খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৬ এপ্রিল ২০১৮ | ১৩ বৈশাখ ১৪২৫ |

অপুষ্টি মোকাবিলায় আরো জোর দিতে হবে

০৪ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:৪৬:০০

অপুষ্টি মোকাবিলায় আরো জোর দিতে হবে


খাওয়ার জন্য কেউ বেঁচে থাকে না, বেঁচে থাকতে হলে খাদ্য গ্রহণ করতেই হয়। আবার শুধু খাবার খেলেই হয় না, শরীরের চাহিদা অনুযায়ী সুষম খাদ্য শরীরে প্রবেশ না করলে সুস্থ জীবনযাপন করা সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে খাদ্য নিরাপত্তায় সরকারের গৃহীত নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন হচ্ছে ঠিকই কিন্তু সব মানুষের জন্য দৈনিক ২ হাজার ১২২ কিলো ক্যালরি খাদ্যগ্রহণ এখনো নিশ্চিত হয়নি বা হচ্ছে না। অন্যদিকে তুলনামূলকভাবে নারী ও কন্যা শিশুর খাদ্য পরিস্থিতি আরো নাজুক। ‘নারী ও কন্যা শিশুদের খাদ্য পরিস্থিতি এবং খাদ্য অধিকার’ শীর্ষক এক জাতীয় সেমিনারে বক্তারা বাংলাদেশে এখনো প্রায় আড়াই কোটি মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে এবং গত ১০ বছরে অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভোগা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ৭ লাখ এমন তথ্যও উপস্থাপন করেন। বর্তমান বিশ্বে একটি দেশের এত বিপুল সংখ্যক মানুষের অপুষ্টিতে আক্রান্ত থাকা এবং দিন দিন তা আরো বৃদ্ধি পাওয়া কোনো সুখকর খবর নয়।
স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল্য-এই আপ্ত বাক্যটির মূল বক্তব্যই হচ্ছে সুস্বাস্থ্যের কোনো বিকল্প নেই। সেই সুস্বাস্থ্য রক্ষা করতে হলে সুষম খাদ্য, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশ-পরিস্থিতির স্বাভাবিকতার বিকল্প নেই। তবে যে কোনোভাবেই সুষম খাদ্যই প্রথম এবং প্রধান শর্ত। তবে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে খাদ্যের সুষম বণ্টনও নিশ্চিত হওয়া জরুরী। বাংলাদেশের মানুষ এখন না খেয়ে থাকছে না বটে তবে উদরপূর্তি করা আর স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যগ্রহণ করা এক কথা নয়। এর সঙ্গে বাজার অর্থনীতির সম্পর্কও জড়িত। কারণ সমাজের সবার পক্ষে উচ্চমূল্যে নিত্যপণ্য ক্রয় করা সম্ভব নয়। চাল, ডাল, মাছ, মাংস, সবজির বাজার চড়া থাকলে স্বল্প ও নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে এসব পণ্যের সমন্বয়ে সুষম খাদ্য গ্রহণ করা কষ্টসাধ্যও বটে। খাদ্য অপচয় রোধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও উন্নয়নের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে পারলে নারী ও শিশুসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা অনেকটাই নিশ্চিত হতে পারে। আবার নারী ও কন্যা শিশুদের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবারের অভ্যন্তরেই আচরণগত ও মানসিক পরিবর্তন অপরিহার্য। পাশাপাশি সমাজের ভূমিকাও থাকতে হবে। তবে সামাজিক প্রক্রিয়ার বিষয়গুলো শুধু আইন দিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন নির্দিষ্ট সময় এবং সচেতনতা।
বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি দেশ। এই অর্জন তখনই সার্থক হবে যখন প্রতিটি নাগরিক তার দৈনন্দিন পুষ্টি চাহিদা পূরণে প্রয়োজনীয় খাদ্য গ্রহণে সক্ষম হবেন। আর সেটি সম্ভব হতে পারে নিত্যপণ্যের সহনীয় মূল্য, পারিবারিক আচরণ, খাদ্যের সুষম বণ্টন এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে। সরকার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও এই বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে এবং সংশি¬ষ্টদের খাদ্য নিরাপত্তায় আরো আন্তরিকতার সঙ্গে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে বলে আমরা মনে করি।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ









বিদায় ১৪২৪ স্বাগত ১৪২৫

বিদায় ১৪২৪ স্বাগত ১৪২৫

১৪ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:৫৬





ব্রেকিং নিউজ