খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৮ অক্টোবর ২০১৮ | ২ কার্তিক ১৪২৫ |

হাসিনা-মোদি-মমতা বৈঠক

দুই দেশের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হোক

২৮ মে, ২০১৮ ০০:১০:০০

দুই দেশের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হোক


ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন অতীতের যে কোনো সময়ের  চেয়ে আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ। আর তাতে উভয় দেশই উপকৃত হচ্ছে। তবে একটি বিষয় এই সম্পর্কের মধ্যে কাঁটা হয়ে আছে। তা হলো তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে এ পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে কোনো সমঝোতা বা চুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়া। ভারতের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব বারবার আশ্বাস দেওয়ার পরও রাজ্য সরকারের আপত্তির কারণে এখনো সেই চুক্তি আলোর মুখ দেখেনি। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশের মানুষ আশায় বুক বেঁধে আছে ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের আমলেই এই চুক্তি সম্পাদিত হবে। তাই দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে যখন আলোচনা হয় তখনই মানুষ কান পেতে থাকে সেই সুসংবাদটি শোনার জন্য। 
সম্প্রতি লন্ডনে কমনওয়েলথ সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে তাঁরা কথা বলেছেন। তিস্তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। কিন্তু আশান্বিত হওয়ার মতো কোনো বার্তা আমাদের কাছে পৌঁছেনি। এছাড়া গত শনিবার কলকাতার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একান্তে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তিতে আপত্তি জানানোর পর এটাই শেখ হাসিনা এবং মমতার প্রথম একান্ত বৈঠক। এদিনের বৈঠককে মমতা সৌজন্যমূলক আখ্যা দিলেও দুই নেত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে বলে জানা গেছে। বৈঠক শেষে মমতা বলেছেন, তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। তবে দুই নেত্রীর এই বৈঠকে তিস্তার পানি বণ্টনের বিষয়টি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা সে সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি। তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি মমতার আপত্তিতেই আটকে আছে। ভারত সরকার চুক্তিতে আগ্রহী হলেও যুক্তরাষ্ট্রীয় বাধ্যবাধকতার খাতিরে তারা মমতাকে বারে বারে বোঝানোর চেষ্টা করেছে। এমনকি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বাধ্যবাধকতার কথাও তাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মমতা তার আগেকার অবস্থানেই অনড় রয়েছেন। তিনি মনে করেন, তিস্তাতে এখন পর্যাপ্ত পানিই নেই।
এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে যৌথভাবে নবনির্মিত বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধনকালে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের এখনো কিছু সমস্যা রয়েছে, যা আমি এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশের স্বার্থে এখানে তা উত্থাপন করতে চাই না। অবশ্য আমি বিশ্বাস করি যে বন্ধুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে যে কোন সমস্যার সমাধান করা যায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ৯ বছরে বিভিন্ন খাতে দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তিনি তাঁর দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে, পারস্পরিক সহযোগিতা পূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারত আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সাধনে সক্ষম হবে। 
তিস্তা চুক্তি না হওয়ায় ভারতও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ট্রানজিট সুবিধা আটকে আছে। পারস্পরিক স্বার্থেই দ্রুত এ ব্যাপারে সমঝোতায় আসা জরুরি। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে যোগাযোগ অবকাঠামো যত এগোবে সব দেশই তত বেশি উপকৃত হবে। উপ-আঞ্চলিক সমৃদ্ধি তত দ্রুত এগিয়ে যাবে। এ কারণে দেশগুলোর মধ্যে যে আস্থার পরিবেশ বিদ্যমান, তা ধরে রাখতে হবে এবং একে আরো শক্তিশালী করতে হবে। আমরা আশা করি, দুই প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব সেভাবেই এগিয়ে যাবে এবং দুই দেশের সম্পর্ক উত্তরোত্তর আরো শক্তিশালী হবে। এতে নিকট ভবিষ্যতেই আমরা তিস্তা চুক্তির সুসংবাদটি পেয়ে যাব।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ









পরিবেশ দূষণ রোধে পদক্ষেপ নিন

পরিবেশ দূষণ রোধে পদক্ষেপ নিন

০৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০৫



বাল্য বিয়ে রোধে সচেতনতা জরুরী

বাল্য বিয়ে রোধে সচেতনতা জরুরী

০১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:১০


ব্রেকিং নিউজ

নগরীতে ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণহীন 

নগরীতে ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণহীন 

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০৫

ইসিতে মতবিরোধ স্পষ্ট

ইসিতে মতবিরোধ স্পষ্ট

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০৬

ক্রিমিয়ার কলেজে হামলায় নিহত ১৮

ক্রিমিয়ার কলেজে হামলায় নিহত ১৮

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০৪



শেখ রাসেলের ৫৪তম জন্মদিন আজ

শেখ রাসেলের ৫৪তম জন্মদিন আজ

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০৩