খুলনা | শুক্রবার | ১৭ অগাস্ট ২০১৮ | ২ ভাদ্র ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

টিকে থাকতে উপায় খুঁজছে কেন্দ্র 

খুলনায় অস্তিত্ব সংকটে জাপা

বি. হোসেন | প্রকাশিত ১৯ মে, ২০১৮ ০০:৫০:০০

আবারও অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে নগর জাপা। কেসিসি নির্বাচনে চরম হতাশাজনক ফলাফলের পরে নগর কমিটি বিলুপ্ত এবং মেয়র প্রার্থী মুশফিককে দল থেকে অব্যাহতি প্রদানের পর এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। নগর জাপার হাল ধরার জন্য এরই মধ্যে কেন্দ্র থেকে সদ্য পদত্যাগকারী নেতাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারাও  দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করেছে বলে জানা  গেছে। তাই নগর জাপার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই এখন উপায় খুঁজছে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটি।
দলীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, রব-কাশেম কমিটির পর নগর জাপার হাল ধরেন সাবেক এমপি আলহাজ্ব আব্দুল গফ্ফার বিশ্বাস ও মোল্ল¬া মজিবর রহমানের  নেতৃত্বাধীন কমিটি। গফ্ফার বিশ্বাসের পদত্যাগের পর থেকে সাবেক এমপি আলহাজ্ব মোঃ আবুল হোসেন-এর নেতৃত্বেই চলছিলো নগর জাপা। কিন্তু জাতীয় রাজনীতিতে দলের চেয়ারম্যানের নানান হটকারী সিদ্ধান্তে একের পর এক বিব্রত পরিস্থিতিতে পড়তে হয় নগর জাপাকে। স্থানীয় রাজনীতিতে ইমেজ সংকটে পড়ে জাপা। হঠাৎ করে জাপার নগর সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মুশফিকুর রহমান গত বছরের ২৮ জানুয়ারি জাতীয় পার্টিতে যোগ দিলে ক্ষোভে ফেটে পড়ে খুলনা জাপার তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। বিরোধ চরম রূপ নেয় যখন এই মুশফিককেই কেসিসি’র মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেন দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ। গেল বছরের ১৪ মার্চ খুলনায় এসে মুশফিককে মেয়র প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়ার আগের দিন একযোগে পদত্যাগ করেন নগর জাপার অধিকাংশ নেতা। ওই দিন নগর শাখার সভাপতি শেখ আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলাম ও যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যাপক গাউসুল আজম দল থেকে পদত্যাগ করেন। একই দিন দল থেকে ত্যাগ করে আওয়ামী লীগে যোগ দেন নগর কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক এম এ আল মামুন, সদস্য কাজী শরিফুল ইসলাম, সোনাডাঙ্গা থানা জাতীয় পার্টির সভাপতি সাইফুল আলমসহ অনেক নেতা-কর্মী। এরপরে আর নগরীতে জাতীয় পার্টি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এর মধ্যে গত ১৫ মে অনুষ্ঠিত কেসিসি নির্বাচনে জাপা মনোনীত মেয়র প্রার্থী ১ হাজার ৭২ ভোট পেয়ে লজ্জাজনক হারের পর আবারও এক দফা সংকটে পড়েছে দলটি। নির্বাচনের পরেই গত ১৬ মে কেন্দ্রীয় কমিটির এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দলের মহানগর কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে এবং গতকাল মেয়র প্রার্থী ও বর্তমান কমিটির সদস্য সচিব মোঃ মুশফিককে দল থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। ফলে এখন নগর জাপার হাল ধরবে কে এই প্রশ্ন আসছে বারবার।
নগর কমিটির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ আবুল হোসেন সময়ের খবরকে বলেন  ‘এরশাদ সাহেব নিজেই খুলনার জাতীয় পার্টির কবর দিয়ে দিয়েছে। একটা খুনি চরিত্রহীনকে খুলনার রাজনীতিতে নিয়ে এসে মেয়র প্রার্থী করেছে। তাই খুলনার মানুষ জাতীয় পার্টিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। আমাকে চেয়ারম্যান ও মহাসচিব বলেছে এখন দলের হাল ধরতে কিন্তু আমি তাতে রাজি নই। আমি এখন জাতীয় পার্টির হাল ধরলে আমাকেই মানুষ প্রত্যাখ্যান করবে। এই মুহূর্তেতো দূরে থাক কোনদিন জাতীয় পার্টি করব কিনা সন্দেহ রয়েছে।’ 
নগর কমিটির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল গফ্ফার বিশ্বাস সময়ের খবরকে বলেন ‘এখন জাতীয় পার্টির সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। তবে জাতীয় পার্টি যতদিন আওয়ামী লীগের লেজুর হয়ে থাকবে ততদিন এই দল অস্তিত্ব সংকটে ভুগবে। স্বাতন্ত্রবোধ নিয়ে মানুষের কল্যাণে একক ভাবে কাজ শুরু করতে পারলেই নেতৃত্ব যেই থাকুক না কেন এই সংকটের উত্তরণ ঘটবে।’
জেলা জাপার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব এস এম শফিকুল ইসলাম মধু বলেন, ‘জাতীয় পার্টি একটি বড় রাজনৈতিক দল। দলের প্রয়োজনে কমিটি গঠন করা হয় আবার দলের প্রয়োজনেই কমিটি ভাঙা হয়। অতি শিগগিরই উপযুক্ত ব্যক্তিদের দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।’
এ ব্যাপারে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও নগর কমিটির আহ্বায়ক সুনীল সুভ রায় বলেন ‘আমি পার্টির খুলনা নগর কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলাম। আমি স্যারকে (দলের চেয়ারম্যান) বলেছি আমি এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাই। তাই আমাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এখন তারাই দলকে আবার পুনর্গঠনের দায়িত্ব পালন করবেন।’
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





খুলনা-৪ আসনে নৌকার মাঝি কে?

খুলনা-৪ আসনে নৌকার মাঝি কে?

০১ অগাস্ট, ২০১৮ ০২:৩০









ব্রেকিং নিউজ











ফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা

ফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা

১৭ অগাস্ট, ২০১৮ ০১:০২