খুলনা | শুক্রবার | ২৭ এপ্রিল ২০১৮ | ১৪ বৈশাখ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস

দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে আনীত অভিযোগ অস্বীকার সংসদ সদস্য মিজানের

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০১:২৫:০০

ক্ষমতার অপব্যবহার করে খুলনা সিটি কর্পোরেশন ও অন্যান্য সরকারি অফিসের ঠিকাদারি কাজ পরিবারের সদস্যদের নামে নিয়ে নামমাত্র কাজ করে বাকি টাকা আত্মসাৎ ও মাদকের ব্যবসার মাধ্যমে শত কোটি টাকা সম্পদ অর্জনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)’র কাছে মৌখিক জবাব দিয়েছেন নগর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজান। 
গতকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে ঢাকার সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে ৫ ঘন্টাব্যাপী এ জবাব দিয়েছেন তিনি। দুদক কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন সংস্থাটির উপ-পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ। এছাড়া অভিযোগের বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে তার কাছে কিছু কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য গতকাল গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুদক কার্যালয়ে নির্ধারিত দিনে গতকাল জবাব দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এমপি মিজানুর রহমান মিজান সময়ের খবরকে জানান, আমার জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে বেনামে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে দুদকে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। একটি বৈরী আসনকে আ’লীগের পক্ষে পজিটিভ করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। আজকে একটি পরিণতিতে পৌঁছেছি। সে কারণেই আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। 
তিনি বলেন, আমি কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করছি না। একটি মহল জড়িত, জানি না তারা কারা, তবে তারা খুবই ক্ষমতাশালী। দুদক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছে। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আমি সে বিষয়ে অবগত হলাম। “আমি চাই, দুদক যেন সঠিকভাবে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে। ডিজিটাল যুগে তথ্য গোপন করার সুযোগ নেই। সব তথ্য-উপাত্ত নিয়ে সঠিকভাবে তদন্ত করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। তিনি দুদকের এ তদন্ত কাছে সর্বাত্মক সহোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন। 
কেসিসি’র ঠিকাদারী কাজের সম্পর্কে তিনি বলেন, এখন সরকারি সকল টেন্ডারের কার্যক্রম অনলাইনে হয়। এখানে অনিয়ম করার কি সুযোগ রয়েছে তা আমার ধারণা নেই। 
মাদকের ব্যবসার সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি কেমন তা খুলনার মানুষ জানে। মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত কথা বলার কারনে প্রকৃত মাদকের সাথে জড়িত রাঘব বোয়ালদের হিংসার পাত্র হয়েছি। 
ঢাকা-খুলনাসহ একাধিক স্থানে জমি, ফ্লাটের মালিকানা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি দুদক কর্মকর্তাদের বলেছি, কোথায় আমার নামে জমি ও ফ্লাট আছে তা দেখিয়ে দিন। সেগুলো যদি আমার হয় আমাকে বুঝিয়ে দিন। 
তিনি আরও বলেন, রাজনীতিতে প্রতিপক্ষ থাকে এটা সকলেই জানেন। আমার জনপ্রিয়তা ও সাধারণ মানুষের সাথে সু-সম্পর্কের মাঝে বাধা সৃষ্টি এবং হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি কোন অনিয়ম করিনি ও আমার পরিবারের কোন সদস্যও অনিয়মের সাথে জড়িত নেই। এ সকল মিথ্যা অভিযোগের কারনে হয়রানির হাত থেকে মুক্তি পেতে সৃষ্টিকর্তার কাছে খুলনাবাসীর পক্ষ থেকে দোয়া কামনা করেন তিনি।    
উল্লেখ, গত ৪ এপ্রিল মিজানুর রহমান মিজান এমপিকে তলব করে চিঠি পাঠায় দুদক। নির্ধারিত দিনে গতকাল তিনি দুদক কার্যালয়ে হাজির হয়ে মৌখিক জবাব দিয়েছেন।  

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ