খুলনা | শুক্রবার | ২২ জুন ২০১৮ | ৮ আষাঢ় ১৪২৫ |

কক্সবাজারে  ফের তৎপর  মানব পাচারকারী চক্র

১৩ মে, ২০১৮ ০০:০৫:০০

কক্সবাজারে  ফের তৎপর  মানব পাচারকারী চক্র


কিছুদিন নীরব থাকার পর কক্সবাজারে ফের সক্রিয় হয়ে উঠছে মানব পাচারকারী চক্র। তবে এবার তাদের টার্গেট বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা। এ চক্র ও তাদের দালালরা বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের পুজি করে আবারো সমুদ্রপথে মানব পাচার তৎপরতা শুরু করেছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে জাল নাগরিক সনদ তৈরী করে পাসপোর্ট বানিয়েও রোহিঙ্গাদের বিদেশে পাচারে তৎপর এ চক্রটি। 
জল-স্থল-আকাশ পথে প্রতিদিন মানব পাচার চলছে। মূলতঃ দেশে কর্মসংস্থানের অভাব আর দারিদ্র্যের পীড়নে জীবন-জীবিকার তাগিদে মানুষ পাড়ি জমাচ্ছে বিদেশে। এসব মানুষের বেশিরভাগই প্রতারিত হচ্ছে, হচ্ছে সর্বস্বান্ত। হারাচ্ছে জীবন সমুদ্র সলিলে, কিংবা মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডের গহিন অরণ্যের গণকবরে মিলছে তাদের ঠাঁই। ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যকার সময়ে সবচেয়ে বেশি মানব পাচারের ঘটনা ঘটে সমুদ্রপথে। ওই সময়ের মধ্যে সমুদ্র পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় একাধিক নৌকাডুবিতে কয়েকশ’ মানুষের মৃত্যু হয়। এসব ঘটনায় বিশ্বব্যাপী তুমুল প্রতিবাদ ও নিন্দার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া  যৌথভাবে মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযানে নামে। এসব দেশের কঠোর তৎপরতায় সে সময়  থেকে এ পর্যন্ত ব্যাপক হারে সমুদ্রপথে মানব পাচার অনেকটা বন্ধ হলেও মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত আন্তর্জাতিক চক্রের হোতাদের বিরুদ্ধে তখন উল্লেখযোগ্য কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। বর্তমানে তারাই আবার ঘুরে ফিরে অমানবিক অথচ লাভজনক এ ব্যবসা চাঙ্গা করার কৌশল নিয়ে রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরগুলোকে  কেন্দ্র করে তৎপরতা শুরু করেছে। এ ধরনের মানব বোঝাই একটি কাঠের মাছ ধরার নৌকা ২০ এপ্রিল ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সুমাত্রা দ্বীপ থেকে ভাসমান অবস্থায় স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার করে।
এভাবেই জীবিকা অন্বেষণে যারা পথে নেমেছে, তাদেরকে লোভের ফাঁদে ফেলে পাচারের মধ্য দিয়ে এক শ্রেণির মানুষ নানারকম নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার করছে। আর যারা মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, দক্ষিণ আফ্রিকায় যাচ্ছে ভাগ্যান্বেষণে, তারা তাদের দালালদের লোকজনের জিম্মিতে পরিণত হচ্ছে। তাদের বিদেশের ভূমিতে বন্দি রেখে, অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে দেশে থাকা আত্মীয়-স্বজনদের ব্ল্যাকমেইল করে মুক্তিপণ হিসেবে টাকা-পয়সা নেয়া হচ্ছে। অনেককে মেরে ফেলাও হচ্ছে। এসব আদম ব্যাপারী আর দালালের দৌরাত্ম্য এমন সীমাহীন পর্যায়ে উপনীত হয়েছে যে, তাদের হাতে নির্যাতিত, নিগৃহীত, নিঃস্ব হচ্ছে যারা, তারা দেশে এসেও তাদের বিরুদ্ধে মুখ পর্যন্ত খুলতে সাহস পাচ্ছে না। এখনই মানব পাচার রোধে সামাজিক সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি অবৈধপথে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে উপযুক্ত শাস্তি প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে সরকার বিদেশগামী জনশক্তিকে সুরক্ষিত করবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



এলো খুশির ঈদ

এলো খুশির ঈদ

১৫ জুন, ২০১৮ ০০:১০


ফুটপাত দখলমুক্ত রাখুন

ফুটপাত দখলমুক্ত রাখুন

০৭ জুন, ২০১৮ ০০:১১









ব্রেকিং নিউজ












বিশ্বকাপে আজকের খেলা

বিশ্বকাপে আজকের খেলা

২২ জুন, ২০১৮ ০০:৪৫