খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৬ এপ্রিল ২০১৮ | ১৩ বৈশাখ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

হলফনামা পর্যালোচনা : ওয়ার্ড ১ 

কাউন্সিলর শাহাদাত মিনার আয় বেড়েছে চারগুণ প্রতিদ্বন্দ্বীতায় ব্যবসায়ী-চাকুরিজীবী-ঠিকাদার

মোহাম্মদ মিলন | প্রকাশিত ১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০১:২৪:০০

খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নগরীর ১নং ওয়ার্ডে আ’লীগ ও বিএনপি মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থীর পাশাপাশি রয়েছে আরও ৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এর মধ্যে আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর শাহাদাত মিনা শ্রমিক সরদার থেকে এখন রড ও সিমেন্টের ব্যবসায়ী। গত ৫ বছরে  তার আয় বেড়েছে চারগুণ। তবে বার্ষিক আয়ের দিক দিয়ে এগিয়ে বিএনপি মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী মোঃ মহিউদ্দিন। আর মামলায় রয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজুর রহমান স্বপন। এই তিন প্রার্থীই বিএ পাস। অন্য প্রার্থী শেখ আব্দুর রাজ্জাক চাকুরিজীবী। তিনি মাস্টার অব আর্টস পাস। এ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীদের হলফনামায় এমন তথ্য মিলেছে। 
কাউন্সিলর শাহাদাত মিনা : পেশা হিসেবে রড, সিমেন্টের (মেসার্স সাভা এন্টারপ্রাইজের মালিক) ব্যবসাকে হলফনামায় দেখিয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর ও আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী। তার বার্ষিক আয় ৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে ব্যবসা থেকে বছরে ৬৫ হাজার টাকা এবং কাউন্সিলর হিসেবে বছরে সম্মানী ভাতা ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। তার নিজ নামে নগদ ২ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ২ লাখ ৭২ হাজার টাকা। ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও আসবাবপত্র রয়েছে। পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত যৌথ মালিকানায় অকৃষি জমির দশমিক ১৩০০ একর এর মধ্যে তার অংশ ৪ শতক এবং বাড়িতে ১ তলা ইমারত তার। তিনি একটি মামলায় অভিযুক্ত, যার সাক্ষী চলমান রয়েছে। আর পূর্বের একটি মামলায় বেকসুর খালাস পেয়েছেন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ পাস।    
অন্যদিকে ২০১৩ সালের ১৫ জুন কেসিসি নির্বাচন অনুষ্ঠানের পূর্বে কমিশনে জমা দেয়া হলফনামায় তিনি পেশা উল্লেখ করেছিলেন মানিকতলা খাদ্য গুদামের শ্রমিক সরদার। এখান থেকে তার বার্ষিক কমিশন (আয়) ছিল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। সে সময়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ছিলো ২ লাখ টাকা আর আবাসিক ১৩ শতক পৈতৃক জমির ছিল তার। তার স্ত্রী’র ৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ছিল। 
মোঃ মহিউদ্দিন : রড, সিমেন্ট, বালু, ইট ও খোয়ার সাধারণ ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী পেশা হিসেবে হলফনামায় দেখিয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোঃ মহিউদ্দিন। তার বার্ষিক আয় ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ব্যবসা থেকে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং বাড়ি ভাড়া থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তার নগদ রয়েছে ১ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর ২০ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমান ২ লাখ টাকা। স্ত্রীর ১০ তোলা স্বর্ণালঙ্কার। বাড়ির যৌথ মালিকানায় তার অংশ দশমিক ০৩১৮ একর। তিনি বিএ পাশ। ২০১৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আয়কর রিটার্ণ ফরম অনুযায়ী তার দায়-দেনার পরিমাণ হাউজ বিল্ডিং ও হাত লোন ১৮ লাখ ৪২ হাজার ৬৭২ টাকা।    
শেখ আব্দুর রাজ্জাক : পেশায় চাকুরিজীবী হিসেবে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন শেখ আব্দুর রাজ্জাক। তিনি মিরেরডাঙ্গা এলাকার নরতিক উড্স লিমিটেড-এর পাবলিক রিলেশন ম্যানেজার পদে চাকুরি করেন। এখান থেকে তার বার্ষিক আয় ৫ লাখ ১৯ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার নিজের নগদ ৮ লাখ ২০ হাজার টাকা রয়েছে। আছে দেড়লাখ টাকার ইলেকট্রিক মালামাল ও আসবাবপত্র। স্ত্রীর রয়েছে ২৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১১৮ দশমিক ২৬ শতক কৃষি জমি এবং ৫ দশমিক ০৭ শতক অকৃষি জমি। রয়েছে একতলা বিল্ডিং। শিক্ষাগত যোগ্যতা মাস্টার অব আর্টস পাস।  
এস এম আজিজুর রহমান স্বপন : পেশা হিসেবে ‘সরকারি খাদ্য শষ্য পরিবহন ঠিকাদার’ ব্যবসা হিসেবে হলফনামায় উলে¬খ করেছেন কাউন্সিলর প্রার্থী এস এম আজিজুর রহমান স্বপন। ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৮৪ হাজার ৯০ টাকা। আর চাকুরি থেকে তার উপর নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় ২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ, বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জ শেয়ার, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রয়েছে ৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা। পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী জামানতে বিনিয়োগ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তার ও তার স্ত্রীর ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র রয়েছে। স্ত্রীর ১ লাখ টাকা মূল্যের ৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে। স্থাবর সম্পদের মধ্যে তার অকৃষি জমি ১১ শতক ও আবাসিক এর মূল্য ৩২ লাখ টাকা। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ পাস। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে চারটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, আর পূর্বের দু’টি মামলার মধ্যে একটিতে অব্যাহতি ও অন্যটিতে খালাস পেয়েছেন।  
এছাড়া ১নং ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছেন মোঃ শাহজী কামাল টিপু, মোঃ জাহাঙ্গীর লস্কর ও রোজিনা বেগম রাজিয়া। যদিও এ ওয়ার্ডে ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে ২ জনের প্রার্থীতা বাতিল হয়েছে। এ ওয়ার্ডে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা ১৪ লাখ ৯৩২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৭ হাজার ৫১৯ ও মহিলা ৭ হাজার ৪১৩ জন ভোটার। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ