খুলনা | শুক্রবার | ১৭ অগাস্ট ২০১৮ | ২ ভাদ্র ১৪২৫ |

দান গ্রহনকালে পদদলনে মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত হোক

১৯ মে, ২০১৮ ০০:১০:০০

দান গ্রহনকালে পদদলনে মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত হোক


রোজা শুরুর আগেই শত শত মানুষকে বাড়িতে ডেকে এনে দান, ইফতার সামগ্রী বা জাকাতের কাপড় বিতরণের আড়ম্বর আয়োজন করা আমাদের সামাজিক রীতিতে পরিণত হয়েছে। অথচ এই দান আর ইফতার সামগ্রী নিতে গিয়ে আমাদের দেশে প্রতি বছর জীবন দিতে হচ্ছে অসংখ্যা মানুষকে। যার শেষ ঘটনাটি ঘটে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার নলুয়া ইউনিয়নের পূর্ব গাটিয়াডাঙ্গায়। রোজা শুরুর তিন দিন আগে এখানে দেশের একটি নামকরা শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক স্থানীয় মাদ্রাসার মাঠে ইফতার সামগ্রী চাল, চিড়া ও চিনি ছাড়াও শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণের ব্যবস্থা করেছিলেন। বিপুলসংখ্যক দরিদ্র, দুস্থ নারী-পুরুষ ও শিশু ইফতার সামগ্রী নিতে এলে হুড়োহুড়ির মধ্যে নারী শিশুসহ ৯ জন পদদলিত হয়ে মারা যায়। অনেকেই আহত হন। বিষয়টি উদ্বেগজনক।
উল্লে¬খ করা প্রয়োজন, দান গ্রহনকালে আমাদের দেশে পদদলীত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়। ওই প্রতিষ্ঠানের ইফতার সামগ্রী বিতরণকালে ২০০৬ সালেও পদদললিত হয়ে পাঁচজন মারা যায়। গত বছরের ডিসেম্বরে চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতে পদদলিত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু ঘটে। এভাবে পদদলনে আর কত মানুষকে জীবন দিতে হবে? প্রতিষ্ঠানটির গত সোমবারের ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ৩ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলেছে। কিন্তু কোনো জীবনকেই টাকার অঙ্কে মাপা যায় না।
বলা হয়ে থাকে, দান এমনভাবে করা উচিত যাতে ডান হাত দিয়ে দান করলে বাঁ হাতও যেন টের না পায়। আর কেউ রোজাদারদের জন্য ইফতারসামগ্রী বিতরণ করতেই পারেন। কিন্তু সেই ইফতার সামগ্রী বিতরণের নামে মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার অধিকার কারও নেই। এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার আগে অতীতের অভিজ্ঞতা যেমন বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল, তেমনি দরকার ছিল দান আয়োজনের যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
যে প্রতিষ্ঠানটি সাতকানিয়ায় এই ইফতারসামগ্রী বিতরণের আয়োজন করেছে, তারা এই মৃত্যুর দায় এড়াতে পারে না। তাদের ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কারণেই এতগুলো জীবন চলে গেল। আরও বেদনাদায়ক হলো, প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা প্রথমে পদদলনের কথা স্বীকারই করেননি। হিট স্ট্রোক ও শ্বাসকষ্টে ইফতার প্রার্থীরা মারা গেছেন বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। এ ধরনের অবস্থান নিহত মানুষগুলোর প্রতি নিষ্ঠুরতা ছাড়া কিছু নয়। সাতকানিয়ার ঘটনা যে নির্মম সত্যটি তুলে ধরে তা হলো, বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে যাত্রা করলেও এখনো গরিষ্ঠসংখ্যক মানুষ সেই সড়কের বাইরে আছে।
দান সব সময়ই গৌরবের। কিন্তু সেই দানকে কেন্দ্র করে যদি এভাবে মানুষের মৃত্যু ঘটে, সেটি কেবল দানের অগৌরব নয়, মানবতার প্রতি চরম অবমাননাও। জীবনের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণের সামর্থ্য নেই বলেই দূর-দূরান্ত থেকে গিয়ে মানুষ ইফতারসামগ্রী ও জাকাতের জন্য এই মাত্রায় মরিয়া হয়ে ওঠে। আমরা মনে করি, দানের নামে এ ধরনের আড়ম্বর আয়োজন বন্ধ হওয়া উচিত। পাশাপাশি এভাবে এতগুলো মৃত্যুর ঘটনার যথাযথ তদন্ত এবং কোনো গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন জরুরী।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

দৃশ্যমান হলো রূপসা রেল সেতু 

দৃশ্যমান হলো রূপসা রেল সেতু 

১৭ অগাস্ট, ২০১৮ ০০:১০


‘রক্তে ভেজা পনেরই আগস্ট‘

‘রক্তে ভেজা পনেরই আগস্ট‘

১৫ অগাস্ট, ২০১৮ ০০:০০


নৌপথ নির্বিঘœ রাখার উদ্যোগ নিন 

নৌপথ নির্বিঘœ রাখার উদ্যোগ নিন 

১৩ অগাস্ট, ২০১৮ ০০:১০




অভিযানের মধ্যেও মিলছে মাদক

অভিযানের মধ্যেও মিলছে মাদক

০৮ অগাস্ট, ২০১৮ ২৩:২৫





ব্রেকিং নিউজ











ফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা

ফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা

১৭ অগাস্ট, ২০১৮ ০১:০২