খুলনা | শনিবার | ২৬ মে ২০১৮ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিভিন্ন বাহিনীর নিষ্ক্রীয় ভূমিকা 

কেন্দ্র দখল ও জাল ভোট প্রদানে কোথাও বাধার সম্মুখীন হয়নি বহিরাগতরা!

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ১৬ মে, ২০১৮ ০১:২২:০০

খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)’র নির্বাচনে ভোটের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর নিষ্ক্রীয়তার ভূমিকা নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। ভোট কেন্দ্রগুলোতে কর্তব্যরত পুলিশ, পিবিএন ও আনসার সদস্যরা ছিল নিরব দর্শকের ভূমিকায়। ভোট কেন্দ্র দখলের চেষ্টা, জাল ভোট প্রদানসহ কেন্দ্রগুলোতে দলবদ্ধভাবে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টিতে বহিরাগতদের কোন বেগ পেতে হয়নি। বরং তাদের (বহিরাগত) দাপটে কোণঠাসা হয়ে অনিরাপদভাবে ভোট কেন্দ্রগুলোকে উন্মুক্ত করে রাখা হয়। এসব অভিযোগ করেন ভোট দিতে না পেরে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসা ভোটাররা। পাশাপাশি কয়েকটি ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও বিভিন্ন প্রার্থীর পুলিং এজেন্টরাও এমন অভিযোগ করেন। 
কেসিসি নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল পরিমাণ সদস্যের উপস্থিতির কথা শুরু থেকেই বলে আসছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু ভোট গ্রহণের দিন শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে গাড়িযোগে টহল ছাড়া এ সকল বাহিনীর বিশেষ কোন কার্যক্রম চোখে পড়েনি।    
নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে, ১৬ প্লাটুন বিজিবি, ৮ জন করে র‌্যাবের ৩২টি টিম, ১০ জন করে ৪টি স্টাইকিং ফোর্স, এছাড়া পুলিশ, এপিবিএন, আনসার-ভিডিপি মিলিয়ে সাড়ে ৯ হাজার সদস্য, নির্বাচনের বিধিমালা লঙ্ঘনকারীদের জন্য ৩১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ১০ জন জুডিসয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন নির্বাচনের মাঠে। কিন্তু ভোট কেন্দ্রগুলোতে অসহায় ভোটাররা ভয়ে ভোট কেন্দ্র ত্যাগ করলেও প্রশাসনিক কোন সুবিধা পায়নি বলে অভিযোগ করেন। 
নগরীর ইকবাল নগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রিজাইডিং অফিসার নজরুল ইসলাম তার অসহায়ত্বের কথা স্বীকার করেন সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা আনিসুর রহমান ও গণমাধ্যম-এর কাছে। ওই কেন্দের ৮টি বুথে ভোট গ্রহণ চলছিলো, বেলা ১১টার দিকে ৩০/৪০ জনের একটি গ্র“প কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। ওই কেন্দ্রে প্রায় ৫০ জনের মতো পুলিশ, আনসার ও এপিবিএন সদস্য ছিল। কিন্তু বুথে ঢুকে দু®কৃতিকারী ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে সিল মেরে ব্যালট বাক্সে পুরে দেয়। এ ঘটনার বিষয়ে গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা আনিসুর রহমান ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার নজরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি তার অসহায়ত্বের কথা স্বীকার করেন। 
তিনি বলেন, হঠাৎ একদল লোক এসে ৭নং বুথে ঢুকে ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে সিল মেরে বাক্সে পুরেছে। ভয়ে তারা কিছু বলেননি। তবে কেন্দ্রে কর্তব্যরত পুলিশের সাহায্য চেয়েও পাননি বলে তিনি অভিযোগ করেন। এরপর ওই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। 
এদিকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নির্বাচন উপলক্ষে নিয়োজিত বিজিবি, র‌্যাব, এপিবিএন’র টহল শহরের প্রধান সড়কগুলোতে সীমাবদ্ধ ছিল। ভোট কেন্দ্র গুলোতে তাদের নজরদারি ছিল না বললেই চলে। 
এ বিষয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের রিটানিং কর্মকর্তা মোঃ ইউনুচ আলী বলেন, নির্বাচনে নিয়োজিত বাহিনীগুলো যার যা দায়িত্ব পালনের কথা তারা তা পালন করেছেন। এ বিষয়ে কোন অভিযোগ কমিশনে পাওয়া যায়নি।  
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ




সেহরীতে বরকত রয়েছে

সেহরীতে বরকত রয়েছে

২৬ মে, ২০১৮ ০১:১৪










ব্রেকিং নিউজ




সেহরীতে বরকত রয়েছে

সেহরীতে বরকত রয়েছে

২৬ মে, ২০১৮ ০১:১৪

সেহরীতে বরকত রয়েছে

সেহরীতে বরকত রয়েছে

২৬ মে, ২০১৮ ০১:১৪