মহানগরীসহ খুলনা জেলায় মাদক সংশ্লিষ্টদের তালিকাও দীর্ঘ 


মাদকের তালিকাভুক্ত ব্যবসায়ী, ডিলার, পৃষ্ঠপোষক ও আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় উঠেছে। ফেসবুক, ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ প্রসঙ্গে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। তাছাড়া মহানগরসহ খুলনা জেলা পর্যায়ে মাদক বিক্রেতাদের তালিকা অনেক লম্বা। তবে খুলনায় মাদকের ভয়াবহতা থাকলেও সম্প্রতি সময়ে সারাদেশে চলমান সাঁড়াশি অভিযানের কোন ছোঁয়া এখানে লাগেনি। 
মাদকের ব্যবসায়ী, ডিলার, চোরাকারবারী, পৃষ্ঠপোষক ও আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থার একটি প্রতিবেদনের সূত্রে জানা গেছে, খুলনা জেলায় মাদকের ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারি রয়েছে ১১৮ জন, এদেরকে নানাভাবে সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে ১২ জন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধি, এ সকল মাদক বিক্রেতাদের সাথে সখ্যতা রয়েছে জেলা পুলিশের ১২ জন সদস্য। 
মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারিদের তালিকায় খুলনা মহানগরীতে ১৫৪ জনের নাম রয়েছে। এদের পৃষ্ঠপোষক ও আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা হিসেবে নাম রয়েছে ২৮ জনের। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ২৮ জন সদস্যর নাম এসেছে এ সকল মাদক কারবারিদের সাথে সখ্যতা রাখার অভিযোগে। 
গোয়েন্দা সংস্থার ওই প্রতিবেদনে খুলনা জেলায় মাদক প্রবেশের রুট হিসেবে বলা হয়, সাতক্ষীরা জেলা থেকে চুকনগর এবং সীমান্তবর্তী জেলা যশোর থেকে কেশবপুর হয়ে চুকনগর ও অভয়নগর হয়ে ফুলতলায় প্রবেশ করে। এছাড়া যশোরের বেনাপোল থেকে কমিউটার ট্রেন’র মাধ্যমে খুলনায় মাদক প্রবেশ করে। 
প্রতিবেদনে খুলনা জেলার বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ে মাদক বিক্রির স্পট হিসেবে কমপক্ষে ৪০টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে তেরখাদা উপজেলার শেখপুরা বাজার, কাচিকাটা গ্রাম, তেরখাদা সদর, তেরখাদা বাজার, পশ্চিম কাটেঙ্গা ও নগরকান্দি। দাকোপ উপজেলার আচাভূয়া বাজার, চালনা বাজার, মোহাম্মদ আলী স্কুল ও বিল্লালিয়া আমিনিয়া মাদ্রাসার সামনে, বৌমার গাছতলা, বাজুয়া চুনকুড়ি বাধগ্রাম, বানিয়াশান্তা পতিতা পল্লী। পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি বাজার, বান্দিকাটি, চাঁদখালী বাজার, গদাইপুর গ্রাম। কয়রা উপজেলার গোবিন্দপুর ও আমাদী গ্রাম। বটিয়াঘাটা উপজেলার কৈয়া বাজার ও হাটবাটি গ্রাম। দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি এপেক্স স্কুলের পেছন থেকে কাদাবন পর্যন্ত, হাজীগ্রাম পুলের পাড়, দেয়াড়া কলোনী। রূপসা উপজেলার শিরগাতি গ্রাম, কাজদিয়া, ডোবাগ্রাম অন্যতম। এছাড়া প্রতিবেদনে কেএমপি’র ৮ থানার কমপক্ষে ৫০-৬০টি মাদকের স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। 
খুলনা জেলা ও নগরের মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে তা জানতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা কৌতূহল দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের মতামত প্রকাশ করছে সাধারণ মানুষ। তালিকায় থাকা মাদক কারবারিদের প্রতি বিশেষ নজরদারি রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। আর যে সকল পুলিশ সদস্যর নাম পাওয়া গেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলেও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। 
এছাড়া টপ “টেন তালিকায় থাকা” নগরীর শীর্ষ মাদকের চোরকারবারি ও ডিলারদের কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ও মাদক বিরোধী কর্মকান্ডের সার্থে টপটেন তালিকায় নাম থাকা মাদক ব্যবসায়ীদের নাম-পরিচয় ছাপা হলো না। 
এদিকে সম্প্রতি সময়ে মাদকের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় র‌্যাব ও পুলিশের ক্রসফায়ারে ১১ দিনে ৬৯ জন মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। 
 


footer logo

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।