খুলনা | শুক্রবার | ২৭ এপ্রিল ২০১৮ | ১৪ বৈশাখ ১৪২৫ |

বিদায় ১৪২৪ স্বাগত ১৪২৫

১৪ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:৫৬:০০

বিদায় ১৪২৪ স্বাগত ১৪২৫


আজ পহেলা বৈশাখ। প্রকৃতি যেন সেজেছে নূতন সাজে। ফুলে ফলে ভরে উঠেছে বৃক্ষরাজি। মানুষের মনে সঞ্চারিত হয়েছে নূতন আবেগ। কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশের মানুষের আনন্দ উৎসবের সাথে নিবিড় সংযোগ রয়েছে ফসলের। আর নববর্ষের সাথে জড়িয়ে রয়েছে ফসল বোনার আনন্দ। আসলে বাংলা সনের উৎপত্তি হয়েছে এই দেশের মানুষের জীবনধারা এবং প্রকৃতির বিচিত্রতার নিরিখে। বাঙালি জাতির ইতিহাস যেমন বহুভাবে সমৃদ্ধ ঠিক একইভাবে বাংলা সনের  ইতিহাস এ বেশ সমৃদ্ধ। এই সমৃদ্ধতার পেছনে নানা ঘটনা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও রয়েছে। বাংলা সন নিয়ে গবেষকদের মধ্যে নানা ধরনের বক্তব্য রয়েছে। রয়েছে ব্যাখ্যা বিশে¬ষণ। তবে বাঙলা সাল নিয়ে তেমন কোনো মত বিরোধ নেই। 
প্রধানত, ফসলের মৌসুম চিহ্নিতকরণ ও খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে মুঘল শাসনামলে বাংলা পঞ্জিকার প্রবর্তন করা হয়। সম্রাট আকবর ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ বা ১১ মার্চ প্রবর্তন করেন বাংলা সন এবং তা কার্যকর হয় তার সিংহাসন-আরোহণের সময় হতে (৫ নভেম্বর ১৫৫৬)। হিজরি চান্দ্রসন ও সৌরবর্ষকে ভিত্তি করে বাংলা সন প্রবর্তিত হয়। ফসল বোনা এবং খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে প্রবর্তিত হয় এই নূতন অব্দ। নূতন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত হলেও পরে তা ‘বঙ্গাব্দ’ নামে স্বীকৃত হয়। এই হিসাবে বাংলা সনের ঐতিহ্য চার শতাধিক বছরের। এত বছরে এই অব্দ এখন মিশে গেছে সমগ্র জাতির অস্থিমজ্জায়। চৈত্রে রবিশস্য, বৈশাখে বোরো ধান, জ্যৈষ্ঠে পাকা আম-কাঁঠাল, আষাঢ়-শ্রাবণে ঘনঘোর বরিষা, শরতে কাশবনে বাতাসের দোলা, অঘ্রাণে নবান্নের উৎসব, পৌষে পিঠাপুলির ধুম, মাঘে কনকনে শীত, এসবই আমাদের লোকায়ত জীবনধারার অতি পরিচিত অনুষঙ্গ। এইসবের শুরু হয় নববর্ষের ভিতর দিয়েই। নববর্ষের চিরাচরিত উৎসবের মধ্যে রয়েছে হালখাতা, চাষাবাদ, বীজ বপন, বৈশাখী মেলা, মধু মাসের মেলা ও আঞ্চলিক উৎসব। যদিও বাংলাদেশে নাগরিক জীবন এবং সরকারি কর্মকাণ্ডের সবকিছুই পরিচালিত হয় গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী। তবুও বাঙালির মন ও মননে বাংলা নববর্ষ অনন্য এক স্থান দখল করে আছে। বাংলার কৃষক এখনো বাংলা মাসের হিসাব ধরেই জীবন ও জীবিকা পরিচালিত করেন। 
বাঙালির আত্ম পরিচয়ের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে এর ঐতিহ্য। সম্প্রতি সৃষ্টি এ সভ্যতা। হাজার বছরের ধারাবাহিক ইতিহাস সে কথারই সাক্ষ্য দেয়। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও ঘটেছে পরিবর্তন। একটি বছর আমাদের জাতীয় জীবন থেকে বিদায় নিচ্ছে। একটি বছরে নানা ঘটনা দুর্ঘটনা ঘটেছে। রাজনীতিতে নানা পট পরিবর্তন হয়েছে। নানা ঝড় ঝঞ্জাট পার হয়েছে গেল এক বছরের বারো মাসে। নান ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে আমাদের জাতীয় জীবন থেকে ১৪২৪ বিদায় নিচ্ছে। বিদায়ী বছরের অপশক্তি জঞ্জাল ও অপসংস্কৃতি দূর হোক। স্বাগত জানাই ১৪২৫ সালকে। কামনা করি সুন্দর হোক নতুন বছর। সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ ও সমৃদ্ধি। নববর্ষ  উপলক্ষে সকলকে জানাই প্রীতি ও শুভেচ্ছা। শুভ নববর্ষ।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ