খুলনা | শুক্রবার | ২৭ এপ্রিল ২০১৮ | ১৪ বৈশাখ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

অফিসে ঝুলছে তালা : কর্মকর্তারা পলাতক

চুলকাঠিতে চলন্তিকার সহস্রাধিক গ্রাহক আমানতের প্রায় ২০ কোটি টাকা নিয়ে শঙ্কিত

চুলকাঠি ও সিএন্ডবি বাজার প্রতিনিধি | প্রকাশিত ১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০১:২৮:০০

চুলকাঠিতে চলন্তিকার সহস্রাধিক গ্রাহক আমানতের প্রায় ২০ কোটি টাকা নিয়ে শঙ্কিত


চুলকাঠিতে চলন্তিকা যুব সোসাইটির প্রায় সহস্রাধিক গ্রাহক তাদের আমানত ও সঞ্চয়ের ২০ কোটিরও বেশি টাকা নিয়ে শঙ্কিক হয়ে পড়েছেন। কি আছে তাদের ভাগ্যে? কোথায় গেলে তাদের শেষ রক্ষা হবে? এ নিয়ে হতাশাগ্রস্ত গ্রাহকরা। এসব গ্রাহকদের অধিকাংশই তাদের সহায়-সম্বল যা ছিল তাই সঞ্চিত বা আমানত গচ্ছিত রেখেছিল চলন্তিকায় উচ্চ মুনাফা লাভের আশায়।
জানা গেছে, বাগেরহাট সদর উপজেলার চুলকাঠি বাজারে চলন্তিকা যুব সোসাইটির কার্যক্রম শুরু হয় প্রায় ১০ বছর আগে। স্থানীয় কর্মী নিয়োগ ও উচ্চ মুনাফা দিয়ে চলন্তিকা ‘হট কেকের’ মতো লাফিয়ে লাফিয়ে সাড়া জাগানো একটি এনজিওতে পরিণত হয়। একদিকে স্থানীয় কর্মীদের উপর আস্থা, অন্যদিকে নাম ডাক দুই-ই মিলে চুলকাঠি বাজারের ব্যবসায়ীসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হয়। বাজারের ব্যবসায়ীরা ব্যবসায় মূলধনের বিনিয়োগের পাশাপাশি চলন্তিকায় লক্ষ লক্ষ টাকা গচ্ছিত রাখে। এলাকার ছোট ছোট দোকানী, ব্যবসায়ী, ভ্যান-চালক, কুলি-মজুরসহ নিম্নআয়ের লোকজন তাদের সকল গচ্ছিত ও সঞ্চয়কৃত টাকার নিরাপদ স্থান হিসেবে এখানে টাকা বিনিয়োগ করে। আবার খুলনা-মংলা রেল কর্তৃপক্ষ রেলের জমি অধিগ্রহণে চুলকাঠি এলাকার লক্ষ লক্ষ আপিল লোক এ টাকার বড় অংশ উচ্চ মুনাফায় বিশ্বস্ত ও  নিরাপদ স্থান হিসেবে এখানে  বিনিয়োগ করে। 
চুলকাঠি বাজারের মোবাইল ব্যবসায়ী দেবব্রত কুমার ভদ্র জানান, তিনি তার বোনের কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা এনে এখানে গচ্ছিত রেখেছিলেন। ৩ বছর মেয়াদী এক লাখে ১৪শ’ টাকা মুনাফায় তিনি এই টাকা বিনিয়োগ করেন। প্রায় মাস খানেক ধরে চলন্তিকার কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কথা উঠলে স্থানীয় কর্মকর্তারা তাকে অভয় দেন। বাজারের স্বর্ণকার অমিত কর বিলাস জানান, তার প্রায় ১১ লক্ষ টাকা চলন্তিকায় আমানত রয়েছে। এছাড়া এলাকার ব্যবসায়ী মিন্টু দেবনাথ, কমলেশ সাধু, আঃ হালিম শেখ, নির্মল আচার্য্য, প্রভাস আচার্য্য, নিভাস আচার্য্য, নিশির আচার্য্য, ননী গোপাল আচার্য্য, গোপাল পাল, তপন সাধু, শংকর দত্ত, কৃষ্ণ মন্ডল, মোজাফ্ফার শেখ, গোপাল ঘোষ, চন্দন দেবনাথ, সাধন দেবনাথ, সাধন শীল, বেল্লাল মোড়ল, শিবপদ সাহা, ওহিদুল ইসলাম শেখ, রাজ্জাক গাজীসহ এলাকার প্রায় সহস্রাধিক গ্রাহক এখন প্রতারণার শিকার হয়ে বিনিয়োগকৃত টাকা ফেরত পাবার ক্ষীণ আশা নিয়ে প্রহর গুণছে। এদিকে চলন্তিকা সোসাইটির চুলকাঠি শাখায় কর্মরত বাদশা শেখ, দেবতোষ দাশ, ওমর ফারুক, সঞ্জিতা দত্ত, দীপা দত্ত, সাগর কুন্ডু, কামাল, লিটন দত্ত, রানা দেবনাথ, সাগর, মিতা দাশ, পূর্ণিমা দাশ, অর্পণা রানী, শংকর মন্ডল, রিপন দাশ, গৌরাঙ্গ ঘোষসহ প্রায় ডজন খানেক স্থানীয় কর্মকর্তা ও মাঠকর্মী এখন পলাতক রয়েছেন। তাদের মোবাইলে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের সাথে কথা বলা যায়নি। তাই চুলকাঠি শাখায় গ্রাহকদের প্রকৃত সংখ্যা ও আমানতের টাকার পরিমাণ সঠিকভাবে জানা না গেলেও বিভিন্ন গ্রাহকদের ধারণামতে গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় এক হাজারের কাছাকাছি এবং গচ্ছিত টাকার পরিমাণ আনুমানিক ২০ কোটি টাকা হতে পারে। 
এদিকে চুলকাঠি শাখার ব্যবস্থাপক মোঃ বাদশা শেখের সাথে সপ্তাহ খানেক আগে কথা হলে তিনি জানিয়েছিলেন, এখানে কর্মরত কর্মীদের অধিকাংশ স্থানীয় লোক। তারাতো চলন্তিকায় নিয়োগ পেয়ে কাজ করে আছে। স্থানীয় লোকজনও তাদের দেখে চলন্তিকায় ঝুঁকে পড়ে। তারা তাদের উপরি মহলের সাথে আলাপ করেছেন এবং এলাকার গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। চলন্তিকা সোসাইটির এমডি খবিরুজ্জামানের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার সাথেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ