খুলনা | শনিবার | ২৬ মে ২০১৮ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মঞ্জু

প্রহসনের ও ভোট ডাকাতির নির্বাচনের  ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ১৬ মে, ২০১৮ ০১:২৭:০০

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ২০ দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, প্রহসনের নির্বাচন, ভোট ডাকাতির নির্বাচনের ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায় রচনা করেছে আ’লীগ। একশ’টির অধিক কেন্দ্রে সরাসরি সম্পূর্ণ দখলদারিত্ব কায়েম এবং পঞ্চাশটির অধিক কেন্দ্র আংশিক সব মিলিয়ে দেড় শতাধিক কেন্দ্রে এজেন্ট ঢুকতে বাধা দেয়া, দায়িত্বরত এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা দেয়া, ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত ভোটারদের গায়ের জোরে ‘আপনাদের ভোট হয়ে গেছে অথবা ভোট দেয়া লাগবে না, নিজের ক্ষতি না চাইলে এক্ষুনি চলে যান ইত্যাদি বলে বের করে দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রের বাইরে ধানের শীষের ক্যাম্পে হামলা ভাঙচুর, নেতা-কর্মীদের মারপিট, দলবেধে পুলিশকে সাথে নিয়ে প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারের সহায়তায় জোরপূর্বক ব্যালটে ‘নৌকা’র সিল দেয়া, ব্যালট কেটে সীল স্বাক্ষর ছাড়াই নৌকায় সীল মেরে ব্যালট বক্স পূর্ণ করা-হেন অপকর্ম নেই যা আ’লীগের সশস্ত্র গুন্ডারা করেনি। 
নির্বাচনে ফলাফল গণনার পর গতকাল মঙ্গলবার রাতে দলীয় কার্যালয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নিয়ে আসা বিশ্বস্ত আওয়ামী পুলিশ খুলনার পুলিশ প্রশাসনের দলবাজ সদস্যরা, নির্বাচন কমিশন, নিয়োজিত প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার আর রামপাল-মংলা বাগেরহাটসহ খুলনা জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নিয়ে আসা সন্ত্রাসী-খুনীরা মিলেমিশে একাকার হয়ে ভোট ডাকাতির উৎসব করেছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে। রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেয়াছিল ১২ মে’র পরও বহিরাগতরা খুলনার বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, বাসাবাড়ি কালোনীতে অবস্থান করছে। কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় সেই বহিরাগত সন্ত্রাসীরাই ভোট ডাকাতির মূল হোতা। একাধিক প্রিজাইডিং পোলিং অফিসারকে প্রার্থী আমিই নিজে হাতেনাতে ব্যালট সীল মারা অবস্থায় এবং সীল মেরে রাখা ব্যালটসহ ধরেছি, যা বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সরাসরি দেখানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে প্রেরিত বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা গাড়িতে বড় রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো ছাড়া অন্য কোন কাজ করেননি।
তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনী ছাড়া কোন বড় নির্বাচন নিরাপদ নয় প্রমাণিত হলো। শেখ হাসিনার অধীনে কোন সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না প্রমাণিত হলো। এ নির্বাচনে আ’লীগ নয়, মূল প্রতিপক্ষ ছিল পুলিশ, আ’লীগ জনগণকে ভয় পায়। নিজেরা বিএনপিকে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি’র পিছনে পুলিশ লেলিয়ে দিয়েছে। এ ধরনের প্রহসনের নির্বাচনের আয়োজন না করে-এর চেয়ে ভালো নিজের পছন্দের ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট পদে প্রজ্ঞাপন জারি করে বসিয়ে দিলেই হয়। এই নির্বাচন গণতন্ত্রের জন্য এক অশনি সংকেত, সকল দলের অংশগ্রহণের কাঙ্খিত জাতীয় নিবাচন নিয়ে সংশয় সন্দেহ অনিশ্চয়তা আরো বৃদ্ধি পেলো।
এর আগে গতকাল দুপুর ২টায় বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেন, ‘খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট ডাকাতি হয়েছে। এক্ষেত্রে নিষ্ক্রীয় ছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোট ডাকাতিতে মূখ্য ভূমিকা পালন করেছে পুলিশ। আর তালুকদার আব্দুল খালেকের ক্যাডাররা বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রবেশ করে ব্যালট বই ছিনতাই করে সিল মেরে বাক্সে ঢুকিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, এ সময় বিএনপি’র পোলিং এজেন্টদের মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের দেয়া হয়। নারী এজেন্টদের লাঞ্ছিত করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়।
সকাল সাড়ে ১১টার পর নগরীর রূপসা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুলিশের সহযোগিতায় একটি রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা ওই কেন্দ্রে প্রবেশ করে বিএনপি’র মেয়র প্রার্থীর এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। পাঁচটি বুথে ঢুকে ব্যালট নিয়ে সীল মারা শুরু করে। পরে খবর পেয়ে সাংবাদিকরা সেখানে যান। বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুও আসেন এই কেন্দ্রে। সাংবাদিকরা আসার পর পুলিশের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা এসে ঐ রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেন। ওই সময় ভোট গ্রহণ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। এরপর সাংবাদিকরা চলে গেলে পুনরায় তারা কেন্দ্রে প্রবেশ করে ব্যালটে সীল মারে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ




সেহরীতে বরকত রয়েছে

সেহরীতে বরকত রয়েছে

২৬ মে, ২০১৮ ০১:১৪










ব্রেকিং নিউজ




সেহরীতে বরকত রয়েছে

সেহরীতে বরকত রয়েছে

২৬ মে, ২০১৮ ০১:১৪

সেহরীতে বরকত রয়েছে

সেহরীতে বরকত রয়েছে

২৬ মে, ২০১৮ ০১:১৪