খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৬ এপ্রিল ২০১৮ | ১৩ বৈশাখ ১৪২৫ |

যক্ষ্মা রোগী বাড়ছে!

২৮ মার্চ, ২০১৮ ০০:৩৯:০০

যক্ষ্মা রোগী বাড়ছে!


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল টিবি রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, প্রতি লাখে ২১৬ জন। তবে এর মধ্যে ওষুধ প্রতিরোধী রোগীর সংখ্যাই বেশি। অথচ বিনামূল্যে পাওয়া যায় যক্ষ্মার চিকিৎসা ও ওষুধপত্র। এর পরও রোগীর সংখ্যা কেন বাড়ছে তা তলিয়ে দেখতে হবে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, কর্মী ও এনজিওদের। 
যক্ষ্মা একটি সংক্রামক রোগ। নিয়মিত চিকিৎসা না করালে এবং যক্ষ্মা প্রতিরোধী টিকা না দিলে তা সংক্রমিত হতে পারে অন্য দেহে। তাই পরিবারে কারও যক্ষ্মা হলে এ রোগ সংক্রমিত হতে পারে অন্য সদস্যদের মধ্যে। তবে দ্রুত ও কার্যকর উপায়ে যক্ষ্মা রোগী শনাক্তের সরকারী কেন্দ্রের সংখ্যাও বাড়ছে। জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচীর মাধ্যমে সারাদেশে প্রায় বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে যক্ষ্মা রোগীর চিকিৎসা। প্রাথমিক অবস্থায় যক্ষ্মা শনাক্ত হলে স্বল্পমেয়াদী চিকিৎসায়ই রোগী ভাল হয়ে যায়। তবে ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মা রোগীর চিকিৎসা নিতে হয় দীর্ঘমেয়াদী, অনধিক নয় মাস। পূর্ণ মেয়াদের মাল্টিপল ড্রাগ থেরাপিতে (এমডিটি) যক্ষ্মা রোগী সম্পূর্ণ আরোগ্য হয়। অনেক যক্ষ্মা রোগী দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ খেতে অনীহা প্রকাশ করেন। দরিদ্র ও ধূমপায়ীর সংখ্যাও এর একটি কারণ হতে পারে। তবু এখন পর্যন্ত শিশুদের যক্ষ্মা শনাক্তকরণে জটিলতা, নগরে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণের সমস্যা ও এইচআইভি যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।সে অবস্থায় দেশব্যাপী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে কাজে লাগানো যেতে পারে। পাশাপাশি গণমাধ্যমের সাহায্যে সর্বস্তরে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলাও প্রত্যাশিত।
যক্ষ্মা নির্মূলে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দারিদ্র্য, চিকিৎসা উপকরণের অভাব, বিভিন্ন রোগের প্রকৃতির পরিবর্তন ইত্যাদিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। নারী ও শিশুর অপুষ্টির কথাও বলা হয়েছে। তদুপরি নগরায়নসহ জনসংখ্যা বৃদ্ধি। মোট দেশজ আয়ের তুলনায় (জিডিপি) পর্যাপ্ত রাজস্ব আহরণ না হওয়ায় সরকারের একার পক্ষে চাহিদা পূরণ করাও কঠিন। ফলে অনেকেই সরকারের সরবরাহের বাইরে স্বাস্থ্যসেবা নিতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে অনেক দরিদ্র মানুষ আরও গরিব হচ্ছে। তবে কমিউনিট ক্লিনিকের স্বাস্থ্যসেবা আরও সম্প্রসারণসহ প্রত্যন্ত এলাকায় ছড়িয়ে দেয়া গেলে অচিরেই এর সুফল পাবে সাধারণ মানুষ। অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত ও গতিশীল রাখতে হলে কমিউনিটি ক্লিনিকসহ স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হবে তৃণমূল পর্যায়ে। সে অবস্থায় যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যাও কমে আসবে ক্রমশ।


 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ









বিদায় ১৪২৪ স্বাগত ১৪২৫

বিদায় ১৪২৪ স্বাগত ১৪২৫

১৪ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:৫৬





ব্রেকিং নিউজ