খুলনা | শুক্রবার | ২২ জুন ২০১৮ | ৯ আষাঢ় ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

চলতি বছর ২৮ কেজি সোনা ও পৌনে ৪ কোটি টাকা আটক

সীমান্তের ৮ কিলোমিটার ‘ফ্রি ক্রাইম জোন’ এখন সোনা ও হুন্ডি পাচারের নিরাপদ রুট

বেনাপোল প্রতিনিধি  | প্রকাশিত ১৮ মে, ২০১৮ ০১:১৫:০০

যশোরের বেনাপোল সীমান্ত এলাকা সোনা এবং হুন্ডি চোরাচালানীরা নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। বেনাপোল-হরিদাসপুর উভয় সীমান্তের ৮ কিলোমিটার ‘ফ্রি ক্রাইম জোন’ এলাকা ঘোষণা করলেও থেমে নেই সোনা ও হুন্ডি পাচার। গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ১৬ মে পর্যন্ত ১৩ দফায় প্রায় ২৮ কেজি সোনা আটক হয়েছে। পাশাপাশি একই সময়ে ১১ টি অভিযানে প্রায় পৌনে ৪ কোটি হুন্ডির টাকা আটক হয়েছে। এই সময়ে ২০ জনকে আটক করে বিভিন্ন প্রশাসন।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বৈধ অবৈধ দু’ভাবেই দীর্ঘদিন ধরে ভারতে পাচার হচ্ছে সোনা। বেনাপোল অঞ্চলে সোনা পাচার হয় বিভিন্ন কৌশলে। বিজিবি এবং কাস্টমসের গোয়েন্দা বিভাগ আসামি ও সোনার  একাধিক চালান আটক করলেও অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে জামিনে বেরিয়ে আসে তারা। এদিকে সোনা চোরাচালানের সাথে জড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় কিছু লোকজন। যারা বাহক হিসেবে পরিচিত। গত সাড়ে ৩ মাসে ২৮ কেজি সোনা ও পৌণে ৪ কোটি হুন্ডির টাকা উদ্ধার হলেও ধরা পড়েনি সোনা এবং হুন্ডি পাচারের সাথে জড়িত কোন মহাজন। কিন্তু এ সময় ২০ জন বাহককে আটক করে বিজিবি, বিএসএফ ও কাস্টমসের গোয়েন্দা সদস্যরা। 
সুত্র জানায়, বেনাপোল বাজারে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেট সোনা পাচারের সাথে জড়িত। স্থানীয় ভাষায় বাহক বা ক্যারিয়ার বেনাপোল বাজার থেকে মাত্র ৩শ’ টাকার বিনিময়ে প্রতিটি সোনার বার পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নেয়। মাঝে মধ্যে নাম মাত্র কিছু চালান আটক হয়। বাকি চালান রয়ে যায় অধরা। কাস্টমস, বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোনা বহন বা পাচারের সাথে জড়িত ৩টি গ্র“পকে ইতোমধ্যে  চিহ্নিহ্নত করা গেছে। প্রথম গ্র“পটি বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টে যাত্রী সেজে সোনা বহন করে থাকে। এরা শরীরের বিভিন্ন অংশে কৌশলে লুকিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে পাচারের সাথে জড়িত। এছাড়া অবৈধপথে বিজিবি’র চোখ ফাঁকি দিয়ে সোনা পাচার করে ভারতে নিয়ে যায় এক শ্রেণীর সোনা বহনকারী। সর্বশেষ কিছু অসাধু সিএন্ডএফ কর্মচারী ও এই সোনা পাচারের সাথে জড়িত।
এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে পাচারের সাথে জড়িত অধিকাংশদের বাড়ি ঢাকার উত্তরা, মুন্সিগঞ্জ, বি. বাড়িয়া, শরিয়তপুর, গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুর এলাকায়। বেনাপোল বাজারের আশপাশের বিশেষ করে পুটখালী, দৌলতপুর, সাদিপুর, রঘুনাথপুর এবং ঘিবা গ্রামের কিছু লোকজন এ কাজের সাথে জড়িত।  গ্রামের হত দরিদ্র শ্রেণীর কিছু লোকজন বেনাপোল বাজার থেকে সোনা বহন করে সীমান্তবর্তী গ্রামে নিয়ে যায় ভারতে পাচারের জন্য। তারা আটক হওয়ার পর প্রশাসনকে জানায় ৩শ’ টাকার বিনিময়ে তারা পাচারের সাথে জড়িয়ে পড়েছে। সোনা পাচারের সাথে জড়িত বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট কর্মচারী ইউনিয়নের কতিপয় সদস্য ভারতীয় কাস্টমস ও বিএসএফ’র হাতে একাধিকবার আটক হয়েছে। বেনাপোলে এত সোনা কোথা থেকে আসে এ প্রশ্নের উত্তর আইন প্রয়োগকারী কোন সংস্থা জানে না। ধৃতরাও কখনো মহাজনদের নাম বলে না কিংবা নাম বের করার কোন চেষ্টাও করা হয় না। আর এ কারনেই সোনা চোরাচালানীর মূল হোতারা রয়ে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, ঢাকার সোনা ব্যবসায়ীরা এই সোনা পাচারের সাথে জড়িত। আর এই সোনার টাকা হুন্ডির মাধ্যমে দেশে আসে। বিমান থেকে সোনা বের হবার পর সোনা ব্যবসায়ীদের হাত ধরে  সোনার বিস্কুট নামক বার চলে আসে সীমান্তের ঘাটগুলোতে। 
বিজিবি এবং কাস্টমস সূত্রমতে, গত সাড়ে ৩ মাসে ভারতে পাচারের সময় ২৮ কেজি ওজনের ২৬১ পিস স্বর্ণ ও ভারত থেকে হুন্ডির মাধ্যমে আসা প্রায় পৌনে ৪ কোটি হুন্ডির টাকাসহ ২০ জন পাচারকারী আটক হয়েছে। বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ ও করিডোর থাকায় চোরাচালানীরা সোনা পাচারে এ পথ ব্যবহার করছে। সোনা যাদের কাছে পাওয়া যায়, বিজিবি কেবল তাদেরই আটক করে থাকে। পরে সরকারের অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তা তদন্ত করে দেখেন।
বেনাপোল কাস্টমস শুল্ক গোয়েন্দার উপ-পরিচালক সাইফুর রহমান বলেন, বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়ে আমরা সোনাসহ পাচারকারীদের আটক করে থাকি। পাশাপাশি আমাদের গোয়েন্দারা সর্বদা সজাগ দৃষ্টি রাখেন, যাতে দেশের সোনা পাচার হয়ে বাইরে না যায়। এ ব্যাপারে বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি (তদন্ত) ফিরোজ হোসেন জানান, পুলিশ সোনা ও হুন্ডি পাচারের কোন তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তা আটক  করে। বেনাপোল পোর্ট থানার রেকর্ড আছে বিগত দিনগুলোতে সোনার বড় বড় চালান আটক করার।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ












বিশ্বকাপে আজকের খেলা

বিশ্বকাপে আজকের খেলা

২২ জুন, ২০১৮ ০০:৪৫