খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৬ অগাস্ট ২০১৮ | ১ ভাদ্র ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

মাদক বিরোধী অভিযানে সাধারণ মানুষ খুশি

সহায়তাকারী-প্রশ্রয়দাতা রাজনীতিক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের কি হবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ২২ মে, ২০১৮ ০১:১০:০০

সহায়তাকারী-প্রশ্রয়দাতা রাজনীতিক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের কি হবে?

দেশব্যাপী মাদক বিরোধী অভিযানকে স্বাগত জানাচ্ছে সাধারণ মানুষ। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অসাধু সদস্য, রাজনীতিক ও জনপ্রতিনিধিদের ছত্রছায়ায় গড়ে উঠা মাদক সিন্ডিকেট শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে দিয়েছে মাদক সন্ত্রাস; ওই সিন্ডিকেট প্রতিরোধ করতে না পারলে মাদক নির্মূলে এ বিশেষ অভিযানের সুফল ভেস্তে যাবে বলে অভিমত তাদের। কতিপয় মাদক বিক্রেতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে মাদক সন্ত্রাসের শেকড় উপড়ে ফেলা কতটুকু ফলপ্রসু হবে সে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রেরিত মাদক চোরাকারবারে ও সরবরাহে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে সহায়তাকারীদের তালিকায় খুলনার জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিক, কেএমপি’র ২২ সদস্যসহ প্রভাবশালীদের নাম উঠে আসে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে এসব বিষয়ে ব্যাপক ঝড় উঠেছে।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মুন্সী আবু তৈয়েব ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “মাদক তালিকায় থাকা পুলিশের কি হবে? তাদের ‘ক্রসফায়ার’ হবে কি?” গত ১৫ এপ্রিল এনটিভি’র অনলাইনে প্রকাশিত তার প্রতিবেদনটিও শেয়ার করেছেন তিনি।
জমাদ্দার মুহাম্মদ মাসুম ফেসবুকে লিখেছেন, “মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে র‌্যাব পুলিশের অভিযানকে স্বাগত জানাই। ‘ক্রসফায়ার’র নামে হত্যা করাই ওদের জন্য ন্যায় বিচার বলে আমি মনে করি।”
আওয়ামী লীগ নেতা আবিদ কবির লিখেছেন, “মাদকমুক্ত বাংলাদেশ চাই।”
খুলনার ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আব্দুল্ল¬াহ মোহাম্মদ মুজাহিদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গোপন প্রতিবেদন পোস্ট করে লিখেছেন, “সরকারের তালিকায় থাকা খুলনার এই সকল মাদক ব্যবসায়ী পুলিশদের কি ‘ক্রসফায়ার’ দেওয়া হবে??”
সংশ্লি¬ষ্ট সূত্রমতে, খুলনা মহানগরীসহ জেলায় মাদক ব্যবসায়ীসহ তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা পাঠানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের যুগ্ম-সচিব ফরিদ আহাম্মদ স্বাক্ষরিত ওই তালিকা মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (সুরক্ষা ও জননিরাপত্তা) বিভাগকে নির্দেশনা দেয়া হয়। এরপর সংশ্লি¬ষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে তালিকাটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ে পরিচালক (অপারেশন) গত ১৫ মার্চ ১৭৪ নম্বার স্মারকের ওই তালিকাভুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য খুলনা জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় কর্তৃপক্ষকে আদেশ দিয়েছেন। তালিকাটিতে মাদক বিক্রেতা ও গডফাদারদের পাশাপাশি খুলনার শহর ও গ্রামীণ জনপদে মাদক দ্রব্য প্রবেশের বিভিন্ন রুট এবং কেনাবেচার স্পটের কথাও তুলে ধরা হয়েছে বলে জানা গেছে। তালিকায় ৩৪ জন পুলিশ সদস্য খুলনা জেলা ও মহানগরীতে মাদক চোরাকারবারে পৃষ্ঠপোষকতা ও সহায়তা করছেন বলে উল্লে¬খ করা হয়। তাদের মধ্যে অফিসার ইনচার্জ পদমর্যাদার দুই কর্মকর্তা রয়েছেন। বাকীরা এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল পদে কর্মরত। এদের মধ্যে খুলনা জেলায় ১২ জন এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) ২২ সদস্যের নাম রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো তালিকায় খুলনা সিটি এবং উপজেলা সমূহের ২৭২ জন মাদক বিক্রেতার নাম রয়েছে। যাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তাকারী হিসেবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওইসব সদস্যের নাম তালিকায় উঠে এসেছে।
সূত্রমতে, খুলনা জেলার নয় উপজেলার বিভিন্ন স্থানের ১১৮ জন মাদক বিক্রেতার নাম এই তালিকায় রয়েছে। যাদের মধ্যে রয়েছেন একজন বর্তমান ও একজন সাবেক ইউপি মেম্বার। রয়েছেন এক ইউএনও’র গাড়ি চালক। এদেরকে এক ডজন বিভিন্ন পর্যায়ের ক্ষমতাধর ব্যক্তি আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন। তাদের মধ্যে তিনজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রয়েছেন। বাকীরা উপজেলা পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। অপরদিকে মহানগরীর আট থানা এলাকার ১৫৪ জন মাদক বিক্রেতা তালিকাভুক্ত হয়েছে। ২৮ জন প্রভাবশালী তাদের পৃষ্ঠপোষকতা ও আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন। যাদের মধ্যে আছেন একাধিক জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দল, পরিবহন শ্রমিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতা। ভৌগলিকভাবে খুলনা জেলার অবস্থান সীমান্তবর্তী নয়; সে জন্য সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে তৃণমূলে মাদক পৌঁছায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিকদের ছত্রছায়ায়।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানায়, “আমরা মাদকের মতো ভয়াবহ ব্যাধি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থানকে স্বাগত জানাই, কিন্তু তা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সমূহ যাতে কোনোভাবে বিদ্যমান আইন ও মানবাধিকারের নীতিমালার ব্যত্যয় না ঘটায়, সে ব্যাপারেও অত্যন্ত সতর্ক দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। আমরা চাই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও সে অনুযায়ী নির্দেশনা প্রদান করা হোক।”
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়ক এড. মোমিনুল ইসলাম বলেন, “সন্ত্রাসী বা খুনি একজন ব্যক্তিকে আঘাত বা হত্যা করে; কিন্তু মাদক সন্ত্রাসী একত্রে একটি পরিবার, সমাজ ও দেশকে ধ্বংস করে দিতে পারে। দিচ্ছেও তাই। এজন্য মাদকের সাথে কোন আপোষ নাই। তবে সেই মরণব্যাধি মাদক নির্মূল হতে হবে মানবাধিকার রক্ষা করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে। মাদক বিক্রেতা, সরবরাহকারী ও আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা যেই হোক না কেনো তাদের বিরুদ্ধে সমান শান্তি প্রয়োগ করুন।”
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ












হারে শেষ প্রোটিয়াদের লঙ্কা সফর

হারে শেষ প্রোটিয়াদের লঙ্কা সফর

১৬ অগাস্ট, ২০১৮ ০০:৫৭