খুলনা | সোমবার | ২৩ জুলাই ২০১৮ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৫ |

প্রশ্নপত্র ফাঁস জাতির সর্বনাশ

১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ০০:২৬:০০

প্রশ্নপত্র ফাঁস জাতির সর্বনাশ


পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রশ্নপত্র ফাঁস, এখন দেশের সাধারণ ও নিত্যনৈমত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। চাকুরির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র থেকে শুরু করে কোমলমতি শিশুদের ক্ষেত্রেও এটি একটি সাধারণ ও অনিবার্য ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বছরের এস এস সি পরীক্ষার কয়েকটি বিষয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের মধ্যদিয়ে ব্যাপারটি আবারও সবার নজরে আসে। গত বছর মেডিকেল ও ডেন্টাল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগের মাধ্যমে বিষয়টির বিরুদ্ধে সবার ক্ষোভ পরিলক্ষিত হয়েছে। সবাই তখন প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়নের তাগাদা দিয়েছিলেন। কিন্তু একে বড় অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে লঘু। অথচ ১৯৮০ সালে এই বিধান ছিল ১০ বছরের কারাদণ্ড। যদিও ওই সময়ে এত বেশি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটত না। বর্তমানে মহামারীতে পরিণত হয়েছে। তবু এর শাস্তি মাত্র চার বছর জেল। এতে অপরাধীরা বরং উৎসাহিত হবে। ২০১৩-২০১৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন পরীক্ষায় মোট ৬৩ বার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। ২০১১-২০১৬ পর্যন্ত মোট ১৯২টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়, বরং দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৯ সালে ম্যাট্টিকুলেশন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সর্বপ্রথম স্বাধীন বাংলাদেশে ফাঁস হয়। সে থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের যে সূর্য উদিত হয়েছে তা এখনও অস্ত যায়নি। আমাদের ধারনা দৃষ্টান্তমূলক কোন শাস্তি না দেওয়ায় এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি। আবার এ ধরনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অনেকে হয়েছে কোটিপতি। বিনা পরিশ্রমে আর বিনা কষ্টে কোটিপতি হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস আর সেই প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা নেয়া হলে শিক্ষার্থীদের লেখপড়ার প্রতি মনোযোগ কমে যাবে।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ