুমাত্র দৌলতপুর থানা কমিটি ব্যতীত সকল থানা বিএনপি নেতারা নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে চরম ব্যর্থ হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন এ নেতা।
উপরোক্ত বক্তব্যের সাথে সহমত পোষণ করে নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আজিজুল হাসান দুলু বললেন, “নির্বাচনে ব্যাপক জাল ভোট ও কেন্দ্র দখলের ঘটনা ঘটেছে দিবালোকের মতোই সত্য, তবে কোথাও বিএনপি নেতা-কর্মীরা প্রতিরোধ করতে পারিনি এটাও সত্যি। যে কোন পরিস্থিতিতেই হোক নগর বিএনপি’র সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু মেয়র প্রার্থী, তার সাথে সর্বাত্মকভাবে কাজ করেছেন এমন কি একজন নেতা আছেন? এর মূল কারণ ছিল আমাদের সাংগঠনিক দুর্বলতা।”
দৌলতপুর থানা বিএনপি’র যুগ্ম-সম্পাদক জিএম মাকসুদুল আলম বলেন, “যেকোন ইউনিট থেকে খুলনা মহানগর বিএনপি শক্তিশালী। নির্লজ্জ ভোট ডাকাতি ও ক্ষমতাসীনদের তৃপ্তির ঢেকুর ঠেকাতে থানা-ওয়ার্ড বিএনপি নেতা-কর্মীরা নিরুপায় অসহায় ছিল। ভেজাল বিএনপি দিয়ে এতো বড় অপশক্তি মোকাবেলা সম্ভব নয়। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সৎ ন্যায়, নিষ্ঠা ও আদর্শবান না হলে দেশপ্রেমিক কর্মী সমৃব্ধ সংগঠন তৈরি সম্ভব নয়। যুবদল ও ছাত্রদলসহ অঙ্গ সংগঠনগুলোর কমিটি কেন্দ্র থেকে নাজিল হওয়ার কারণেই যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে উঠছে না বলে মনে করেন তিনি!”
পরাজিত একাধিক কাউন্সিলর বললেন, “নগর ও জেলা বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের দূরত্ব একদম কমেনি। শুধুমাত্র মেয়র প্রার্থী ব্যতীত শীর্ষ নেতারা নির্বাচনে দায়সারাগোছের দায়িত্ব পালন করেছেন। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার অভাবেই ক্ষমতাসীনরা বিনাবাঁধায় ভোট ডাকাতির সুযোগ পেয়েছে। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বিশ্বাস ঘাতকতায় চরম সাংগঠনিক সংকটে খুলনা বিএনপি।”
সূত্র মতে, নির্বাচনের পরদিন গত ১৬ মে বিকেলে ২০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শেখ মোঃ গাউসুল আজম, ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান মাহমুদ পিন্টু ও ৬নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ প্রিন্স আরও দু’জন বহিঃস্কৃত নেতার সাথে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। এতে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে তৃণমূলে।
জেলা বিএনপি’র সভাপতি এড.শফিকুল আলম মনা বলেন, “অভ্যন্তরীণ দূরত্ব নেই; তবে প্রায় এক যুগ ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গৃহহারা নেতা-কর্মীরা পরিশ্রান্ত। ধানের শীষ যেখানে প্রতীক সেখানে নেতা-কর্মীদের মধ্যে অন্য রকম শক্তি কাজ করে।”
বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নগর শাখা’র সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, “এ নির্বাচনে প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও আওয়ামী লীগ এক দলে খেলেছে; বিপরীতে দশটি বছর স্রোতের প্রতিকূলে চলা গণতন্ত্রকামী নিষ্পেষিত মানুষগুলো। খুলনাবাসীর ভোটাধিকারহরণ করেছে লুটেরা। লুটপাটে ভোট কেন্দ্র দখল ও জাল ভোটের মহৌৎসবে বিএনপি’র সাংগঠনিক দুর্বলতার বিষয়টি নিতান্তই গৌন। আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে কেসিসি নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে এটা খুলনাবাসী আশা করেছিলেন; এ জন্য সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধের কোন প্রতিশ্র“তি ছিল না তাদের।”
 

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





খুলনা-৪ আসনে নৌকার মাঝি কে?

খুলনা-৪ আসনে নৌকার মাঝি কে?

০১ অগাস্ট, ২০১৮ ০২:৩০









ব্রেকিং নিউজ











ফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা

ফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা

১৭ অগাস্ট, ২০১৮ ০১:০২