খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৮ অক্টোবর ২০১৮ | ২ কার্তিক ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

তেরখাদায় হাতুড়ে ডাক্তারদের দৌরাত্ম প্রতারণার শিকার গ্রামের মানুষ

রাসেল আহমেদ, তেরখাদা | প্রকাশিত ১৬ মে, ২০১৮ ০০:১০:০০

তেরখাদায় হাতুড়ে ডাক্তারদের দৌরাত্ম প্রতারণার শিকার গ্রামের মানুষ

তেরখাদা উপজেলাতে পল্লী চিকিৎসক ও হাতুড়ে ডাক্তারদের দৌরত্মে মৃত্যুর দুয়ারে পৌঁছে যাচ্ছে রোগীরা। তাদের চাহিদামত অর্থ পরিশোধে সর্বশান্ত হচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। ফার্মেসী, নিজবাড়ীর সামনে ও বাজারে ছোট ছোট দোকান ঘরে বসে সকলের সামনে প্রতিনিয়ত রোগীদের সাথে প্রতারণা করছে এ সব হাতুড়ে চিকিৎসকরা।
উপজেরার কাটেঙ্গা এলাকার বাসিন্দা এবাদুল শেখের ছেলে মোঃ সালামুন শেখ (২২) পাইলস্’র চিকিৎসার জন্য স্মরণাপন্ন হন উপজেলার নলিয়ারচর এলাকার পদ্মবিলা বাজারে সুজন মেডিকেল হলে। পল্লী চিকিৎসক সুজন বিশ্বাস রোগী দেখে বলেন, অপারেশন করতে হবে। লাগবে ১২ হাজার টাকা। সালামুনের মা ফরিদা বেগম নিজের অসহায় অবস্থার বর্ণনা দিয়ে ১০ হাজার টাকায় রাজি করান ডাক্তারকে। ওইদিন অপারেশনের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ে; একটি ইনজেকশন পুশ করে ও খোসা খুলে কয়েকটি ট্যাবলেট সেবন করিয়ে দেয় কথিত পল্লী চিকিৎসক সুজন বিশ্বাস। আর বলে এ সব ওষুধ ভারত থেকে আনা হয়েছে, বাংলাদেশের কোথাও এ ওষুধ পাওয়া যায় না। বাড়ী ফিরে রোগী সালামুন শেখের অবস্থার ব্যাপক অবনতি ঘটে। পায়ুপথ দিয়ে রক্ত ও পুঁজ পড়তে থাকে, যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে সালমুন। অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে খুলনার একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, তাকে ভুলভাল চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ্য হয়ে বাড়ী ফিরেছেন সালামুন শেখ। তবে ফেরত পাইনি পল্লী চিকিৎসক সুজন বিশ্বাসকে দেয়া অর্থ। এভাবে প্রতিনিয়তই উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রতারিত হচ্ছেন ছালামুনের মত অনেক ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে পল্লী চিকিৎসক সুজন কুমার বিশ্বাস বলেন, “আমার বাবা ডাঃ সুবল বিশ্বাসের কাছ থেকে চিকিৎসা করা শিখেছি। ভারতে গিয়েও শিখেছি, কিভাবে অপারেশন করতে হয়। আর আমি তো দীর্ঘদিন চিকিৎসা করছি, কই কোনদিন কোন কথা তো উঠেনি? 
এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার আজগড়া, বারাসাত, ছাগলাদাহ, সাচিয়াদাহ, তেরখাদা সদর ও মধুপুর ইউনিয়নের হাট বাজারগুলোতে হাতুড়ে ডাক্তাররা লাইসেন্স ছাড়া বহাল তবিয়তে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করছে। উপজেলার ছাগলাদাহ ইউনিয়নের ইছামতি এলাকার এক হাতুড়ে ডাক্তারের সাথে কথা হলে সে জানায়, তার কোন লাইসেন্স নেই, কিন্তু তার পিতার ডাক্তারী দেখে ডাক্তারী শিখেছেন। তার পিতার মৃত্যুর পর সে তার পিতার পেশাকে ধরে রেখেছেন। 
এ সকল বিষয়ে কথা হয় তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আরিফ আহমেদের সাথে। তিনি বলেন সুজন বিশ^াস নামের ব্যক্তিটি যা করেছেন তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই চিকিৎসা করতে মেডিকেল সার্জন অথবা এমবিবিএস ডাক্তার হতে হবে। আর এ সকল নামধারী ডাক্তারদের প্রতারণার জালে সাধারন মানুষ চিকিৎসা নিতে এসে মৃত্যু ঝুঁকিতে ধাবিত হচ্ছে। তিনি এ সকল  হাতুড়ে ডক্তারদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোট পরিচালনার ব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবেন। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ







শারদীয় দুর্গোৎসবের  আজ মহানবমী

শারদীয় দুর্গোৎসবের  আজ মহানবমী

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:৪৯







ব্রেকিং নিউজ








শারদীয় দুর্গোৎসবের  আজ মহানবমী

শারদীয় দুর্গোৎসবের  আজ মহানবমী

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:৪৯