খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৮ অক্টোবর ২০১৮ | ২ কার্তিক ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

মুশফিক, মুজ্জাম্মিল ও বাবুর খরচ অনুদান নির্ভর

তালুকদার খালেক নিজের অর্থে নির্বাচনী ব্যয় করবেন : মঞ্জু ধারের টাকায়  

আশরাফুল ইসলাম নূর | প্রকাশিত ১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০১:২২:০০

খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক নিজের অর্থ নির্বাচনীয় প্রচার-প্রচারণায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। আর বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু নিজের পাশাপাশি স্ত্রী, শ্যালক ও দলের নেতাদের কাছ থেকে ধার করে নির্বাচন করছেন। এছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী এস এম শফিকুর রহমান মুশফিক ভাইদের কাছ থেকে এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোঃ মুজ্জাম্মিল হক ছেলেদের কাছ থেকে এবং সিপিবি’র প্রার্থী মিজানুর রহমান বাবু নিজের আয়ের পাশাপাশি অনুদানের অর্থ নির্ভর নির্বাচন করছেন। কেসিসি নির্বাচন রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্রের সাথে জমা দেয়া প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের উৎস ও ব্যয় বিবরণীতে (ঢ-ফরম) এসব তথ্য দেখা গেছে। কেসিসি নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বী পাঁচ প্রার্থীই মনোনয়নপত্রের সাথে এসব তথ্য প্রদান করেন। আগামী ১৫ মে কেসিসি’র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
কেসিসি নির্বাচন রিটার্নিং কর্মকর্তা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোঃ ইউনুচ আলী বলেন, “ভোটরের আনুপাতিক হারে খুলনায় একজন মেয়র প্রার্থী ১৫ লাখ টাকা ও ব্যক্তিগত ৭৫ হাজার টাকার বেশি ব্যয় করতে পারবেন না। নির্বাচনের পর প্রার্থীদের ব্যয়ের রিটার্ন জমা দিতে হবে। তখন এগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে।”
সুশাসনের জন্য নাগরিক ‘সুজন’ খুলনা জেলা সাধারণ সম্পাদক এড. কুদরত-ই-খুদা বলেন, “প্রার্থীদের খরচ নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে হবে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পূর্বশর্তই হলো প্রার্থীদের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা। কারণ যেকোন প্রার্থী নির্বাচনী ব্যয়ের উপর নির্ভর করে পেশীশক্তি, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা রকমের নৈরাজ্য সৃষ্টির সম্ভাবনা। ফলে কেসিসি নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হলে অবশ্যই নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে প্রার্থীদের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে প্রথম থেকেই মনিটরিং করতে হবে।”
মনোনয়নপত্রের সাথে জমা দেয়া ঢ-ফরম অনুযায়ী সিটি নির্বাচনে আ’লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক ব্যয় করবেন মোট ১৫ লাখ টাকা। নিজের সম্মানী ও ব্যবসা থেকে উপার্জিত অর্থ ব্যয় করবেন তিনি। নির্বাচনী ব্যয় হিসেবে তিনি দেখিয়েছেন এক লাখ পোস্টার ছাপতে সাড়ে চার লাখ টাকা, পাঁচ থানায় পাঁচটি নির্বাচনী অফিসে ব্যয় এক লাখ ৬৪ হাজার, কেন্দ্রীয় নির্বাচনী অফিসে ব্যয় এক লাখ, প্রার্থী ও তার কর্মীদের যাতায়াত ব্যয় ৫০ হাজার ও ঘরোয়া বৈঠক খাতে ২০ হাজার টাকা। দেড় লাখ লিফলেট ছাপতে এক লাখ ২০ হাজার টাকা। এছাড়া তিনি হ্যান্ডবিল, ব্যানার, ডিজিটাল ব্যানার, পথসভায় মাইক ও হ্যান্ডমাইক ব্যবহার, মাইকিং, পোর্ট্রেট মুদ্রণ, প্রতীক তৈরি, নির্বাচনী আপ্যায়ন, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারসহ বিভিন্ন খাতে এ টাকা ব্যয় করবেন।
বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু নির্বাচনী ব্যয়ের উৎস হিসেবে দেখিয়েছেন নিজের বাড়ি ভাড়া থেকে দুই লাখ টাকা, আইনজীবী স্ত্রী সৈয়দা সাবিহার কাছ থেকে দুই লাখ, ব্যবসায়ী শ্যালক সৈয়দ গোফরানুজ্জামানের কাছ থেকে তিন লাখ, মুজগুন্নী পুলিশ লাইন এলাকার খন্দকার শহীদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ধার হিসেবে পাঁচ লাখ ও সদর থানা বিএনপি’র সভাপতি আবদুল জলিল খান কালামের অনুদান তিন লাখ টাকা। নির্বাচনী ব্যয় হিসেবে দেখিয়েছেন ৬০ হাজার পোস্টার ছাপতে ৯০ হাজার টাকা, সাতটি নির্বাচনী ক্যাম্প খাতে ৭৭ হাজার, কেন্দ্রীয় নির্বাচনী অফিস খাতে ৩০ হাজার, প্রার্থী ও তার কর্মীদের যাতায়াত খাতে ৬০ হাজার ও ঘরোয়া বৈঠক খাতে ৬৬ হাজার টাকা। এছাড়া লিফলেট ছাপা, হ্যান্ডবিল, ব্যানার ও ডিজিটাল ব্যানার তৈরি, মাইক ও হ্যান্ডমাইক, পোর্ট্রেট তৈরি, নির্বাচনী প্রতীক, আপ্যায়ন, টেলিভিশন, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারসহ বিভিন্ন খাতে বাজেট বরাদ্দ রেখেছেন।
জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী এস এম শফিকুর রহমান মুশফিক নির্বাচনী ব্যয়ের উৎস হিসেবে দেখিয়েছেন তার কৃষিজাত পণ্য বিক্রি থেকে পাঁচ লাখ টাকা, জমিজমার ব্যবসা করা ভাই ওয়াসিকুর রহমানের কাছ থেকে ধার দুই লাখ, জমিজমার ব্যবসা করা আরেক ভাই মফিজুর রহমানের কাছ থেকে অনুদান এক লাখ, নগরীর মুন্সীপাড়া এলাকার কাজী হাসানুর রশীদ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ধার দুই লাখ ও ফারাজীপাড়া রোডের আনিসুর রহমান মিলটন নামের এক ব্যক্তির অনুদান এক লাখ টাকা। তিনিও নির্বাচনী ব্যয় হিসেবে পোস্টার ছাপা, নির্বাচনী ক্যাম্প, ঘরোয়া বৈঠক, লিফলেট, মাইকিংয়ে প্রচার, নির্বাচনী প্রতীক, আপ্যায়নসহ নানা খাতের কথা উল্লেখ করেছেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী মোঃ মুজ্জাম্মিল হক নির্বাচনী ব্যয়ের উৎস হিসেবে দেখিয়েছেন নিজের ব্যবসা থেকে এক লাখ টাকা, ছেলে তানভীরের কাছ থেকে ধার ৫০ হাজার, আরেক ছেলে মঞ্জুরুলের কাছ থেকে অনুদান ৫০ হাজার, সোনাডাঙ্গা এলাকার মুফতি আমানুল্লাহ ও আমজাদ হোসেন নামের দুই ব্যক্তির কাছ থেকে ধার ৫০ হাজার, গোয়ালখালী এলাকার আবদুল আউয়াল নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে অনুদান এক লাখ ও ডাঃ মোখতার হুসাইন নামের আরেক ব্যক্তির কাছ থেকে দান এক লাখ টাকা। নির্বাচনী ব্যয় হিসেবে তিনি পোস্টার ছাপা, নির্বাচনী ক্যাম্প, ঘরোয়া বৈঠক, লিফলেট, ডিজিটাল ব্যানারসহ বিভিন্ন খাতের কথা উল্লেখ করেছেন।
সিপিবি’র মেয়র প্রার্থী মিজানুর রহমান বাবু নির্বাচনী ব্যয়ের উৎস হিসেবে দেখিয়েছেন নিজস্ব ব্যবসা থেকে এক লাখ টাকা, তার চাকরিজীবী ভাই মসিউর রহমানের কাছ থেকে এক লাখ ও সিপিবি খুলনা জেলা কমিটির অনুদান ১০ হাজার টাকা। তিনি নির্বাচনী ব্যয় দেখিয়েছেন ২০ হাজার পোস্টার ছাপতে ৪০ হাজার টাকা, ১০টি নির্বাচনী ক্যাম্পে ব্যয় ২০ হাজার, প্রার্থীর কেন্দ্রীয় ক্যাম্পে ব্যয় ২০ হাজার, ঘরোয়া বৈঠক খাতে ৫০ হাজার ও এক লাখ লিফলেট ছাপতে ৩০ হাজার টাকা। ব্যানার, পথসভা ও মাইকিং খাতে তার কোনো ব্যয় নেই। যদিও সিপিবি নেতা মিজানুর রহমান বাবু দলীয় মনোনয়নপত্রের সাথে জমা দেয়া হলফনামায় তার ও তার উপর নির্ভরশীলদের আয়ের উৎস শূন্য দেখিয়েছেন। আবার নগদ টাকা দেখিয়েছেন দুই লাখ টাকা।

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


নির্বাচনী ট্রেনে আওয়ামী লীগ

নির্বাচনী ট্রেনে আওয়ামী লীগ

০৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:৩০









খুলনা-৪ আসনে নৌকার মাঝি কে?

খুলনা-৪ আসনে নৌকার মাঝি কে?

০১ অগাস্ট, ২০১৮ ০২:৩০



ব্রেকিং নিউজ

নগরীতে ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণহীন 

নগরীতে ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণহীন 

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০৫

ইসিতে মতবিরোধ স্পষ্ট

ইসিতে মতবিরোধ স্পষ্ট

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০৬

ক্রিমিয়ার কলেজে হামলায় নিহত ১৮

ক্রিমিয়ার কলেজে হামলায় নিহত ১৮

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০৪



শেখ রাসেলের ৫৪তম জন্মদিন আজ

শেখ রাসেলের ৫৪তম জন্মদিন আজ

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০৩