খুলনা | শনিবার | ২৬ মে ২০১৮ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

রোগী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দুর্দশা চরমে 

মংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টানা ২০ দিন ধরে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নেই 

মাহমুদ হাসান, মংলা  | প্রকাশিত ২৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০১:৩৩:০০

বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার চলছে মংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। টানা ২০ দিন ধরে সরকারি এ হাসপাতালে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নেই। দৈনন্দিন খাবার ও ব্যবহৃত পানির যোগান না থাকায় রোগী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দুর্ভোগ ও দুর্দশা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। পৌর সভার পানি সরবরাহ কম ও হাসপাতলের পুকুর শুকিয়ে যাওয়া পানির এ সংকট দেখা দিয়েছে। 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে , ১৯৮৬ সালে একটি ভাড়া বাড়িতে মংলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যাত্রা শুরু হয়। এরপর ১৯৯৬ সালে ৬ একর জমির উপর নির্মিত নিজস্ব ভবনে ৩১ শষ্য নিয়ে এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হয়। আর ২০০৭ সালে এটি ৫০ শয্যায় রুপান্তর হয়।বর্তমানে উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভাসহ বন্দর এলাকার প্রায় আড়াই লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবার একমাত্র ভরসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। শুধু এ উপজেলা জন্য নয় পার্শ্ববর্তী মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা ও রামপালের রোগীরাও আসে এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে। প্রতিদিন গড়ে শতাধিক রোগী আসে এখানে চিকিৎসা নিতে। আর গড় ভর্তি রোগীর সংখ্যাও অর্ধশতাধিক। এসব রোগীর সঙ্গে আত্মীয় স্বজনরাও হাসপাতালে অবস্থান করেন। অথচ বর্তমানে বিশুদ্ধ পানির অভাবে তারা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। রোগীদের খাওয়া, গোসল, হাতমুখ ধোঁয়া এমনকি টয়লেটের পানিও মিলছে না এখানে। এ অবস্থার মধ্যে তীব্র গরম আর আবহওয়া জনিত কারনে বর্তমানে হাসপাতালে ডায়রিয়া ও পানিবাহিত রোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এর মধ্যে অনেকে সামর্থ অনুযায়ী হাসপাতালের বাইরে থেকে টাকা দিয়ে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করলেও অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ খাবার পানি সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
হাসপাতলের মহিলা ও পুরুষ ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা  সিনিয়র স্টার্ফ নার্স দিপ্তি মল্লিক জানান, শুধু রোগীরাই নয়, হাসপাতালের ডাক্তার নার্সরাও রয়েছেন বিশুদ্ধ পানির সংকটে। অপারেশন ও ডায়রিয়াসহ অন্য জটিল রোগীদের চিকিৎসা শেষে হাত মুখ পরিষ্কার করার জন্যও তারা পানি পাচ্ছে না। এমনকি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের স্যালাইন মেশানোর জন্যও কোন পানি সরবরাহ করতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রায় ৩ সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে পানির এ ভয়াবহ সংকট চলছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পানির একমাত্র উৎস নিজেদের পুকুর আর একটি গভীর নলকূপ। পৌর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। কিন্তু বর্তমানে তাদের পুকুরটি শুকিয়ে গোচারন ভুমিতে পরিণত হয়েছে। তলদেশের মাটিও চৌচির হয়ে আছে। আর নলকূপের পানিও উঠছে না।
সরেজমিন হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, গ্রামাঞ্চল থেকে আসা হতদরিদ্র রোগীরা বাইরের ডোবা-নালা ও নিকটবর্তী পুকুর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করছে। আর যাদের সামর্থ রয়েছে তাদের কেউ কেউ বোতলজাত পানি কিনে আনছে। রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,পানির অভাবে তারা গোসল, টয়লেট ব্যবহার করতে পারছেন না।এ বিষয়ে হাসপাতালে কর্তৃপক্ষেরও রয়েছে অবহেলা। এখানে আয়া এবং সুইপার পদে ৮ জনের নিয়োগ থাকলেও কাজ করছে মাত্র ৩ জন। এর মধ্যে আয়া ছালেহা ও পাপিয়া আক্তার নিজ বাসভবনে এম আর নিয়ে থাকে ব্যস্ত থাকেন বলে অভিযোগ। যে কারনে হাসপাতালের টয়লেট ও অভ্যন্তরে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করে সর্বদা। 
মংলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জীবিতেষ বিশ্বাস জানান, পৌরসভা থেকে পাইপলাইনে যে পানি সরবরাহ করা হয় তা যৎসামান্য। এ পানিতে রোগী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দুই ঘন্টার চাহিদা পূরণ হয় না। অপর দিকে নিজস্ব পুকুরের পানি শুকিয়ে গেছে। যে কারনে হাসপাতলে বিশুদ্ধ পানির অভাব রয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে চেষ্টা চলছে। আগামী বছর নাগাদ এ সংকট পুরোপুরি সমাধান হবে। পানির চলমান এ সংকট দ্রুত নিরসন না হলে একদিকে গরীব অসহায় মানুষের স্বাস্থ্য সেবা ব্যহত হবে অন্য দিকে সরকারি এ হাসপাতালটি আরও দুর্দশাগ্রস্ত হয়ে পড়বে বলে জানান রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ




সেহরীতে বরকত রয়েছে

সেহরীতে বরকত রয়েছে

২৬ মে, ২০১৮ ০১:১৪










ব্রেকিং নিউজ




সেহরীতে বরকত রয়েছে

সেহরীতে বরকত রয়েছে

২৬ মে, ২০১৮ ০১:১৪

সেহরীতে বরকত রয়েছে

সেহরীতে বরকত রয়েছে

২৬ মে, ২০১৮ ০১:১৪