খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৬ এপ্রিল ২০১৮ | ১৩ বৈশাখ ১৪২৫ |

চাল কালোবাজারিদের কঠোর শাস্তি দিন

০৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০:০০

চাল কালোবাজারিদের কঠোর শাস্তি দিন

চালের মূল্য সাধারণের নাগালে নেই। যে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে সে দেশে চালের মূল্য সাধারণের নাগালে না থাকাটা শুধু দুঃখজনকই নয়, বিব্রতকর, অনভিপ্রেত। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্র“তিতে চালের দাম সহনীয় মূল্যে রাখার যে অঙ্গীকার ছিল চালের মূল্য লাগাম ছাড়িয়ে যাওয়ায় তা রক্ষা হয়নি। একদিকে দেশ উন্নয়নের মহাযাত্রায় শামিল হচ্ছে অন্যদিকে তিনবেলা ভাতের জোগান দিতে সীমিত আয়ের মানুষদের ত্রাহিদশা তৈরি হচ্ছে এমন চিত্র শোভনীয় নয়। তবে সরকার বারবার চেষ্টা করে যাচ্ছে যাতে নিম্নমধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্তরা যাতে স্বল্পমূল্যে চাল কিনতে পারেন। সে লক্ষ্যে দেশব্যাপী দরিদ্রদের মধ্যে দশ কেজি দরে চাল বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু দেখা গেছে, একশ্রেণির অসৎ ব্যবসায়ী সরকারের এই আন্তরিক উদ্যোগও বাস্তবায়ন করতে দিচ্ছে না। গরিবের মধ্যে বিতরণের এই চালও তারা আত্মসাৎ করে পরবর্তীতে উচ্চমূল্যে বাজারে বিক্রি করে আর্থিকভাবে তারা লাভবান হতে চাইছে। ফলে সরকারে এর আগে দশ টাকা কেজি চাল বিক্রি স্থগিত করে দিতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু আবারো তা শুরু করেছে এবং যথারীতি একই চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যে বা যারা এই চাল গুদামজাত করেছেন তাদের কেউ ব্যবসায়ী, কেউ জনপ্রতিনিধি। এটি যে কত বড় লজ্জার সংশি¬ষ্টরা তা হয়তো উপলব্ধি করতেও পারছেন না। পারলে গরিবের চাল আত্মসাৎ করার মতো এ ধরনের কর্মকাণ্ড তারা করতেন না।
গত কয়েক মাসে চালের মূল্য আকাশ ছুঁয়েছে। নিম্নবিত্ত তো বটেই অনেক উচ্চবিত্তের জন্যও এটি অসহনীয় ছিল। কারো আয়ের যদি সিংহভাগই চাল ও অন্যান্য পণ্যের পেছনে ব্যয় হয়ে যায় তবে বাকি চাহিদাপূরণ তার জন্য কষ্টকর হয়ে ওঠাটাই স্বাভাবিক। যারা চাল গুদামজাত করে বাজার অস্থির করে তুলতে চেয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বা দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে নতুন করে একই ধরনের অপরাধ করতে অন্যরাও সাহস পাচ্ছে । 
গরিবের চাল নিয়ে যারা কারসাজি করে তারা শুধু সরকারকেই বিব্রত করার পাঁয়তারা করছে না, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকারও ক্ষুন্ন করছে। এরা প্রকৃত অর্থেই অপরাধী। দশ টাকা কেজি মূল্যের সরকারি চাল যার বা যাদের গুদাম থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তাদের প্রত্যেককে আইনের মুখোমুখি করা জরুরি। কারণ এরা সরকারের ভাবমূর্তি ধ্বংস করে সরকারকে কঠিন জবাবদিহিতার কবলে ঠেলে দিচ্ছে। অন্যদিকে নিজেরা লাভবান হওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত হলেই আগামীতে আর কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সাহস পাবে না বলে মনে করি।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ









বিদায় ১৪২৪ স্বাগত ১৪২৫

বিদায় ১৪২৪ স্বাগত ১৪২৫

১৪ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:৫৬





ব্রেকিং নিউজ