খুলনা | সোমবার | ২৩ জুলাই ২০১৮ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

চলতি মাসে স্থাপন শুরু : ব্যবহার হবে বিদ্যুতের বিকল্প উৎস

কেসিসি’র ৫৮ কিলোমিটার সড়কে জ্বলবে সোলার এলইডি ও নন এলইডি বাতি

এস এম আমিনুল ইসলাম  | প্রকাশিত ০৯ মে, ২০১৮ ০১:০০:০০

সাড়ে ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) ৫৮ দশমিক ৮ কিলোমিটার সড়কে সোলার এলইডি ও নন এলইডি সড়কবাতি স্থাপন করা হচ্ছে। চলতি মাসে এ সড়কবাতি স্থাপন কাজ শুরু হবে। কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করে বিদ্যুতের বিকল্প উৎস ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ফলে  সৌরশক্তি কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব টেকসই বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে এসব সড়কবাতি জ্বলবে। কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে খরচ সাশ্রয়ীসহ নগরীর সৌন্দর্য বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি তীব্র আলোয় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির পরিমাণও অনেকাংশে কমে আসবে।
কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) এলাকায় ৫৮ দশমিক ৮ কিলোমিটার সড়কে  সোলার এলইডি ও নন এলইডি সড়কবাতি স্থাপন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২ কিলোমিটার সড়কের আওতায় ৭৭টি স্থানে একটি পরিপূর্ণ সেট অর্থাৎ এলইডি লাইট, খুঁটি, সোলার, সৌরশক্তিচালিত ডিভাইস ও সহজে বহনযোগ্য আয়তাকার সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে শিববাড়ি মোড়ে ৪টি, আট থানায় ৮টি এবং রূপসাঘাট সংলগ্ন এলাকা, রূপসা ব্রীজ, রয়্যাল মোড়, গল্লামারী মোড়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, সোলার পার্ক, গোয়ালখালী মোড়, নতুন রাস্তার মোড়, দৌলতপুর, রেলিগেট মোড় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও ফুলবাড়ীগেটে ২টি করে সোলার বাতি স্থাপন করা হবে। এছাড়া পাওয়ার হাউজ মোড়, ডাকবাংলা মোড়, পিকচার প্যালেচ মোড়, সার্কিট হাউস মোড়, নগর ভবনের সামনে, শহিদ হাদিস পার্ক, নতুন বাজার মোড়, কেএমপি, টুটপাড়া কবরখানা, পিটিআই মোড়, জাতিসংঘ পার্ক, ময়লাপোতা মোড়, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে, বয়রা ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের সামনে, বয়রা গার্লস কলেজ, জোড়াগেট রেলক্রসিং, বৈকালী রেলক্রসিং, মুজগুন্নী রেলক্রসিং, গোয়ালখালী রেলক্রসিং, নয়াবাটী রেলক্রসিং, দৌলতপুর রেলক্রসিং, আড়ংঘাটা বাইপাস, মোস্তর মোড়, বাস্তুহারা বাইপাস, জয় বাংলার মোড়, ময়ূর নদীর ব্রীজ সংলগ্ন এলাকা, মিরেরডাঙ্গার আইডি হাসপাতাল ও টিবি হাসপাতাল, খুলনা সদর হাসপাতাল, বৈকালী মোড়, আবু নাসের হাসপাতাল মোড়, মহসিন স্কুল, ফুলবাড়ীগেট শহিদ মিনার, পিটিআই মোড়, নিউজ প্রিন্ট মিল, গোয়ালপাড়া পাওয়ার স্টেশন, পলিটেকনিক কলেজ মোড়, রেল স্টেশন এলাকায় ১টি করে সোলার বাতি স্থাপন করা হবে। বাকিগুলো কর্পোরেশনের কাছে মজুদ থাকবে। এছাড়া নগরীর যশোর রোডের ডাকবাংলা থেকে জোড়াগেট মিড আইল্যান্ড, মুজগুন্নী মহাসড়ক এবং এম এ বারী সড়ক (নতুন রাস্তা আবু নাসের হাসপাতাল-জলিল স্মরণী- আড়াইশ’ বেড, সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড-গল্লামারী মোড়), মজিদ স্মরণী, কেডিএ এভিনিউ, জলিল স্মরণী রোড (খান এ সবুর রোড-রায়ের মহল মসজিদ), খানজাহান আলী রোড, জব্বার স্মরণী, যশোর রোড (জোড়াগেট-দৌলতপুর), বিআইডিসি রোড (পলিটেকনিক মোড়-নতুন রাস্তা), যশোর রোড (রেলিগেট-বাদামতলা), সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড (ময়ূরী ব্রীজ), শের ই বাংলা রোড ( পাওয়ার হাউজ-জিরো পয়েন্ট), স্টিমারঘাট-জোড়াগেট কাঁচা বাজার, কুয়েট রোড, খালিশপুর ১৮নং রোড, শিপইয়ার্ড রোড, রূপসা স্ট্যান্ড রোড, পুরাতন  যশোর রোড (কাস্টমঘাট-ডাকবাংলা), আহসান আহমেদ রোড এবং খান জাহান আলী রোড, পুরাতন যশোর রোড, গোয়ালখালী রোড ( মুজগুন্নী মহাসড়ক এবং যশোর লিংক রোড), গগণ বাবু রোড, কেডি ঘোষ রোড, হাজী মহসিন রোড, শামসুর রহমান রোড, স্যার ইকবাল রোড, সাউথ সেন্ট্রাল রোডে  ১ হাজার ৯শ’ ৪৭টি পোল ও ২ হাজার ৭শ’ ২৯টি নন এলইডি সড়কবাতি স্থাপন করা হবে। 
সূত্র আরও জানায়, ‘সোলার স্ট্রিট লাইটিং প্রোগ্রাম ইন সিটি কর্পোরেশন’ প্রকল্পের মাধ্যমে এসব সোলার এলইডি ও নন এলইডি সড়কবাতি স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়া এ প্রকল্পের আওতায় হাইড্রলিক ল্যাডার ও ২টি জীব ও পিকআপ গাড়ি কেনা হবে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)’র এডিবি’র অর্থে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জাহিদ হোসেন শেখ এ প্রতিবেদককে বলেন, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড মনোনীত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মালামাল কিনে ইতোমধ্যে সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করেছে। চলতি মাসেই স্থাপন শুরু হবে। সোডিয়াম সড়কবাতির স্থলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এসব সোলার সড়কবাতি স্থাপন করা হচ্ছে। এতে আরও থাকবে রিচার্জেবল লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি এবং সোলার প্যানেলের মাধ্যমে ব্যাটারিটি সূর্যালোকের পাশাপাশি মাইক্রোইউএসবি পোর্টের মাধ্যমেও চার্জ করার ব্যবস্থা। ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়সহ পরিবেশ বান্ধব উপায়ে সড়ক বাতি জ্বলবে। এছাড়া সড়কবাতিগুলোতে মধ্যরাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আলোর তীব্রতা কমিয়ে ড্রিম লাইটে পরিণত করার ব্যবস্থাও থাকবে। তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে খরচ সাশ্রয়ীসহ নগরীর সৌন্দর্য বহুগুন বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি তীব্র আলোয় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির পরিমানও অনেকাংশে কমে আসবে।
উল্লেখ্য, প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিলো ২০১১ সালে। কিন্তু অর্থায়নসহ নানা জটিলতায় প্রকল্পের অগ্রগতি হতাশাব্যঞ্জক হয়ে পড়ে। বর্তমানে অর্থের সংস্থান হওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে।

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ