খুলনা | শনিবার | ২৬ মে ২০১৮ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

দেখেও দেখছেন না কলেজ প্রশাসন

মাদক ও নারী কেলেঙ্কারীসহ একের পর এক ঘটনা ঘটছে খুমেক’র আবাসিক কোয়ার্টারে

বি. হোসেন | প্রকাশিত ২৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০১:৩০:০০

খুলনা মেডিকেল কলেজের আবাসিক কোয়ার্টার মাদক ও নারী কেলেঙ্কারীসহ একের পর এক ঘটনা ঘটলেও সব দেখেও না দেখার ভান করে আছে কলেজ প্রশাসন। বহিরাগত ক্যাডাররা কলেজের শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে এসে মেরে যাওয়ার ঘটনায়ও নিশ্চুপ তারা। এসব ঘটনা কলেজের আবাসিক কোয়ার্টারে অবৈধ দখলকারীদের কারণেই হচ্ছে বলে অভিযোগ। আর তদন্ত কমিটির রিপোর্টের পরেও বহিরাগতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না কলেজ প্রশাসন। 
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মেডিকেল কলেজ ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দুলাল অবৈধভাবে চিকিৎসকদের জন্য নির্ধারিত একটি বাসা দখল করে আছেন। এ বাসায়ই সে এক মেয়েকে বাগেরহাট থেকে তুলে এনে আটকে রাখে। পরে রাতে সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মমতাজুল ইসলাম ঐ মেয়ে এবং মাদকসহ দুলালকে আটক করে। এ ঘটনায় ৩ মাস জেল খাটার পরেও অবৈধ বাসা ছাড়তে হয়নি দুলালকে। চলতি সপ্তাহে খুমেক ছাত্রাবাসের দোকানীর সাথে কথা কাটাকাটি হয় ছাত্রদের। তুচ্ছ কারণে এ ঘটনা ঘটলেও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা এসে কলেজের ছাত্রদের উপর হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে আহত করে। এ ঘটনায় কলেজ কোয়ার্টারে অবৈধভাবে বসবাসরত এক নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। পরদিন কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি আশানুর কলেজ কোয়ার্টার ও হোস্টেল চত্বরে বহিরাগত প্রবেশে কড়াকড়ির জন্য লিখিত আবেদন করেন অধ্যক্ষ বরাবর। এ ঘটনার ৫দিন পেরিয়ে গেলেও কোন ব্যবস্থা নেননি অধ্যক্ষ। সর্বশেষ গত বুধবার রাতে খুমেক এর ইন্টার্ণি হোস্টেলের পাশ থেকে ৫৩ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক বিক্রেতাকে আটক করে এসআই সোবাহান। একের পরে এক এ ধরনের ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কোয়ার্টারে বসবাসরত বৈধ চাকুরিজীবীরা। তারা বলছেন, নিরাপত্তার জন্য এত টাকা বাসা ভাড়া দিয়ে কোয়ার্টারে উঠেছি। বহিরাগতদের কারণে এমনিতেই কোনঠাসা হয়ে থাকি এরপর এ ধরণের ঘটনা ঘটতে থাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করা দুষ্কর হয়ে পড়ছে। 
সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে সরকারি কর্মচারীদের বর্তমান বেতন কাঠামো ঘোষণার আগে খুমেক এর আবাসিক কোয়ার্টারে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের সংখ্যা ছিলো হাতে গোনা। তবে বেতন বৃদ্ধির পরে বেশিরভাগ  মেডিকেল অফিসার কর্মকর্তা ও কর্মচারী খাতা কলমে বাসা ছেড়ে দিলেও বাসা ছাড়েনি অনেকে। সেই সময় থেকে অবৈধভাবে বসবাস করছে তারা। তবে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক পদমর্যাদার চিকিৎসকদের বাসায় বিনা ভাড়ায় থাকছেন মেডিকেল অফিসারদের অনেকে। ইন্টার্ণি চিকিৎসকদের জন্য কোন নির্ধারিত বাসা বরাদ্দের বিধান না থাকলেও সহকারি অধ্যাপকদের জন্য নির্ধারিত আবাসিক কোয়ার্টারে অবৈধভাবে রয়েছেন বেশির ভাগ ইন্টার্ণ চিকিৎসক। অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের বাসায় অবৈধভাবে পরিবারসহ বসবাস করছেন কন্ট্রাক্ট সার্ভিসের সিকিউরিটি গার্ড। কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক থাকছেন চিকিৎসকদের জন্য নির্ধারিত বাসায় অবৈধভাবে কোন বরাদ্দ ছাড়াই। অবশ্য অধ্যক্ষ ডাঃ আব্দুল আহাদ বলেছেন, কয়েকদিন হলো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে।আর মাদকের বিষয়টি জানা নেই। তিনি বলেন, প্রশাসন বডির সদস্যরা কেউ কেউ দেশের বাইরে অবস্থান করায় এখনই পদক্ষেপ নেয়া যাচ্ছে না। তবে এ ব্যাপারে খুব শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ




সেহরীতে বরকত রয়েছে

সেহরীতে বরকত রয়েছে

২৬ মে, ২০১৮ ০১:১৪










ব্রেকিং নিউজ




সেহরীতে বরকত রয়েছে

সেহরীতে বরকত রয়েছে

২৬ মে, ২০১৮ ০১:১৪

সেহরীতে বরকত রয়েছে

সেহরীতে বরকত রয়েছে

২৬ মে, ২০১৮ ০১:১৪