খুলনা | শনিবার | ২১ জুলাই ২০১৮ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৫ |

নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য নিয়ন্ত্রনে কার্যকর উদ্যোগ নিন

০৯ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:১০:০০

নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য নিয়ন্ত্রনে কার্যকর উদ্যোগ নিন


নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধির কারণে থমকে গেছে খুলনার উন্নয়ন কর্মকান্ড। অনেক কাজ প্রায় বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নির্মান সামগ্রীর দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হলেও অসহায় হয়ে পড়েছেন ঠিকাদাররা। এর থেকে পরিত্রান পেতে সংবাদ সম্মেলন করেছে খুলনার ঠিকাদাররা। সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে নির্মাণ সামগ্রীর দাম কমানোর উদ্যোগ না নেওয়া হলে উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না বলে জানিয়েছে ঠিকাদাররা। বিষয়টি উদ্বেগজনক।
অসাধু সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে গত পাঁচ মাসের ব্যবধানে নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসেও বিভিন্ন গ্রেডের রডের বাজার মূল্য ছিলো ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা, যা বর্তমানে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। সিমেন্ট ছিলো ৩৩০ থেকে ৩৪৫ টাকা, বর্তমানে ৪৪০ থেকে ৪৭০ টাকা। প্রতি ঘনফুট পাথর ১২৫ টাকার পরিবর্তে এখন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। একইভাবে ইটের দাম প্রতি হাজারে আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা বেড়েছে। ফলে ২০১৪ সালের রেটে কাজ করতে গিয়ে ঠিকাদাররা হিমসিম খাচ্ছেন।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে খুলনা অঞ্চলে উন্নয়নের মহাযজ্ঞ শুরু হয়েছে। শুধুমাত্র গণপূর্ত বিভাগের অধিনে খুলনায় হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মধ্যে ২৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে জেলা কারাগার নির্মাণ, ৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪টি টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, ৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে জেলা পুলিশ লাইন নির্মাণ, ২২ কোটি টাকায় পাইকগাছায় টিটিসি নির্মাণ, ৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বিএসটিআইয়ের অফিস আধুনিকায়ন, শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র, আবু নাসের ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট রেট চার্টের ভিত্তিতে ঠিকাদাররা এসব কাজ বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু নির্মাণ সামগ্রীর দাম কোন কারণ ছাড়া এভাবে বৃদ্ধির ফলে ঠিকাদাররা অসহায় হয়ে পড়েছেন। প্রতিটি উপকরণের মূল্য ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে লোকসানের মুখে পড়েছেন ঠিকাদাররা। নির্মাণ সামগ্রীর দাম কমানোর উদ্যোগ না নেওয়া হলে উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় থাকবে না। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে এখনই অসাধু ব্যাবসায়ী সিন্ডিকেটের লাগাম টেনে ধরা জরুরী।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ