খুলনা | শুক্রবার | ২২ জুন ২০১৮ | ৮ আষাঢ় ১৪২৫ |

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দ্রুত  বাস্তবায়ন হোক

১৪ মে, ২০১৮ ০০:১০:০০

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দ্রুত  বাস্তবায়ন হোক


গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে সামরিক বাহিনীর আক্রমণ শুরু হলে প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে থাকে। মানবিক দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশও তাদের আশ্রয় দেয়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর মধ্যে তাদের প্রত্যাবাসনের জন্য দুই দেশের সরকার দুটি চুক্তিও করেছে। এ নিয়ে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্র“প গঠন করা হয়েছে। আর আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের জন্য জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ। এই সমঝোতা স্মারক সইয়ের ফলে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়াটি সহজ হবে। বিষয়টি ইতিবাচক।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী সম্পর্কে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দৃষ্টিভঙ্গি কারও অজানা নয়। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে যখন গত বছরের ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোয় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি চুক্তি সই করে মিয়ানমার। ওই চুক্তি অনুযায়ী ২৩ জানুয়ারির মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটা বিলম্ব হওয়াকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে। সঙ্গত কারণেই প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন নিয়ে রয়েছে সংশয়। আর এ ক্ষেত্রে কূটনৈতিক তৎপরতা ও আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার বিকল্প নেই। এর আগে ১৯৯২ সালে যখন রোহিঙ্গারা এসেছিল, তখনও ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে একই ধরনের চুক্তি করেছিল বাংলাদেশ। আর এবারও সেই চুক্তির আদলে এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্ত করে সই করা হয়েছে। আমরা বলতে চাই, যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গা প্রত্যবাসনের বিষয়টির সুরাহা করতে হবে। যদিও এটা সুখকর যে, এখনো আন্তর্জাতিক মহল রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে তৎপর রয়েছে। আমরা চাই, কোনো ধরনের তৎপরতা যেন বৈঠক আর আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ থেকে না যায়।
আমাদের অভিমত মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রত্যাবাসন চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো কিছু বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকেও নজর দিতে হবে। কেননা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। অতীতে আসা রোহিঙ্গাদের বড় অংশ এখনও মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারেনি। কাজেই চুক্তি অনুযায়ী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ সুসম্পন্ন করার লক্ষ্যে আমাদের পক্ষ থেকে যেমন কূটনৈতিক পদক্ষেপ জারি রাখতে হবে তেমনি আন্তর্জাতিক চাপও অব্যাহত রাখা আবশ্যক। এবারে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের জন্য জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার সঙ্গে যে সমঝোতা স্মারকে সই করেছে বাংলাদেশ, সেটার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত হোক এমনটি আমাদের প্রত্যাশা।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



এলো খুশির ঈদ

এলো খুশির ঈদ

১৫ জুন, ২০১৮ ০০:১০


ফুটপাত দখলমুক্ত রাখুন

ফুটপাত দখলমুক্ত রাখুন

০৭ জুন, ২০১৮ ০০:১১









ব্রেকিং নিউজ












বিশ্বকাপে আজকের খেলা

বিশ্বকাপে আজকের খেলা

২২ জুন, ২০১৮ ০০:৪৫