দাকোপে সদস্যদের প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাত  করে উধাও ডে-নাইট পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থা


দাকোপ উপজেলার সদস্যদের প্রায় টাকা ২ কোটি টাকা আত্মসাত করে উধাও হয় বেসরকারি এনজিও ডে-নাইট পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থা। পরে প্রতারণার দায়ে সংস্থাটির উপজেলা শাখা ব্যবস্থাপক সুফলা মন্ডল সদস্যদের হাতে আটক হয়।
সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ করেন উক্ত সংস্থার সদস্যরা। অভিযোগের বিষয় জানতে পেরে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় পানখালী ফেরীঘাট এলাকা থেকে ১২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাখা ব্যবস্থাপককে আটক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে নিয়ে আসেন প্রতারণার শিকার দরিদ্র ও হতদরিদ্র মানুষেরা। 
সংস্থাটির কর্মীর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চালনা বাজারে অবৈধভাবে ২৭ জন কর্মী নিয়োগ করা আছে। তারা ৭ বছরে সাড়ে ৫ হাজার সদস্যদের নিকট থেকে দৈনিক ১০ টাকা থেকে শুরু করে গ্রাহকের সাধ্য ও চুক্তি অনুযায়ী সঞ্চয় আদায় করত। এদিকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে সংস্থা চলে যাওয়ায় বিপদে রয়েছে সংস্থার মাঠ কর্মীরা। কারণ এরা সবাই স্থানীয় বাসিন্দা, তাই সদস্যরা তাদের টাকার জন্য কর্মীদের সাথে ইতোমধ্যে বাক-বিতন্ডা শুরু করেছে। পানখালী গ্রামের মাঠ কর্মী জেসমিন খাতুন বলেন, আমাকে মৌখিকভাবে নিয়োগ করেন সুফলা মন্ডল। সদস্যরা আমাকে চেনে। তারা আমার কাছে টাকা দিয়েছে। এখন সংস্থাটি চলে যাওয়ায় গ্রাহকরা আমাকে বিরক্ত করছে। তাই ব্যবস্থাপককে আটক করে সদস্যদের কাছে দিয়েছি। চালনা বাজারের মাঠ কর্মী দিপা সাহা, হাসিনা বেগমসহ আরও অনেকে জানান, সুফলা মন্ডলের অধীনে আমরা কাজ করতাম। প্রতিদিন যে টাকা আদায় করতাম তা অফিসে জমা দিয়ে থাকি। তারপর মাস শেষে আদায়ের উপর প্যার্সেন্ট হিসাব করে আমাদের বেতন দিয়ে থাকে। নির্ধারিত কোন বেতন ছিল না। চালনা লেকের পাড়ের হতদরিদ্র পঙ্গু নিরাপদ মিস্ত্রী বলেন, আমি ভিক্ষা করে দৈনিক ১০ টাকা করে ৯ মাস ধরে ডে নাইট সংস্থার কর্মীর কাছে সঞ্চয় জমা করেছি, আমার টাকা আমি পাব তো? একই ধরনের প্রশ্ন নিরাপদ’র বিধবা বোন সবিতা মিস্ত্রীর। সবিতা মিস্ত্রী বলেন, আমি পরের বাড়ি খেটে ২০ টাকা করে সঞ্চয় দিয়েছি আমার কষ্টার্জিত টাকা ফেরত দেবে তো। চালনা বাজারের ব্যবসায়ী রুহুল আমিন বলেন, আমি প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে ১১ মাসে ৩৩ হাজার টাকা সঞ্চয় করেছি। 
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় শাখা ব্যবস্থাপক সুফলা মন্ডলের কাছে। তিনি কোন কিছু না জানিয়ে বলেন, আমি এখন কিছু বলতে পারছি না। আমার অফিসে গিয়ে দেখে আসেন। কিন্তু অফিসে গিয়ে দেখা যায় তালা ঝুলানো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মারুফুল আলম বলেন, সন্ধ্যার পর শাখা ব্যবস্থাপক সুফলা মন্ডলকে নিয়ে আমার বাস ভবনে আসলে উভয়ের নিকট সব কিছু শুনেছি। পরে তাকে আইনের মাধ্যমে থানায় প্রেরণ করি। থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাহাবুদ্দিন চৌধুরী বলেন, দেনাদার এবং পাওনাদার উভয়ের মধ্যে একটি চুক্তির সিদ্ধান্ত হয়। সদস্যদের দাবি অনুযায়ী ২ কোটি টাকার স্বাক্ষরিত অঙ্গীকার নামায় মধ্যে প্রথম অবস্থায় সংস্থাটির উপজেলা শাখা ব্যবস্থাপক সুফলার কাছ থেকে ৫টি চেকের মাধ্যমে ১২ লাখ টাকার আমানত ও ১ মাসের অঙ্গীকার নেয়া হয় বলে জানান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এড. শুভদ্রা সরকার। তিনি আরও জানান, গ্রাহকদের বাকী টাকা পরবর্তীতে পরিশোধ করবে বলে সিদ্ধান্ত হয় শাখা ব্যবস্থাপকের সাথে। পরবর্তীতে তার স্বামী ও ছেলের হেজাজতে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। 
অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক চলন্তিকা যুব সোসাইট ও ডে-নাইট পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থায় তাদের টাকা সঞ্চয় করেছিল তাই উপজেলার বাজুয়া এবং চালনা পৌরসভাতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। 


footer logo

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।