খুলনা | শুক্রবার | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫ |

শব্দদূষণ রোধে আইনের প্রয়োগ জরুরী

৩০ মার্চ, ২০১৮ ০০:১০:০০

শব্দদূষণ রোধে আইনের প্রয়োগ জরুরী

দেশের আনাচে-কানাচে এখন শব্দদূষণ আশঙ্কাজনক পর্যায়ে। দিনরাতের বেশিরভাগ সময়ই উচ্চস্বরে মাইক বাজিয়ে বিভিন্ন পণ্যের পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকান্ডের কথাও ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে। এমনকি ভালো মাংস-মাছ আর কম দামে বয়লার মুরগির প্রচারণাও থেমে নেই। বিয়ের নামে উচ্চশব্দে মাইকের পাশাপাশি চলে বিকট আওয়াজের পটকার মহড়া। গগনবিদারী এইসব শব্দ স্কুল-কলেজ এমনকি হাসপাতাল এলাকাতেও অবাধে চলছে। যেসব এলাকায় বাসের ভেঁপু বাজানো নিষেধ সেসব এলাকায় এ ধরনের উচ্চশব্দে ড্রামসেট, গানবাজনা ও পটকার মহড়া অবাধে চলছে। এছাড়াও বিভিন্ন যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্ন অবাধে বাজানোর ফলে আশঙ্কাজনক হারে শব্দদূষণ বাড়ছে। সহনীয় পর্যায়ের শব্দ যা মানব শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়, এক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না। এমনকি উচ্চশব্দে মাইক, ড্রামসেট, হর্ন ও পটকা ফোটানোর কারণে মানুষের স্বাস্থ্যের বিরূপতা দিন দিন বাড়ছে। এসব নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আইন থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। আবার যাদের ওপর এসব দেখভালের দায়িত্ব তারাও নাকে কাঠি দিয়ে হাঁচছেন না। আইনে স্পষ্ট বলা হয়েছে কোনো অবস্থাতেই গাড়িতে হাইড্রোলিক হর্ন বাজানো যাবে না। আবার হাসপাতাল ও স্কুলসহ স্পর্শকাতর এলাকায়ও মাইক বাজিয়ে কোনো প্রচার-প্রচারণা করা যাবে না। ভাবখানা এমনÑ কাজির গরু কেতাবেই আছে গোয়ালে নেই। কে শোনে কার কথা? রাতভর হর্ন বাজছে স্কুল, হাসপাতাল ও স্পর্শকাতর এলাকা বাছবিচার না করেই। কাকভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এসব অবাধে চলছে। বলা যেতে পারেÑ এমনই দৌরাত্ম্য চলছে দেশের সব গ্রাম-শহর-বন্দরে। 
হাইড্রোলিক হর্ন না বাজানোর বিষয়ে আইন রয়েছে। বিদ্যমান আইনের তোয়াক্কা না করে যাত্রী নিয়ে তীব্র গতিতে (ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিমি) হর্ন দিতে দিতে ছুটে চলে পরিবহণগুলো। যা একাধিক্রমে গভীর রাত অবধি চলে। রাস্তার পাশে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল, হাসপাতাল এসবের তোয়াক্কা নেই। পাল্লা দিয়ে বাড়ে হর্নের আওয়াজ। যার বিকট শব্দে বিদ্ধ হন বৃদ্ধ-শিশু-কিশোরের দল। শব্দের তীব্রতা ৭০ ডেসিবলের নিচে রাখার নিয়ম থাকলেও গাড়ির হর্নের শব্দের তীব্রতা সর্বনিম্ন ১০৪ ডেসিবল থেকে সর্বোচ্চ ১১২ ডেসিবল। শব্দদূষণের জন্য ৭০ ভাগ দায়ী গাড়ির হর্ন। এতে তাৎক্ষণিক মৃত্যু নেই ঠিকই, কিন্তু এর দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। এর ফলে মানুষের মধ্যে বিরক্তি উৎপাদন করে। তাছাড়াও এর থেকে হতে পারে উচ্চ-রক্তচাপ, ডিপ্রেশন, স্ট্রেস, শ্রবণশক্তি ও স্মৃতিশক্তি হ্রাস, ঘুমবিঘœতার মতো রোগবালাই। এসব ক্ষতিকর বিষয়গুলো শব্দদূষণের সাথে জড়িত। এতকিছুর পরও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া দুর্ভাগ্যজনক। আমরা জনস্বার্থে এবং জনস্বাস্থ্যের দিকে লক্ষ্য রেখে অবিলম্বে শব্দদূষণের মতো জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বিষয়সমূহ বন্ধের দাবি জানাই।  
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


শিশু মৃত্যুর হার রোধে সচেতনতা জরুরী

শিশু মৃত্যুর হার রোধে সচেতনতা জরুরী

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:১০

বিচার প্রক্রিয়ায় গতি আনুন

বিচার প্রক্রিয়ায় গতি আনুন

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:১০

শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করুন

শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করুন

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:১৩

টাইগারদের অভিনন্দন

টাইগারদের অভিনন্দন

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০৫


পশুর উচ্ছিষ্ট কাজে লাগান

পশুর উচ্ছিষ্ট কাজে লাগান

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:১০

মাদক কারবারীরা কি অপ্রতিরোধ্য?

মাদক কারবারীরা কি অপ্রতিরোধ্য?

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:১০

শিশুশ্রম বন্ধে দারিদ্র দূর করতে হবে

শিশুশ্রম বন্ধে দারিদ্র দূর করতে হবে

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:১০



সড়কে সংস্কার কাজ নিশ্চিত করুন

সড়কে সংস্কার কাজ নিশ্চিত করুন

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:১০


ব্রেকিং নিউজ




আজ ১০ মহররম পবিত্র আশুরা 

আজ ১০ মহররম পবিত্র আশুরা 

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:৫৮

কেসিসিতে আজ ও কাল সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল

কেসিসিতে আজ ও কাল সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:৫৭





খুলনায় সেঞ্চুরিতে নজর কাড়লেন সোহান

খুলনায় সেঞ্চুরিতে নজর কাড়লেন সোহান

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:৫০


অভিষেকেই আবু হায়দার রনির চমক

অভিষেকেই আবু হায়দার রনির চমক

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:৪৫