খুলনা | মঙ্গলবার | ২৩ অক্টোবর ২০১৮ | ৮ কার্তিক ১৪২৫ |

চিকিৎসা ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ জরুরী

২০ মে, ২০১৮ ০০:১০:০০

চিকিৎসা ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ জরুরী


দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে চিকিৎসা খাতে বাংলাদেশের মানুষকে নিজের পকেট থেকে সর্বোচ্চ পরিমান অর্থ ব্যয় করতে হয়। বেঁচে থাকার জন্য চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে প্রতি বছর দেশের ১৫ শতাংশ মানুষ অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব-বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ ন্যাশনাল হেল্থ এ্যাকাউন্টের তথ্য অনুসারে, শুধুমাত্র জরুরী চিকিৎসার খরচ যোগাতে গিয়ে বাংলাদেশে বছরে ৬৫ লাখ মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে নেমে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতের এই বাস্তবতা জাতির উন্নয়ন ও অগ্রতির পথে বড় ধরনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দেশের কোটি কোটি মানুষ নানামাত্রিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে এবং চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে তারা যেভাবে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে তা উদ্বেগজনক।
সরকারী হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনার কারণেই দেশে বেসরকারী হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবার প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ ঘটেছে। বর্তমান বাস্তবতায় সরকারী স্বাস্থ্যসেবা খাত এবং বেসরকারী হাসপাতাল ও চিকিৎসা সেবায় যে অনিয়ম-দুর্নীতির মচ্ছব চলছে তার পুরো দায় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। চিকিৎসকদের যথেচ্ছ ভিজিট ফি আদায়, অপ্রয়োজনীয় ডায়াগনস্টিক টেস্টের কমিশন বাণিজ্য, ওষুধ কোম্পানীগুলোর যত্রতত্র ওষুধের মূল্য বৃদ্ধি এবং অপ্রয়োজনীয় ও ভুল চিকিৎসার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অথচ এ সব ক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের দায় রয়েছে। সরকারী বেসরকারী হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের দুর্নীতি বন্ধ করতে দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে সরকারের কাছে দেয়া সুনির্দ্দিষ্ট প্রস্তাব অনুসারে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় ও অধিদফতরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়ার পরও তা বাস্তবায়নের কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি। দুর্নীতি বন্ধে ডাক্তারদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস ও ফি নির্ধারণে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ণ করা, সরকারী হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা, গণসচেতনতা সৃষ্টির জন্য নিয়মিত গণশুনানীর ব্যবস্থা করা, ওষুধ ও মেডিকেল যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা এবং দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্যবীমা পলিসির ব্যবস্থা করতে সুপারিশ করে দুদক।
অনিয়ম-দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও মাত্রাতিরিক্ত মুনাফাবাজির কারণে অনেক মানুষ দেশের হাসপাতাল ও চিকিৎসা সেবার প্রতি আস্থা হারাচ্ছে। অনেকে শেষ সম্বল বিক্রি করে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে বাধ্য হচ্ছে। অথচ দেশে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসক এবং হাসপাতাল রয়েছে। একশ্র্রেনীর ডাক্তার ও সরকারী-বেসরকারী হাসপাতালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনৈতিক মুনাফাবাজি, বাণিজ্যিক ও অপেশাদার মনোভাবের কারণে দেশের পুরো স্বাস্থ্যখাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার সুযোগ বৃদ্ধি এবং চিকিৎসাপ্রার্থী নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বেসরকারী হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবাখাতে বিদ্যমান স্বেচ্ছাচার, অনিয়ম, দুর্নীতি বন্ধ করা গেলে দেশের স্বাস্থ্যখাতের চেহারাই পাল্টে যেতে পারে।
আমাদের অভিমত দেশের বিশাল সংখ্যক মানুষকে রুগ্ন ও অসুস্থ্য রেখে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। কোটি মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ের অর্থ দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটেড মুনাফাবাজির মাধ্যমে দুর্নীতিবাজদের পকেটে যাওয়ার সুযোগ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। রাজধানীর বাইরের স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে দায়িত্ব প্রাপ্ত চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসকদের রাজনৈতিক দলবাজি বন্ধে রাজনৈতিক নিয়োগ বন্ধ করতে হবে। হাসপাতালের চিকিৎসা যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষন ও সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সাথে ডাক্তারদের কমিশন বাণিজ্য, ওষুধ বাণিজ্য বন্ধের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের সাথে সাথে তার যথাযথ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। সুস্থ্যভাবে বেঁচে থাকা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এ অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

পাটের সুদিন আবার ফিরে আসুক

পাটের সুদিন আবার ফিরে আসুক

২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:১০











পরিবেশ দূষণ রোধে পদক্ষেপ নিন

পরিবেশ দূষণ রোধে পদক্ষেপ নিন

০৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০৫


ব্রেকিং নিউজ





যশোরে সাংবাদিক নোভার  আত্মহত্যা

যশোরে সাংবাদিক নোভার  আত্মহত্যা

২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:৫৬