খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৮ অক্টোবর ২০১৮ | ২ কার্তিক ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

বহিষ্কারের মূল কারণ ‘পাঁচ কাঠা জমি’

খুলনায় জাপা ধ্বংসের মূলে সুনীল শুভ রায় : মুশফিক

আশরাফুল ইসলাম নূর | প্রকাশিত ১৯ মে, ২০১৮ ০০:৫০:০০

জাতীয় পার্টির মহানগর শাখা সদস্য সচিব (বহিস্কৃত) এস এম শফিকুর রহমান ওরফে মুশফিক বলেছেন, “সুনীল শুভ রায়কে নগর জাতীয় পার্টির যুগ্ম-আহ্বায়ক খায়রুল শহরের মধ্যে থেকে পাঁচ কাটা জমি দেবার প্রতিশ্র“তি দিয়েছে। তার বিনিময়ে খায়রুলকে এখানকার আহ্বায়ক বা সভাপতি বানিয়ে দিবেন। এছাড়া নগদ অর্থও দিয়েছে খায়রুল। সুনীল শুভ রায় বিভিন্ন সময়ে আমার কাছ থেকে ২০ থেকে ২২ লাখ টাকা নিয়েছেন। খুলনায় জাতীয় পার্টি ধ্বংসের মূল কারণ সুনীল শুভ রায়। সারাদেশে জাতীয় পার্টির পদ-পদবী বিক্রি করাই তার মূল কাজ। গতকাল শুক্রবার সকালে সময়ের খবর’র সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি কেসিসি’র নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী দিয়ে এক হাজার ৭২ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছে। যদিও জাতীয় সংসদে জোরালো প্রতিপক্ষ এবং রংপর সিটি নির্বাচনে জনপ্রতিনিধিত্ব রয়েছে দলটির। তবে খুলনায় জাতীয় পার্টি ধ্বংসের পেছনে কলকাটি নাড়ছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়। দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্ত অমান্য করে খুলনা-১ আসনে প্রার্থিতা বহাল রাখায় ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির এই প্রেসিডিয়াম সদস্যকে খুলনায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছিল।
সাক্ষাৎকারে এস এম মুশফিকুর রহমান বলেন, “জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের (এরশাদ) নামে প্রকাশিত আটটা বই সুনীল শুভ রায়ের লেখা। এরশাদ স্বৈরাচার যে কথাটা বিলুপ্ত করার জন্যে তার নামে বিভিন্ন বই, পত্র-পত্রিকায় যত কবিতা ও লেখনীয় সব সুনীল শুভ রায়ের লেখা। সাধারণ মানুষ মনে করেন ওইগুলো চেয়ারম্যানের লেখা।
তাকে বহিষ্কারের মূল কারণ দু’টি বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেছেন, “আমাকে বহিষ্কারের মূল কারণ হচ্ছে ওই পাঁচ কাটা জমি এবং খুলনায় জাতীয় পার্টিতে চরম সমন্বয়হীন পরিস্থিতির সৃষ্টি করে সুনীল শুভ রায়। এসব অপকর্ম ঢাকতেই আমাকে পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সুনীল শুভ রায় আমাদের সাথে বলে এক ধরনের আর তলে তলে কাজ করেছেন অন্য টাইপের। মূলত, জাতীয় পার্টি কোন মোরগ পছন্দ করে না, মুরগী পছন্দ করে। মুরগী যেটা সেটাই জাতীয় পার্টি ভালবাসে।”
সদ্য বহি®কৃত জাপা নেতা মুশফিক বলেন, “একটা জনসমর্থিত দল, এরশাদ সাহেবের দীর্ঘদিনের বহু কর্মকান্ড ছিল যা জনগণ লুফে নিতো। এই প্রজন্ম এরশাদকে জেনে না, আমি খুলনায় তাকে চেনানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। এখানে ভোট কত পেয়েছি সেটা মূখ্য বিষয় নয়; মূখ্য বিষয় হলো মাঠে কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি টিকে ছিলাম। শেষ পর্যন্ত আমি ওয়ার্ক করে গেছি। এ সময়ে খুলনায় জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা চাঙ্গা ছিল। তার পুরস্কার কি এইটা? হ্যাঁ, আমার ভুলে যদি কোন ঘটনা ঘটে থাকে; তাহলে তদন্ত হোক। জানুন, জানান, জানাও বোঝান; হুট করেই কাউকে বহিষ্কার করতে হবে? ধরুন-আপনার ভাই গাছ থেকে পড়ে গেছে, আপনি গিয়ে তাকে গলা টিপে ধরবেন? একটা দল কি পরিচয় দিলো এটা। আমারে যে তোমরা খারাপ বলো! জাতীয় পার্টি এটা কিসের পরিচয় দিলো?” জাতীয় পার্টিতে থাকবেন কি না এ ব্যাপারে এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানান মুশফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, “আমার সাথে কোন শীর্ষ নেতা যোগাযোগও করেননি। নির্বাচনের পরদিন সুনীল শুভ রায় আমাকে কল করে বলেন, আপনি (মুশফিক) অব্যাহতি নেন। আমি বললাম কেন, অব্যাহতি দিতে বাধ্য হবো। আমি জিজ্ঞাসা করলাম এটি কার নির্দেশনা? তিনি বললেন, “চেয়ারম্যান সাহেবের। আমি বললাম অসম্ভব, তিনি হার্ডলাইনের সিদ্ধান্ত নেন না। এটা আপনার বক্তব্য। এ সময় আমি তাকে বলেছিলাম-আপনার চরিত্র কিন্তু আমি উন্মোচন করে দেবো।”
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায় সময়ের খবরকে বলেছেন, “সে এখন জাতীয় পার্টি থেকে বিতাড়িত। তাই সে কি বললো তা নিয়ে কোন মন্তব্য করতে চাই না। তালাক দেয়া বৌ সম্পর্কে তো মন্তব্য করতে নেই।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ২০১৭ সালের ২৮ জানুয়ারি ঢাকায় আনুষ্ঠানিক ভাবে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে এস এম মুশফিকুর রহমান জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ তাকে কেসিসি’র মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেন। সে কারণে মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষস্থানীয় ২৬ নেতা একযোগে পদত্যাগ করেন। এরপর মুশফিককে করা হয় নগর জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব আর আহ্বায়ক করা হয় সুনীল শুভ রায়কে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নব্বইয়ের দশকে ছাত্রদলের রাজনীতি দিয়ে হাতে খড়ি হয় মুশফিকের। ১৯৯৫ সালের ২৫ এপ্রিল মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হন তিনি। এরপর খুলনা থেকে মুশফিক নিরুদ্দেশ হয়ে যান। পরের ২২ বছর ঢাকায় নিভৃতবাস করেন মুশফিক। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাগেরহাট-১ আসনে বিএনপি’র মনোনয়নে বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ হেলাল উদ্দিনের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। পরে আবার আড়ালে চলে যান। দীর্ঘ বিরতির পর আবার খুলনা জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে কিছুটা সরব হন মুশফিক।

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন






ব্রেকিং নিউজ




শারদীয় দুর্গোৎসবের  আজ মহানবমী

শারদীয় দুর্গোৎসবের  আজ মহানবমী

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:৪৯