খুলনা | শনিবার | ২৬ মে ২০১৮ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

সরেজমিন : পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা কোথাও বের করে দেয়ার অভিযোগ প্রশাসন ও প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের  সহযোগিতায় বহিরাগতদের অবাধ আনাগোনা

জাল ভোটের উৎসব : হামলা-ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক  | প্রকাশিত ১৬ মে, ২০১৮ ০১:১৯:০০

আনন্দ-উৎসব মুখর পরিবেশে কাঙ্খিত নির্বাচনে বেলা গড়াতেই কেন্দ্র দখল, ভাঙচুর ও জাল ভোটের উৎসবে ঢাকা পড়ে যায় খুলনা। গতকাল খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)’র এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সরেজমিন আমাদের রিপোর্টাররা যা দেখেছেন ও শুনেছেন তা তুলে ধরা হল।
গতকাল সকাল ৯টায় সরেজমিনে প্রতিবেদন দেখা যায়, কেসিসি ১নং ওয়ার্ডে মহেশ্বরপাশা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ভোট (কেন্দ্র নং-২) কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল সরব। প্রথম ঘন্টায় মোট ১৬৫৯ ভোটের মধ্যে ভোট পড়ে ২৫৬টি। দুপুরের পর থেকে বিএনপি’র এজেন্টদের বের করে দিয়ে এককভাবে বিশেষ প্রতীকে সিল মারে এমন অভিযোগ করেছে অন্যান্য প্রার্থীর এজেন্টরা। সর্বশেষ ঐ কেন্দ্রে ভোট কাস্ট হয়েছে ১০৯৪টি। একই ঘটনা ঘটেছে ওয়ার্ডের রেলিগেটস্থ আবু সুফিয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়ার্ডে প্রথম ঘন্টায় ভোট পড়েছে ৭%। সকাল ৯টায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঐ কেন্দ্রে গেলে বুকে এজেন্ট কার্ড না লাগিয়ে নৌকার হ্যান্ডবিল ঝুলানোর কথা বলতে গেলে সাংবাদিকদের সামনেই তার সাথে দুব্যবহার করে ঐ পোলিং এজেন্ট। সাথে সাথে তাকে বের করে দিতে বললেও বের করেনি প্রিজাইডিং অফিসার। ২নং ওয়ার্ডে আরআরএফ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ভোট পড়েছে ২৪৬টি। একই ঘটনা ঘটেছে ওয়ার্ডের কৃষ্ণ মোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, ১২টার পরে ব্যাপক জালভোট দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। ৩নং ওয়ার্ডে মহেশ্বরপাশা আদর্শ সরকারি বিদ্যালয় কেন্দ্রে (কেন্দ্র নং ২০)। ওয়ার্ডে ২২২৩ জন ভোটারের মধ্যে সকাল সাড়ে ৯টায় ২৫৪টি ভোট কাষ্ট হয়। এদিকে ৪নং ওয়ার্ডে দেয়ানা দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুর ১টায় ধানের শীষের প্রার্থীকে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে জাল ভোট দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই ঘটনা ঘটেছে ৫নং ওয়ার্ডের বিনাপানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে বেলা ১১টা পর্যন্ত ঐ কেন্দ্রে মোট ভোট পড়ে ৩৫ শতাংশ। ৬নং ওয়ার্ডে পাবলা সবুজ সংঘ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে লাঙ্গল ও হাতপাখার কোন এজেন্ট ছিল না। বিএনপি’র এজেন্টকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করেছে। 
দুপুর ২টা ৪৫ মিনিট। ১০নং ওয়ার্ডের খালিশপুরস্থ ভাসানী বিদ্যাপীট (গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ) এর বুথে একদল বহিরাগত প্রবেশ করে এবং কেন্দ্রে কর্মরত নির্বাচন কমিশনার কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার মোঃ মাহবুব আলীর কাছ থেকে মেয়র, কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের তিনটি ব্যালট বই ছিনিয়ে নেই। এ সময়  পুলিশের সহযোগিতায় ওই বহিরাগতদের আটক করা হয়। এ সময় ধস্তাধস্তিতে পুলিশের অস্ত্র (নং-৩৭৭) চায়না রাইফেলের বাট ভেঙে যায়। পরে বহিরাগতদের কাছ থেকে ব্যালট বই উদ্ধার করা হয়। কিন্তু মেয়র প্রার্থীর ১০নং ব্যালট নষ্ট হয়ে যায়। ওই একই এলাকার ১১নং ওয়ার্ডের তৈয়েবা মাদ্রাসার কেন্দ্র দখল নিয়ে দুই গ্র“পে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয় লুৎফর রহমানের ছেলে আলমগীর হোসেন আলম এবং তার বড় ভাই সিরাজ গুরুতর আহত হয়। ওই সময় কেন্দ্রের মধ্যে গিয়ে দেখা যায় কিছু লোক সাধারণ ভোটারদের জোরপূর্বক অন্য প্রার্থীকে ভোট প্রদানে বাধ্য করছে। কিন্তু দায়িত্বরতরা প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।
এদিকে খুলনা পুলিশ লাইন স্কুলের বুথে প্রবেশ করে একদল বহিরাগত যুবক জাল প্রদান করে। কিন্তু এ সময় সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও কর্মরত অন্যান্য কর্মকর্তারা চুপচাপ বসে থাকতে দেখা যায়। ৭নং ওয়ার্ডে মোহাম্মদিয়া ফেরদৌসিয়া হাফিজিয়া নূরানী মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এক প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখলের অভিযোগ উঠে।  বিকেল পৌনে চারটায় খালিশপুর উত্তর কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দু’টি কেন্দ্রে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা সেখানে জাল ভোট দিচ্ছে। এ গুজব শুনে বিএনপি’র কর্মী-সমর্থকরা স্কুলের গেট ভেঙে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ ১৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানান, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সোনালী সেন। অপরদিকে এসব কেন্দ্রে লাঙ্গল, কাস্তে ও হাতপাখা মার্কায় কোন এজেন্ট দৃষ্টিগোচর হয়নি। কোথাও কোথাও ধানের শীষের এজেন্টও ছিল না। তবে সাধারণ ভোটারদের অভিযোগ জাল ভোট দেয়ার কারনে অনেক ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। গতকাল খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৭নং ওয়ার্ড থেকে ১১নং ওয়ার্ডের প্রায় প্রতি কেন্দ্রে ছিল এমনই চিত্র। 
নগরীর ১১নং ওয়ার্ডের প্লাটিনাম মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুপুর ১২টার পর আ’লীগের মনোনীত ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল ওদুদের সঙ্গে বিদ্রোহী দুই প্রার্থীর মধ্যে গণ্ডগোল হয়। এক পর্যায়ে সিবিএ সভাপতি কাওসার আলী মৃধাকে পুলিশ মারধর করে। এ ঘটনায় কিছু সময় ওই কেন্দ্রে ভোট বন্ধ থাকে। দুপুর সোয়া ১টার দিকে প্লাটিনাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ অংশে কর্তব্যরত প্রিজাইডিং কর্মকর্তা শেখ আবু মোঃ মুশফেকুল মোর্শেদের উপস্থিতিতে দু’টি বুথে বহিরাগত কর্মীকে জাল ভোট দিতে দেখা যায়। কয়েকজন সাংবাদিক জানালা দিয়ে এ দৃশ্য দেখলে ওই প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সরিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমাদের কিছু রেসট্রিকশন আছে।’ কেন্দ্রটির অধিকাংশ বুথেই ধানের শীষের পোলিং এজেন্ট ছিল না। এছাড়া ধানের শীষের পোলিং এজেন্ট শিল্পী নামের এক নারীকে হুমকি-ধামকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
একই ওয়ার্ডের ৮৬নং জামিআহ্ ত্বৈয়্যিবাহ্ নূরানী তা’লীমুল কুরআন মাদ্রাসাহ্ হাউজিং এস্টেট কেন্দ্রে সামনে থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় আলম (৩৫) নামে এক যুবলীগের কর্মীকে ধরে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাচ্ছে আরো ৩/৪ জন। আহত আলম বলেন, কেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ওয়ার্ডের কুমড়া প্রতীকের কাউন্সিলর প্রার্থীর লোকজন পাঁচতলা থেকে এসে হামলা চালিয়েছে। এ সময় তার ভাই সিরাজকে মারপিট করা হয়। সংবাদ পেয়ে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় কেন্দ্রের অভ্যন্তরে গেলে দেখা মেলে বহিরাগত এক ব্যক্তিকে বুথের ভেতরে ঢুকে জোরপূর্বক সিল দিচ্ছে।
১৩নং ওয়ার্ডের নিউজপ্রিন্ট মিলস্ মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের এক ভোটার লাভলী বেগম বলেন, ভোট দিতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে জানিয়ে দিয়েছেন আমার ভোট দেয়া নাকি সম্পন্ন। ভোট দিতে না পারায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মিল গেটের সামনে ভোটারদের প্রবেশে বাধা প্রদান করার অভিযোগও করেছে ভোটাররা। এছাড়া ১৫নং ওয়ার্ডের খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টদের প্রবেশে বাধা প্রদান করা হয়েছে। দো’তলা কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার সুরত আলী বলেন, ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্ট আসেনি।     
এছাড়া ১২নং ওয়ার্ডের স্যাটেলাইট টাউন সরকারি প্রাথমিক স্কুল কেন্দ্র, প্রভাতী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, ১৪নং ওয়ার্ডের মেট্রোপুলিশ লাইন্স হাই স্কুল (দক্ষিণ-পূর্ব-১) সহ বিভিন্ন কেন্দ্র দখলের অভিযোগ উঠেছে। 
কেসিসি’র ১৯নং ওয়ার্ডের বসুপাড়া লেনের ইসলামাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নীচতলা, ইসলামাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় ও ৩য় তলা এবং ইসলামাবাদ কলেজিয়েটে স্কুলের এ তিনটি কেন্দ্রে নারী-পুরুষ মিলিয়ে মোট ৫১০৪ জন ভোটার রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে কেন্দ্রটিতে নারী-পুরুষ ভোটাররা সারিবদ্ধভাবে ভোট দিতে আসেন। কেন্দ্র গুলোতে মেয়র প্রার্থীসহ কাউন্সিলর, মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীদের পুলিং এজেন্ট ছিলো। বেলা ১১টার দিকে ওই তিনটি কেন্দ্রে আ’লীগ মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী মোতালেব মিয়া’র নেতৃত্বে ২৫/৩০ জন কর্মী শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের পরিবেশ নষ্ট করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা দেখা যায়। তিনি কর্মী সমর্থকদের নিয়ে ভোট কেন্দ্রগুলোতে প্রভাব বিস্তার করতে চেয়েছিলেন। এ সকল বিশৃঙ্খলা দেখে বেশ কিছু নারী-পুরুষ ভোটার ভোট না দিয়ে ভয়ে ভোট কেন্দ্র ত্যাগ করে চলে যান। এছাড়া ১৭, ১৮, ২০ ও ২১নং ওয়ার্ডে একটি পক্ষ ভোট কেন্দ্রগুলোতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে। তবে সেসব ওয়ার্ডে তেমন কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি তারা। এছাড়া সোহরাওয়ার্দী কলেজ, আহসান উল্লাহ কলেজ, আইউব আলী খান প্রাইমারী স্কুল, আগা খান মাধ্যমিক বিদ্যালয়, প্রভাতি প্রাইমারী স্কুল কেন্দ্রে জাল ভোট দিতে দেখেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর এজেন্টরা।
এদিকে নগরীর ২২নং ওয়ার্ডের খুলনা জিলা স্কুল কেন্দ্রের ধানের শীষের এজেন্ট আলী আকবরকে বেধড়ক মারপিটের পর নতুন বাজার এলাকার ছবি ফিসে ধরে নিয়ে যায় প্রতিপক্ষ প্রার্থীর লোকজন। ভোট গ্রহণের পূর্বেই এ ঘটনা ঘটে। পরে ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি সাত্তার খলিফা তাকে উদ্ধার করে কাউন্সিলর প্রার্থী মাহবুব কায়সারের বাড়িতে নিয়ে যায় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে। এছাড়া ফাতেমা উচ্চ বিদ্যালয়, পাইওনিয়ার মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সবুরন্নেছা মাদ্রাসা, নতুন বাজার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ব্যালট বই ছেড়ে নিয়ে জাল ভোট দিতে দেখেছেন প্রার্থীর এজেন্টরা।
এসবের প্রতিবাদে রিটার্নিং অফিসারের কাছে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় ২২নং ওয়ার্ডে ভোট স্থগিতের আবেদন করেন বিএনপি মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী মাহবুব কায়সার। লিখিত অভিযোগপত্রে তিনি বলেন, গতকাল সকাল ৮টার পূর্ব থেকে তার ওয়ার্ডে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে। ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়া হয়েছে। পোলিং এজেন্টদের মারধর ও বের করে দেয়া, ঘুড়ি মার্কার এজেন্ট সকল ভোটারদের প্রকাশ্যে সিল মারতে বাধ্য করে। তাদের সাথে একমত না হওয়া ভোটারদের আঙুলে কালি মাখিয়ে ব্যালট কেড়ে নিয়েছে। পরে তারাই বক্সে ফেলেছে। সকাল ৮টায় জিলা স্কুল কেন্দ্র থেকে দু’জন এজেন্টকে বের করে বেধড়ক মারপিট করেছে। ফাতিমা স্কুল কেন্দ্রে তার পোলিং এজেন্টদের সামনে ঘুড়ির পোলিং এজেন্টরা ভোটারদের প্রকাশ্যে সিল মারতে বাধ্য করে। প্রতিবাদ করায় এজেন্ট বের করে দিয়েছে। নতুন বাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও হাজী আবু হানিফ কেরাতুল মাদ্রাসা কেন্দ্রে একই ভাবে অনিয়ম ও জালভোট প্রদান করা হয়। এসব কারণ উল্লেখ করে ২২নং ওয়ার্ডের সকল কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করে পরবর্তীতে সুষ্ঠু পরিবেশে নিরপেক্ষ ভোট গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন কাউন্সিলর প্রার্থী মাহবুব কায়সার। একই ওয়ার্ডের ভোটার মোঃ কবির হোসেন কেন্দ্রে গিয়ে দেখেন তার ভোট দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তার।
অন্যদিকে, ২৩নং ওয়ার্ডের বি কে স্কুল, তালতলা প্রাইমারি স্কুল, পাইওনিয়ার কলেজ ও টুটপাড়া মডেল প্রাইমারি স্কুল কেন্দ্র থেকে পোলিং এজেন্ট বের করে দেবার অভিযোগ করেছেন কাউন্সিলর প্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ সাব্বির হোসেন। আবার, ২৪নং ওয়ার্ডের সোনাপোতা স্কুলের নিকটে শেরে বাংলা রোডের পাশে ‘ধানের শীষ’র নির্বাচনী তাবুতে জনৈক জাকির ও রানা’র নেতৃত্বে অতর্কিত হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় নগর মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. আকতার জাহান রুকুসহ বিএনপি নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ইকবালনগর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রটি দখল করে প্রকাশ্যে একাধিক ব্যালট বইয়ে সিল করার ঘটনা ঘটে। এ সময় একাধিক বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জাল ভোটের দৃশ্য দেখায়। পরে অবশ্যই ইকবালনগর স্কুলের কেন্দ্রটির ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দেন রিটার্নিং অফিসার। আকস্কিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে ‘ধানের শীষ’র মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু এসব দৃশ্য দেখতে যান।
একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা শেখ গোলাম হিল্লোল হোসেন (ভোটার নং-১১৯) ও সালমা বেগম ময়না (ভোটার নং-৯৫) বেলা সাড়ে ১১টায় ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দেখেছেন তাদের ভোট অন্য কেউ দিয়ে গেছেন। নিরালা মাধ্যমিক স্কুলে আ’লীগের এক প্রভাবশালীর নেতার নেতৃত্বে চলে জাল ভোট দেয়ার ঘটনা। একটি কেন্দ্রে এ ঘটনাটি ঘটে। সেখানে ভোট ছিল ২৫০০। পরে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে উক্ত কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়। এছাড়া আলীয়া মাদ্রাসায় ভোটাররা দিতে পারেনি ভোট। উপস্থিতির আগে বা পূর্বে ব্যালটে সীল দিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ ভোটারদের। গৃহিনী মাজেদা খাতুন, রাহেলা, মোসাৎ কহিনুর বেগমসহ একাধিক নারী দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর আলীয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে গেলে এ ঘটনার মুখোমখি হন বলে অভিযোগ করেছেন। 
তাছাড়া সরকারি এমএম সিটি কলেজ, বাগমারা স্কুল ও দারুল উলুম মাদ্রাসা কেন্দ্রে জাল ভোট দিতে দেখেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী’র এজেন্টরা। কেন্দ্রে ঢুকতেই দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন নগরীর ২৫নং ওয়ার্ডের সিদ্দিকীয় মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট দিতে না পেরে ফিরে যাওয়া জোহরা খাতুন। তিনি বলেন, ওরা বললো আপনি ভিতরে যেতে পারবেন না। আমি বললাম ভোট দিতে এসেছি, কেন যেতে পারবো না? আমি বললাম আমি টিপু’র লোক তাও বললো, হবে না। তাদের বুকে সরকারি দলের দু’প্রার্থীর ব্যাজ লাগানো ছিল বলে অভিযোগ তার। একই কেন্দ্রের ভোটার মাহমুদা রহমান বলেন, “আমার কাছ থেকে ব্যালট কেড়ে নিয়ে ওরা ভোট দিয়েছে। আমি বলেছি আমার কাছে দেন, আমার ভোট আমি দেবো; ওরা শুনলো না। আমি ওই রুমে অফিসারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি, তিনিও কিছু বললেন না।” এছাড়া একই ওয়ার্ডের এতিমখানা মোড়ের নুরানী মাদ্রাসা, গল্লামারী লায়ন্স স্কুল, নজরুল নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি কেন্দ্র দখলের অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও বিএনপি মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী আনিসুর রহমান আরজু।
অন্যদিকে, ২৬নং ওয়ার্ডের শেরে বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জেন্ট জেভিয়ার্স মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রগুলো সকাল ১০টার পর থেকেই নিয়ন্ত্রণ নেন প্রভাবশালী এক কাউন্সিলর প্রার্থীর লোজজন। মূলত তারাই মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের এ তিনটি ব্যালট পেপার একত্রে জাল ভোট দিয়ে বক্স ভরেছে বলে এজেন্টদের অভিযোগ।
ভোট জালিয়াতি, কেন্দ্র দখলসহ নানা অনিয়মের কারণে নগরীর ৩১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় ভোট কেন্দ্র ও লবণচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত হয়।  
প্রিজাইডিং অফিসার মোহাম্মদ আমির হোসেন বলেন, দুপুর ১২টার দিকে ৮-১০ জনের বহিরাগতরা কেন্দ্রে প্রবেশ করে ব্যালট পেপার ছিনতাই করে ঝুড়ি মার্কায় সীল মারে। এ ঘটনায় ভোট গ্রহণ তাৎক্ষণিক স্থগিত করা হয়। পরে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে ভোট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ পুরোপুরি স্থগিত করা হয়। 
৩১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় ভোট রয়েছে ১ হাজার ৬৯১ এবং লবণচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট সংখ্যা ২ হাজার ১৬। ৩১নং ওয়ার্ডে দুইটি কেন্দ্র স্থগিত করা হয়। 
৩০নং ওয়ার্ডে রূপসা বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্ট সেলিম কাজীকে মারধর করা হয়। এছাড়া নগরীর বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ভাঙচুর করা হয়েছে ৩১নং ওয়ার্ডের হাজী আব্দুল মালেক ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সামনের নির্বাচনী ক্যাম্পও।
রূপসা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ইবনুর রহমান জানান, দুপুর ১২টার দিকে ২০-২৫ জনের বহিরাগতরা কেন্দ্রে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা করে। তারা কেন্দ্রের ২ থেকে ৫নং বুথে ব্যালট পেপার ছিনতাই করে ব্যালট বাক্সে ঢোকানোর চেষ্টা করে। এ ঘটনায় প্রিজাইডিং অফিসার তাৎক্ষণিক খবরে ঘটনাস্থলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, র‌্যাব ও বিজিবি আসলে বহিরাগত যুবকরা পালিয়ে যায়। 
নগরীর টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা রিক্সা চালক মোঃ শাহজাহান শেখ। তিনি ৩১নং ওয়ার্ডের মতিয়াখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সোয়া ১টার দিকে আসেন ভোট দিতে। অভিযোগ করে বলেন, ‘অনেক আশা করে ভোট দিতে গেলাম কিন্তু ভোট কেন্দ্রে গেলে আমাকে বলা হয় আপনার ভোট কেন্দ্র এখানে না। তিনি ভোট দিতে যান হাজী আব্দুল মালেক ইসলামিয়া কলেজে। সেখানে গেলেও তাকে বলা হয়; আপনি এ কেন্দ্রের ভোটার না। 
নগরীর রহমানিয়া মহল্লার বাসিন্দা আমেনা বেগম। তিনি বিকেল ৩টা ১৩ মিনিটে ৩১নং ওয়ার্ডের লবণচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আসেন ভোট দিতে। অভিযোগ করে বলেন, ভোট কেন্দ্রের প্রত্যেকটি কক্ষে তালা মারা রয়েছে। তিনি বলেন কেন্দ্রে কেউ নেই। এ কথা বলার পর তিনি চলে যান। 
লবণচরা এলাকার বাসিন্দা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বিকেল সোয়া ৩টার দিকে ৩১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় ভোট কেন্দ্রে আসেন ভোট দিতে। অভিযোগ করে বলেন, ‘ভাই ভোট দিতে গেছিলাম। কিন্তু ব্যালট পেপার নাকি শেষ হয়ে গেছে। এ জন্য ভোট দিতে পারিনি। ভোট দিতে না পারায় চরম দুঃখ প্রকাশ করে চলে যান।  
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ




সেহরীতে বরকত রয়েছে

সেহরীতে বরকত রয়েছে

২৬ মে, ২০১৮ ০১:১৪










ব্রেকিং নিউজ




সেহরীতে বরকত রয়েছে

সেহরীতে বরকত রয়েছে

২৬ মে, ২০১৮ ০১:১৪

সেহরীতে বরকত রয়েছে

সেহরীতে বরকত রয়েছে

২৬ মে, ২০১৮ ০১:১৪