খুলনা | শনিবার | ১৮ অগাস্ট ২০১৮ | ২ ভাদ্র ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

এসএসসি’র ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন ৭ থেকে ১৩ মে 

পাসের হার কমলেও জিপিএ-৫ বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   | প্রকাশিত ০৭ মে, ২০১৮ ০০:৫৭:০০

মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, যাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন। মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, যাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে রবিবার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফলাফলের এই অনুলিপি হস্তান্তর করেন।
প্রধানমন্ত্রীর পরে ফলাফল অনলাইনে প্রকাশ করেন; যা দুপুর ২টা থেকে দেখা যায়। তার আগে দুপুর ১টায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এবারের ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরবেন শিক্ষামন্ত্রী।
গত বছর এ পরীক্ষায় ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল, যাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৪ হাজার ৭৬১ জন। সেই হিসাবে এবার পাসের হার ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ৫ হাজার ৮৬৮ জন।
নুরুল ইসলাম নাহিদ ২০০৯ সালে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার বছর এসএসিতে পাসের হার ছিল ৬৭ দশমিক ৪১ শতাংশ। এরপর ধারাবাহিকভাবে বাড়তে বাড়তে তা ২০১৪ সালে ৯২ দশমিক ৬৭ শতাংশ হয়। কিন্তু ২০১৬ সাল থেকে পাসের হার আবার কমছে। 
গত নয় বছরের মধ্যে এবারই পাসের হার সবচেয়ে কম হলেও এ ফলাফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘ইতিবাচক পরিবর্তন’ দেখতে পাচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে ফলাফল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা, বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থী বাড়া এবং মেয়েদের ভালো ফল করার মত বিষয়গুলো তুলে ধরেন। নাহিদের মতে, বছরের প্রথম দিন সব স্কুলে নতুন বই পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখছে। 
শিক্ষা ও শিক্ষকদের মান বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উত্তরপত্রের অতি মূল্যায়ন বা অবমূল্যান রোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। “খাতা দেখার অতীতের যে ত্র“টি ছিল, সেগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা নেওয়ার ফলে একটা মান আমরা অর্জন করেছি। তবে আরও উন্নত করতে হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।”
দশ বোর্ডে এবার মোট ২০ লাখ ২৬ হাজার ৫৭৪ জন শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ১০৪ জন।
আটটি সাধারণ বোর্ডের অধীনে এবার এসএসসিতে ৭৯ দশমিক ৪০ শতাংশ, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে ৭০ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৭১ দশমিক ৯৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। অন্যদিকে এ আটটি সাধারন বোর্ডে ১ লাখ ২ হাজার ৮৪৫ জন, মাদ্রাসা বোর্ডে ৩ হাজার ৩৭১ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে জন ৪ হাজার ৪১৩ জিপিএ-৫ পেয়েছে।
ফলাফলে যেসব বোর্ড : এসএসসি পরীক্ষায় যশোর শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৭৬.৬৪ শতাংশ। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ কম। গত বছর পাসের হার ছিল ৮০.০৪ শতাংশ। পাসের হার কমলেও এ বছর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৫ শিক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৪৬০। কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে এবার পাসের হার ৮০ দশমিক ৪০ শতাংশ। এ বোর্ড ৩টি বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৮৬৫ জন শিক্ষার্থী। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ৭১১ জন শিক্ষার্থী। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পাসের হার ৭৭ দশমিক ৬২ শতাংশ। যা গত বছরের তুলনায় কম। গত বছর পাসের হার ৮৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৭৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ হাজার ৯৪ জন। বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৭৭ দশমিক ১১ শতাংশ। এরমধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে তিন হাজার ৪৬২ জন শিক্ষার্থী। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের ফলফলে এবার পাসের হার ৮৬ দশমিক ০৭ শতাংশ। গত বছর ছিল ৯০ দশমিক ৭০ শতাংশ। সে হিসেবে ফলে পাসের হার কমেছে ৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ। সিলেট বোর্ডের পরীক্ষায় পাস করেছে ৭০ দশমিক ৪২ শতাংশ শিক্ষার্থী। এই পাসের হার গতবছরের থেকে ৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ কম। গতবছর পাসের হার ছিল ৮০ দশমিক ২৬ শতাংশ। তবে এবার সিলেট বোর্ডে বেড়েছে জিপিএ ৫। গত বছর সিলেটে জিপিএ ৫ এসেছে ২ হাজার ৬শ’ ৬৩ এবং এবছর এসেছে ৩ হাজার ১শ’ ৯১। ঢাকা মাধ্যমিকে পরীক্ষায় পাসের হার ৮১ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে শীর্ষে ঢাকা বোর্ড। এ বোর্ডে ৪১ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। গত বছর ঢাকা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৪৯ হাজার ৪৮১ জন।
গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ধারাবাহিকতায় এবারও এসএসসিতে অধিকাংশ বিষয়ের প্রশ্ন পরীক্ষার আগের রাতে বা পরীক্ষার সকালে ফাঁস হয় এবং সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর আধা ঘণ্টা আগে হলে বসা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি নানাভাবে কড়াকড়ি আরোপ করেও এসএসসিতে প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
ফল পুনঃ নিরীক্ষা : রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক থেকে আগামী ৭ থেকে ১৩ মে পর্যন্ত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করা যাবে। ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করতে জঝঈ লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে বিষয় কোড লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফি বাবদ কত টাকা কেটে নেওয়া হবে তা জানিয়ে একটি পিন নম্বর (পার্সোনাল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর) দেওয়া হবে। আবেদনে সম্মত থাকলে জঝঈ লিখে স্পেস দিয়ে ণঊঝ লিখে স্পেস দিয়ে পিন নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। প্রতিটি বিষয় ও প্রতি পত্রের জন্য ১২৫ টাকা হারে চার্জ কাটা হবে। যে সব বিষয়ের দু’টি পত্র (প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র) রয়েছে যে সকল বিষয়ের ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করলে দু’টি পত্রের জন্য মোট ২৫০ টাকা ফি কাটা হবে। একই এসএমএসে একাধিক বিষয়ের আবেদন করা যাবে, এক্ষেত্রে বিষয় কোড পর্যায়ক্রমে ‘কমা’ দিয়ে লিখতে হবে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ