খুলনা | মঙ্গলবার | ২৩ অক্টোবর ২০১৮ | ৮ কার্তিক ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলো সাতক্ষীরার মুক্তামনি 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি | প্রকাশিত ২৪ মে, ২০১৮ ০০:৫৮:০০

রক্তনালীতে টিউমার আক্রান্ত সাতক্ষীরার বহুল আলোচিত মুক্তামনি দীর্ঘদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছে (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন-আমরা তো আল্লাহর এবং আমরা আল্লাহর কাছেই ফিরে যাবো)। গতকাল বুধবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে মুক্তামনি তার নিজ বাড়ি সদর উপজেলার কামারবায়সা গ্রামে মারা যায়। এ খবর জানাজানি হতেই সাতক্ষীরার মানুষ শোকাতুর হয়ে ওঠেন। তাকে এক নজর দেখার জন্য সেখানে পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান, সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ ফরহাদ জামিল ও প্রশাসনসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোক তার বাড়িতে ভিড় জমায়। এদিকে, মুক্তামনির মৃত্যুতে তার পরিবারে চলছে শোকের মাতম। মৃত্যুর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল।
জানা যায়, কামারবায়সা গ্রামের মুদি দোকানী ইব্রাহিম হোসেনের মেয়ে ১৩ বছরের মুক্তামনির দেহে দেড় বছর বয়সে একটি মার্বেলের মতো গোটা দেখা যায়। সেটি পরে বড় আকার ধারণ করে। কয়েক বছর আগে থেকে তার আক্রান্ত ডান হাতটি একটি গাছের ডালের আকার ধারণ করে পচে উঠতে থাকে। এক পর্যায়ে ২০১৭ সালের জুলাই মাসের প্রথম দিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে মুক্তামনির বিরল রোগের কথা প্রচারিত হলে সরকারি উদ্যোগে তাকে ওই বছরে ১১ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল। মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কয়েক দফা অস্ত্রোপচার করে অপসারণ করা হয় তার হাতের অতিরিক্ত মাংস পিন্ড। কয়েক দফা অস্ত্রোপচার শেষে টানা ছয় মাসের চিকিৎসায় খানিকটা  উন্নতি হওয়ায় গত বছরের ২২ ডিসেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এক মাসের ছুটিতে বাড়ি আনা হয় মুক্তামনিকে। এরপর আর ঢামেকে যেতে রাজি হয়নি মুক্তামনি। বাড়িতে আসার পর থেকে তার অবস্থা ক্রমেই অবনতির দিকে যেতে থাকে। তার দেহে নতুন করে পচন ধরে আর পোকা জন্মায়। এমনকি রক্তও ঝরে। দিনে একবার করে তার ড্রেসিং করা হতো। এর মধ্যে বেশ কয়েকবার বার্ন এ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রকল্প পরিচালক ডাঃ সামন্ত লাল সেন ও ডাক্তার শারমিন সুমির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন মুক্তা মনির বাবা ইব্রাহিম হোসেন।  রোজার পর তাকে আবারও ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে নেওয়ার জন্য ডাঃ সামন্ত লাল সেন মুক্তামনির বাবাকে পরামর্শও দিয়েছিলেন।  
মুক্তামনির বাবা ইব্রাহিম হোসেন জানান, গতকাল বুধবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে মুক্তা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। বাদ আছর তার নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। তিনি জানান, মৃত্যুর আধা ঘন্টা আগে পানি চেয়েছিল মুক্তামনি। তারপর ঘুমিয়ে পড়েছিল। এটাই শেষ ঘুম। প্রাণ প্রিয় মেয়ের মৃত্যু যেন কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না মুক্তামনির বাবা ইব্রাহিম হোসেন ও তার মা আসমা খাতুন। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তারা। তাদের আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। এর আগে গত কয়েক দিন ধরেই জ্বরে ভুগছিল সে। তার হাত অনেক ফুলে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিলো। কথাও বলতে পারছিলো না সে। এদিকে সারাদেশব্যাপী আলোচিত মুক্তামনির মৃত্যুতে সাতক্ষীরা জেলাসহ দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





যশোরে সাংবাদিক নোভার  আত্মহত্যা

যশোরে সাংবাদিক নোভার  আত্মহত্যা

২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:৫৬









ব্রেকিং নিউজ





যশোরে সাংবাদিক নোভার  আত্মহত্যা

যশোরে সাংবাদিক নোভার  আত্মহত্যা

২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:৫৬