খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৬ এপ্রিল ২০১৮ | ১৩ বৈশাখ ১৪২৫ |

পানি সংকট সমাধানে উদ্যোগ নিন

০৫ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:১০:০০

পানি সংকট সমাধানে উদ্যোগ নিন


গ্রীষ্মকাল না আসতেই দেশজুড়ে তীব্র পানির সংকট শুরু হয়েছে। সামনে তাপের তীব্রতার সাথে বাড়বে পানির চাহিদাও। সে সময় যদি পানির সংকট একই রকম রয়ে যায় তবে স্বাভাবিক জীবন যাপন করা কঠিন হয়ে পড়বে। ইতোমধ্যে মহানগরী ঢাকা, খুলনা, ডুমুরিয়া উপজেলাসহ সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দিন দিন ভয়াবহ হচ্ছে। আস্তে আস্তে প্রায় সব গভীর নলকূপগুলো অকেজো হয়ে পড়ছে। সেই সাথে পুকুরের পানিও ফুরিয়ে আসছে। পানি সংকট মোকাবেলায় গ্রামাঞ্চলে জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এখনো নেয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা। ফলে এসব এলাকার মানুষের দুশ্চিন্তা ক্রমন্বয় বেড়েই চলেছে।   
দৈনন্দিন রান্না, ধোয়ামোছা, অজু-গোসলসহ এমন কোনো কাজ নেই যেখানে পানির প্রয়োজন নেই। অজু-গোসল ঠিকমতো করা সম্ভব না হলে নানা ধরনের রোগ-ব্যাধিরও আক্রমণ ঘটবে। খুলনা শহরের মহল্ল¬ায় মহল্ল¬ায় চলছে পানির জন্য হাহাকার। পানির সংকট নতুন কোনো বিষয় না হলেও গরমের শুরুতেই এমন সংকট ভাবিয়ে তুলেছে নাগরিকদের। পানি সংকটে রান্না ও বাসাবাড়ির কাজ করতে পারছেন না শহরের মানুষ। এ ছাড়া খাবার পানির সংকটে পড়ছেন প্রায় এলাকার মানুষ। বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি আনতে গিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নারীদের।
চলতি খরা মৌসুমে ডুমুরিয়ার শোভনা ইউনিয়নের বাগআঁচড়া, বাদুরগাছা ও জিলেয়তলা গ্রামের দেড় শতাধিক গভীর ও অগভীর নলকূপে ভয়াবহ পানি সংকট দেখা দিয়েছে। প্রায় দুই মাস যাবত এ সমস্যায় চরম বিপাকে পড়েছে তিন গ্রামের প্রায় ৫ হাজার মানুষ। অধিকাংশ বাড়িতে এক কলসী পানি নেই। গ্রামে ২/৩টি গভীর নলকূপে যা একটু আধটু পানি উঠছে তাতে এক কলসী পানি ভরতে আধা ঘন্টার বেশি সময় লাগছে। সকালে-বিকালে এবং রাতে বিশেষ করে যখন ডিপ বোরিং হতে বোরো ধানে পানি দেওয়া হচ্ছে তখন টিউবওয়েলগুলোতে একটুও পানি ওঠে না। ওই সময় টিউবওয়েল চাপলে প্রচন্ড প্রেসার পড়ে। এই নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্র-পত্রিকায় একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হলেও টনক নড়ছে না সংশ্লিষ্ট দপ্তরের। বিশুদ্ধ পানির অভাবে অনেকে খাল-বিলের পানি দিয়ে ধোয়াপালা করছেন, ভাত রান্নাও করছে। এতে অনেক পরিবারে বিশেষ করে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েও কোন কোন ফল মিলছে না। অচীরেই সাবমার্সিবল পাম্পযুক্ত ডিপ বোরিং গুলো বন্ধ না হলে আগামীতে খাওয়ার পানির সংকট আরো তীব্র আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।  
আমাদের অভিমত পানির সংকট দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। পানির চাহিদা পূরণে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। বিশেষ করে এই মুহূর্তে ডুমুরিয়াসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে পানির চাহিদা তীব্রতর সেখানে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন করা জরুরী। কারণ প্রতিনিয়ত দেশের জনসংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে পানির চাহিদাও।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ









বিদায় ১৪২৪ স্বাগত ১৪২৫

বিদায় ১৪২৪ স্বাগত ১৪২৫

১৪ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:৫৬





ব্রেকিং নিউজ