খুলনা | মঙ্গলবার | ১৪ অগাস্ট ২০১৮ | ৩০ শ্রাবণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

তালায় চলন্তিকা যুব সোসাইটি ৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও : নিঃস্ব^ ৩ শতাধিক পরিবার

তালা প্রতিনিধি | প্রকাশিত ১৬ মে, ২০১৮ ০০:১০:০০

তালায় চলন্তিকা যুব সোসাইটি ৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও : নিঃস্ব^ ৩ শতাধিক পরিবার

তালায় চলন্তিকা যুব সোসাইটি নামক এমএলএম কোম্পানীর প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে নিঃস্ব হয়ে মানববেতর জীবনযাপন করছে সহস্রাধিক গ্রাহক। তালা উপজেলা চেয়ারম্যানের বাস ভবন সংলগ্ন অফিস ভাড়া নিয়ে গ্রাহকের প্রায় ৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে সংস্থাটি। কোন উপায়ান্ত না পেয়ে হয়ে ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাহকরা প্রতিষ্ঠানটির সাতক্ষীরা জোনের আঞ্চলিক অফিস তালার ধানদিয়া চলন্তিকা যুব সোসাইটির ম্যানেজার আলমগীর হোসেন, সহকারি ম্যানেজার ইমাদুল হোসেন, ক্যাশিয়ার সাঈদুর রহমানসহ স্থানীয় কর্মকর্তাদের বাড়িতে হানা দিতে শুরু করেছে। তবে  হদিস পাওয়া যাচ্ছে না ঘটনার সাথে জড়িত ওই এনজিও’র শীর্ষ কর্মকর্তাদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘চলন্তিকা যুব সোসাইটি’ নামে খুলনা ভিত্তিক একটি এনজিও ২০০৪ সালে তালা উপজেলায় কার্যক্রম শুরু করে। অফিস কর্মচারীসহ বিভিন্ন অঞ্চল ভিত্তিক মাঠকর্মী নিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আদলে ৬ বছরে দ্বিগুণ ও দশ বছরে তিনগুণ মুনাফা দেয়ার ঘোষণা দিয়ে মেয়াদি আমানত (এফডিআর), মাসিক আমানত (এমএসএস) এবং ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ কর্মসূচির কাজ চালু করে চলন্তিকা। ২০০৯ সাল থেকে এ আমানত গ্রহন ও ঋণদান কর্মসূচি শুরু করলে অধিক মুনাফার আশায় সেখানে অন্তত: ৩ শতাধিক গ্রাহক ১৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদি আমানতের হিসাব খুলেছেন বলে জানা যায়। 
তালার কাটাখালি গ্রামের অমনি সাহার ছেলে উদয় সাহার ১৭ লাখ, মৃতঃ আদম গাজীর ছেলে আনছার গাজীর ১০ লাখ, বিধান সাহার ছেলে শশাঙ্ক সাহার ৬ লাখ, আমির আলীর ছেলে দাউদের ৫ লাখ, ঝড়গাছা দৌলতপুরের বিমল ঘোষের ১৫ লাখ, চলন্তিকার মাঠকর্মী শাহিনুর রহমানের স্ত্রী আকলিমা খাতুনের ৩ লাখ টাকাসহ বিভিন্ন গ্রামের ৩ শতাধিক গ্রাহকের আনুমানিক প্রায় ৫ কোটি  টাকা হাতিয়ে নিয়ে গত ১২ এপ্রিল ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উধাও হয়ে যান। এ নিয়ে তালার ধানদিয়া, ফুলবাড়ি, সরুলিয়ার, কাটাখালি, পাটকেলঘাটাসহ পাশ^বর্তী অঞ্চলের প্রায় সহস্রাধিক গ্রাহক তাদের আমানত ও সঞ্চয়ের প্রায় ৫ কোটিরও বেশি টাকা ফিরে পাবে কি না তা নিয়ে শংকিত হয়ে পড়েছে।
একাধিক ভুক্তভোগী গ্রাহক বলেন, আমাদের সহায়-সম্বল যা ছিল তা উচ্চ মুনাফা লাভের আশায় সঞ্চিত বা আমানত হিসেবে গচ্ছিত রেখেছিলাম চলন্তিকায়। চলন্তিকার প্রতারণার কারণে এখন আমরা নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। তারা আমাদের দেয়া অনেক টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজেদের এ্যাকাউন্টে জমা রেখেছে। গ্রাহকরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, সাতক্ষীরার বিভিন্ন স্থানে চলন্তিকার যে সম্পত্তি রয়েছে। প্রশাসন সে সকল সম্পত্তি নিজেদের জিম্মায় নিয়ে আমাদের টাকা ফেরতে সহায়তা করলে আমরা অনেক উপকৃত হবো।
সাতক্ষীরা জোনের আঞ্চলিক অফিস ধানদিয়া চলন্তিকা যুব সোসাইটির সহকারী ম্যানেজার মাষ্টার ইমাদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা কেন গ্রাহকের টাকা আত্মসাত করবো? আমাদের উপর মহলের কর্মকতারা এ ব্যাপারে বলতে পারবে। আমরাতো তাদের নিদের্শে কাজ করি মাত্র। তবে এ ব্যাপারে চলন্তিকা  যুব সোসাইটির চেয়ারম্যান খবিরুজ্জামানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়। তালা উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ ফরিদ হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা। তবে এমন ঘটনা ঘটলে সত্যতা যাচাই করে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





শোকাবহ আগস্ট

শোকাবহ আগস্ট

১৪ অগাস্ট, ২০১৮ ০১:১৭









ব্রেকিং নিউজ





শোকাবহ আগস্ট

শোকাবহ আগস্ট

১৪ অগাস্ট, ২০১৮ ০১:১৭