খুলনা | বুধবার | ২০ জুন ২০১৮ | ৬ আষাঢ় ১৪২৫ |

পেঁয়াজের দর নিয়ন্ত্রনে দ্রুত ব্যবস্থা নিন

২১ মে, ২০১৮ ০০:১০:০০

পেঁয়াজের দর নিয়ন্ত্রনে দ্রুত ব্যবস্থা নিন


পবিত্র মাহে রমজানের শুরু থেকে পেয়াজের দাম বেড়েই চলেছে। অথচ দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকার শুল্কমুক্ত সুবিধায় ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানির সুযোগ করে দিয়েছে। আর রমজান উপলক্ষে পেয়াজ আমদানি দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইতোমধ্যে গত এক সপ্তাহে শুধুমাত্র বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানীকারকরা শুল্কমুক্ত সুবিধায় ১০ হাজার ৭৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানী করেছে। কম দামে এসব পেঁয়াজ আমদানী হলেও এর বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়েনি বাজারে। বরং বাজার নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের  ব্যর্থতায় গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ২০ টাকার পেঁয়াজ বেড়ে এখন ৩২ টাকায় কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। আর এ সুযোগে ৩৫ টাকার দেশি পেয়াজের মূল্য বেড়ে দাড়িয়েছে ৪৮ টাকায়। অতিরিক্ত মুনাফা লোভী সিন্ডিকেটের কারণে অস্বাভাবিকহারে মূল্য বৃদ্ধি ঘটছে। 
নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য পেঁয়াজের বাজার মূল্য ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকার ২০১৬ সালের রোজার আগে পেঁয়াজের উপর আমদানি শুল্ককর প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর থেকে আর শুল্ককর সংযোজন হয়নি। এর আগে ১০ শতাংশ শুল্ক করে পেঁয়াজ আমদানি হতো। তখন কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত খুচরা বাজারে কিনতে হতো সাধারণ ক্রেতাদের। তবে শুল্ককর প্রত্যাহার হলেও অতিরিক্ত লোভে বিক্রেতাদের সিন্ডিকেটের কারণে হঠাৎ করে অস্বাভাবিকহারে মূল্য বেড়েছে পেঁয়াজের। ভারতের রফতানি মূল্যে প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে ২০৫ মার্কিন ডলারে। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রতিটনের মূল্য দাড়ায় ১৭ হাজার ১৫ টাকা। এতে কেজি প্রতি আমদানি খরচ পড়ছে প্রায় ১৮ টাকা। এলসি খরচসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দর পর্যন্ত  পেঁয়াজ পৌঁছাতে খরচ পড়ছে প্রতি কেজি ১৯ টাকা। আমদানি হওয়া পেঁয়াজ বন্দর থেকে পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৩ টাকা। আর খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩২ টাকায়। অবশ্য বিপুল পরিমান পেঁয়াজ আমদানির পরও আমদানিকারকরা বলছেন, পেঁয়াজের চাহিদার তুলনায় আমদানি হচ্ছে কম। এছাড়া গাড়ি ভাড়া বেড়েছে। খরচের উপর নির্ভর করে দাম উঠা-নামা করে। এটা তাদের খোড়া যুক্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। 
রোজার মধ্যে মুসলিমদের খাদ্য তালিকায় পেঁয়াজ অন্যতম। প্রতিবছর এ সময়টিতে সরকারের সঠিক প্রক্রিয়ায় বাজার নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থতায় পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়ে। দাম বাড়বে না বলে সরকার আশ্বাস দিলেও কাজ হয় না। অতিরিক্ত পয়সা কেবল সাধারণ ক্রেতাদের গুনতে হয়।
আমাদের অভিমত, দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে রোজার মধ্যে পেঁয়াজের বাজার আরও ঊর্ধ্বগতি হবে। এতে নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্টের সীমা থাকবে না। শুল্কমুক্ত সুবিধায় যারা পেঁয়াজ আমদানি করছেন তাদের তালিকা ও আমদানি পণ্যের ক্রয় বিক্রয়ের হিসাব সরকারের সংশ্লি¬ষ্ট দফতরে রয়েছে। তারা কি মূল্যে ক্রয় করছেন আর কি মূল্যে বিক্রয় করছেন তা তদারকি করলেই বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আমরা মনে করি।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


এলো খুশির ঈদ

এলো খুশির ঈদ

১৫ জুন, ২০১৮ ০০:১০


ফুটপাত দখলমুক্ত রাখুন

ফুটপাত দখলমুক্ত রাখুন

০৭ জুন, ২০১৮ ০০:১১










ব্রেকিং নিউজ









বিশ্বকাপে আজকের খেলা

বিশ্বকাপে আজকের খেলা

২০ জুন, ২০১৮ ০১:০২