খুলনা | বুধবার | ২০ জুন ২০১৮ | ৬ আষাঢ় ১৪২৫ |

মাদক নিয়ন্ত্রনে অভিযানের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধও জরুরী

২৪ মে, ২০১৮ ০০:১০:০০

মাদক নিয়ন্ত্রনে অভিযানের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধও জরুরী

মাদকের মরণ নেশায় জিম্মি হয়ে পড়ছে দেশের যুব সমাজ। এক সময় অভিজাত সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে এর আগ্রাসন ছড়িয়ে পড়ছে সমাজের সর্বত্র। সারাদেশের এমন কোনো মহল্লা নেই যেখানে মাদকের মরণ নেশা থাবা বিস্তার করেনি। তবে হতাশার মধ্যে আশার কথা হলো, মাদক নির্মূলে শুরু হয়েছে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম। ইতিমধ্যে র‌্যাব-পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরসহ সব আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তৎপর হয়ে উঠেছে। বিষয়টি ইতিবাচক। তবে মাদক নিয়ন্ত্রনে সামাজিক প্রতিরোধের বিষয়টিও ভাবতে হবে।
‘জঙ্গিবাদ দমনের মতো মাদক নির্মূলেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে’ সম্প্রতি র‌্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দরবারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন ঘোষণার পরই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তৎপর হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে র‌্যাব ও পুলিশের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে প্রায় অর্ধশত মাদক ব্যবসায়ী। অন্যান্য সংস্থাও মাদক নির্মূলকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর তিন সহস্রাধিক মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারী কে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনেছে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে র‌্যাবের প্রায় সবকটি ব্যাটালিয়নের একাধিক টিম মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে। মাদকবিরোধী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়েছে শতাধিক। র‌্যাবের অভিযানের তীব্রতাও বাড়ছে। বিষয়টি ইতিবাচক হলেও এ নিয়ে সমালোচনাও কম হচ্ছে না। বিশেষ করে মাদকের গডফাদারসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার যারা মাদকের সাথে জড়িত এবং যাদের নাম তালিকায় এসেছে তারা আইনের আওতায় না আসায় সচেতন মহল বিষয়টি ভিন্ন চোখে দেখছে। 
দেশে মাদক হিসেবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে ইয়াবা। সরকারি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে মাদকাসক্ত মুক্ত হতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর মধ্যে ৮০ শতাংশ ইয়াবায় আসক্ত। ইয়াবার বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চললেও এর আগ্রাসন থেমে নেই। ইয়াবা মস্তিষ্ককে চরমভাবে উদ্দীপ্ত করে। সেবন করলে তাৎক্ষণিক হৃতস্পন্দন, রক্তচাপ ও শরীরে তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং মস্তিষ্কের কিছু কোষের তাৎক্ষণিক মৃত্যু ঘটে। এ মাদক সেবনে হৃদদূর্বল ব্যক্তিদের হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সহিংস যৌনতাও ইয়াবা সেবনের একটি সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। যদিও এক বছর নিয়মিত এ বড়ি সেবন করলে যৌনক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। প্রতি মাসে দেশে অন্তত ১০ কোটি টাকার ইয়াবা আটক হয়। এ মাদক নেশার আগ্রাসন কতটা যে বিস্তৃত এ পরিসংখ্যান তারই প্রমাণ। যুব সমাজকে এর আগ্রাসন থেকে বাঁচাতে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা দরকার। একই সঙ্গে গড়ে তুলতে হবে সামাজিক প্রতিরোধ। তবেই মরন নেশা মাদক নির্মূল সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করি।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


এলো খুশির ঈদ

এলো খুশির ঈদ

১৫ জুন, ২০১৮ ০০:১০


ফুটপাত দখলমুক্ত রাখুন

ফুটপাত দখলমুক্ত রাখুন

০৭ জুন, ২০১৮ ০০:১১










ব্রেকিং নিউজ









বিশ্বকাপে আজকের খেলা

বিশ্বকাপে আজকের খেলা

২০ জুন, ২০১৮ ০১:০২