খুলনা | মঙ্গলবার | ২৩ অক্টোবর ২০১৮ | ৮ কার্তিক ১৪২৫ |

সোনা ও হুন্ডি পাচার রোধে কার্যকর উদ্যোগ নিন

২২ মে, ২০১৮ ০০:০১:০০

সোনা ও হুন্ডি পাচার রোধে কার্যকর উদ্যোগ নিন


যশোরের বেনাপোল সীমান্ত এলাকা সোনা এবং হুন্ডি পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে চোরাচালানীরা। ইতোমধ্যে চলতি বছর ২৮ কেজি সোনা ও পৌনে ৪ কোটি টাকা আটক হয়েছে। এই সময়ে ২০ জনকে আটক করে বিভিন্ন প্রশাসন। তবে রাঘব বোয়ালরা বরাবরের মত রয়েছে অধরা। অথচ বেনাপোল-হরিদাসপুর উভয় সীমান্তের ৮ কিলোমিটার ‘ফ্রি ক্রাইম জোন’ ঘোষণা করা হয়েছে। এরপরও থেমে নেই সোনা ও হুন্ডি পাচার। বিষয়টি উদ্বেগজনক।
বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বৈধ অবৈধ দু’ভাবেই দীর্ঘদিন ধরে ভারতে পাচার হচ্ছে সোনা। এ অঞ্চলে সোনা পাচারের কৌশলও ভিন্ন। সোনা চোরাচালানের সাথে জড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় কিছু লোকজন। যারা বাহক হিসেবে পরিচিত। গত সাড়ে ৩ মাসে ২৮ কেজি সোনা ও পৌনে ৪ কোটি হুন্ডির টাকা উদ্ধার হলেও ধরা পড়েনি সোনা এবং হুন্ডি পাচারের সাথে জড়িত কোন মহাজন। আর এ সময় ২০ জন বাহককে আটক করলেও অধিকাংশ চালান পরিত্যক্ত হিসেবে ধরা পড়ছে। বিজিবি এবং কাস্টমসের গোয়েন্দা বিভাগ আসামী ও সোনার একাধিক চালান আটক করলেও অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে তারা জামিনে বেরিয়ে এসে নতুন উদ্যোমে মাঠে নেমে পড়ে। কারণ এদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহন তেমন একটা দেখা যায়না।
বেনাপোল বাজারে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেট সোনা পাচারের সাথে জড়িত। স্থানীয় ভাষায় বাহক বা ক্যারিয়ার বেনাপোল বাজার থেকে মাত্র ৩শ’ টাকার বিনিময়ে প্রতিটি সোনার বার পৌছে দেওয়ার দায়িত্ব নেয়। মাঝে মধ্যে নাম মাত্র কিছু চালান আটক হয়। বাকি চালান রয়ে যায় অধরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবশ্য দাবি করেছে তারা সোনা বহন বা পাচারের সাথে জড়িত ৩টি গ্র“পকে ইতোমধ্যে চি‎িহ্নত করেছে। এর মধ্যে প্রথম গ্র“পটি বেনাপোল চেকপোষ্ট দিয়ে পাসপোর্টে যাত্রী সেজে সোনা বহন করে। এরা শরীরের বিভিন্ন অংশে কৌশলে লুকিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বেনাপোল চেকপোষ্ট দিয়ে পাচারের সাথে জড়িত। এছাড়া অবৈধপথে বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে সোনা পাচার করে ভারতে নিয়ে যায় এক শ্রেনীর সোনা বহনকারী। সর্বশেষ কিছু অসাধু সিএন্ডএফ কর্মচারী ও এই সোনা পাচারের সাথে জড়িত।
এক পরিসখ্যানে দেখা গেছে, পাচারের সাথে জড়িত অধিকাংশের বাড়ি ঢাকার উত্তরা, মুন্সিগঞ্জ, বি বাড়িয়া, শরিয়তপুর, গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুর এলাকায়। বেনাপোল বাজারের আশপাশের বিশেষ করে পুটখালী, দৌলতপুর, সাদিপুর, রঘুনাথপুর এবং ঘিবা গ্রামের কিছু লোকজনকে তারা পাচার কাজে ব্যবহার করছে। গ্রামের এ সব হত দরিদ্র লোকজন আটক হওয়ার পর প্রসাশনকে জানায় ৩শ’ টাকার বিনিময়ে তারা পাচারের সাথে জড়িয়ে পড়েছে।
বেনাপোলে এত সোনা কোথা থেকে আসে এ প্রশ্নের উত্তর আইন প্রয়োগকারী কোন সংস্থার কাছেই নেই। আটকরাও কখনো মহাজনদের নাম বলে না কিংবা নাম বের করার কোন চেষ্টাও করে না প্রশাসন। আর এ কারণেই সোনা চোরাচালানীর মূল হোতারা রয়ে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ঢাকার সোনা ব্যবসায়িরাই মূলত এই সোনা পাচারের সাথে জড়িত। আর এই সোনার টাকা হুন্ডির মাধ্যমে দেশে আসে। বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ ও করিডোর থাকায় চোরাচালানীরা সোনা পাচারে এ পথ ব্যবহার করছে। সোনা যাদের কাছে পাওয়া যায়, বিজিবি কেবল তাদেরই আটক করে। পরে সরকারের অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তা তদন্ত করে দেখেন। আমাদের অভিমত সোনা পাচার রোধে গোয়েন্দারা সর্বদা সজাগ দৃষ্টি রাখা জরুরী। বিশেষ করে পাচার কাজে চিহ্নিত গ্র“পগুলোকে কঠোর নজরদারীর আওতায় আনা জরুরী।   যাতে দেশের সোনা পাচার হয়ে বাইরে না যায়। পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলা-বাহিনীর কর্তব্য এ সব সোনা পাচারের মূল হোতাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা। এতে সোনা ও হুন্ডি পাচার কমবে বলে আমরা মনে করি।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

পাটের সুদিন আবার ফিরে আসুক

পাটের সুদিন আবার ফিরে আসুক

২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:১০











পরিবেশ দূষণ রোধে পদক্ষেপ নিন

পরিবেশ দূষণ রোধে পদক্ষেপ নিন

০৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০৫


ব্রেকিং নিউজ





যশোরে সাংবাদিক নোভার  আত্মহত্যা

যশোরে সাংবাদিক নোভার  আত্মহত্যা

২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:৫৬